পর্যটন পার্ক করতে চায় সিঙ্গাপুরের কোম্পানি

কক্সবাজারের টেকনাফে আন্তর্জাতিক মানের একটি পর্যটন পার্ক নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি ইন্টার এশিয়া গ্রুপ। টেকনাফের সাবরাংয়ে এ পার্ক গড়ে তুলতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা (১৫০ কোটি ডলার) বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে এ কোম্পানি। এ পার্কে ক্যাসিনো, গলফ ক্লাব, আন্ডার ওয়াটার অ্যাকুরিয়াম, নাইট সাফারি, সাংস্কৃতিক জাদুঘর ও কেবল কারসহ সব ধরনের বিনোদন ব্যবস্থা করা হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সিকদার গ্রুপের মাধ্যমে এ বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে ইন্টার এশিয়া গ্রুপ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যৌথভাবে পার্কের উন্নয়ন করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে সিঙ্গাপুরের কোম্পানির প্রতিনিধিরা সাবরাং পার্ক কয়েক দফা পরিদর্শন করেছেন। পর্যটন পার্ক করার জন্য এক হাজার একর জমি চেয়েছেন তারা।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী সমকালকে বলেন, টেকনাফের সাবরাংয়ে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা অনুযায়ী এরই মধ্যে বেজা জমি অধিগ্রহণ করেছে। উন্নয়ন কাজের জন্য আগামী ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। তিনি বলেন, তাদের ইতিমধ্যে এ পার্কের অবস্থান দেখে উন্নয়নের জন্য ইন্টার এশিয়া গ্রুপ বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে হবে। দরপত্র অনুযায়ী সেরা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে।

পবন চৌধুরী বলেন, পর্যটন পার্কের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার দোহওয়া ইঞ্জিনিয়ারিংকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরাংয়ের পাশাপাশি টেকনাফের নাফ নদীর জালিয়ার

দ্বীপে আরেকটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে কাজ করছে বেজা।

ইন্টার এশিয়া গ্রুপের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পার্ক করার জন্য প্রায় ১ হাজার একর জমির প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ৭০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে অ্যাকোয়া সিটি। সেখানে ১৭টি আবাসিক ভবনে ৪ হাজার ১৪৮টি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ৪ লাখ ৮৪ হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করা হবে।

সাবরাংয়ের পর্যটন কেন্দ্রে সাতটি বিশ্বখ্যাত হোটেল ব্র্যান্ডকে নিয়ে আসবে তারা। এর মধ্যে থাকবে ব্যানিয়ান ট্রি, র‌্যাডিসন, শেরাটন, হিলটন, প্যানপ্যাসিফিক, মুভেনপিক ও রিজেন্ট। এছাড়া সমুদ্র তীর ঘেঁষে একটি রিসোর্ট তৈরির কথাও প্রস্তাব রয়েছে। তাছাড়া সুন্দরবন থিম পার্ক নাইট সাফারি, আন্ডার ওয়াটার অ্যাকুরিয়াম, বেঙ্গল গ্গ্নোরি নামের জাদুঘর ও হেরিটেজ কমপ্লেক্স, ইউনিভার্সাল স্টুডিও, ডিজনি ল্যান্ড, গোল্ডেন স্যান্ড ক্যাসিনো, রয়্যাল সাবরাং ম্যারিনা, সাবরাং গলফ ক্লাব, তিনটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ও ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।

ইন্টার এশিয়া গ্রুপ বলেছে, টেকনাফকে আঞ্চলিক পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে আধুনিক বিনোদনের সব সুবিধা থাকবে। এর ফলে ভারত, চীন, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য এশীয় দেশসহ বিশ্বের নানা দেশের পর্যটকরা আসবেন।

ইন্টার এশিয়া গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার কথা রয়েছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সিকদার গ্রুপের। সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সাবরাং পর্যটন পার্কের উন্নয়ন কাজ করতে ইন্টার এশিয়া গ্রুপ বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সিকদার গ্রুপ কাজ করবে। এ গ্রুপের প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে কাজ শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। প্রস্তাব অনুযায়ী উন্নয়নের সুযোগ পেলে দেশের সবচেয়ে আধুনিক আন্তর্জাতিক পর্যটন পার্ক তৈরি হবে।