পাটশিল্প রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ

আশার বিষয় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ শ্রমিক নেতারা মেনে নিয়েছেন, ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে, শ্রমিকরা কাজে ফিরে গেছে। আমরাও আশা করি পাটশিল্প অতীত গৌরব ফিরে পাবে এবং কলকারখানায় প্রাণচাঞ্চল্য সব সময় থাকবে। ডা. এসএ মালেক:রাজনীতিক ও কলাম লেখক

সম্প্রতি খুলনার জাতীয়করণকৃত জুট মিলগুলোর শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য ন্যায্য পাওনার দাবি জানিয়ে ধর্মঘট পালন করেছেন। ভাতের থালা হাতে ভিক্ষুকের বেশে তাদের রাজপথে দেখা যায়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এরূপ ধর্মঘট চলার পর যখন কাউকে এ বিষয়ে বিশেষ কিছু বলতে শোনা গেল না, তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা তার স্বভাবসুলভ আচরণ করলেন। সরকারপ্রধান ও প্রধান শাসক হিসেবে উদ্ভূত পাটশ্রমিক সংকট মোকাবেলায় তার বক্তব্য অবশ্যই প্রণিধানযোগ্য। তবে তার চেয়ে বড় কথা মানবতাবাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অন্তরের অন্তস্থল থেকে যে সমবেদনা ও সহানুভূতির ঘোষণা দিলেন তা প্রত্যেক শ্রমিকের হৃদয় স্পর্শ করবে বলে মনে হয়। সরকারপ্রধান হিসেবে ব্যয় সংকোচনের নীতি তাকে অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। ওই নীতির প্রতি সচেতন থেকেই তিনি বলেছেন পহেলা বৈশাখে যখন গোটা জাতি আনন্দমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করবে তখন হাতে ভাতের থালা নিয়ে শ্রমিকরা রাজপথে আন্দোলন করবে তা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আজ পর্যন্ত এমন ঘটনা একটাও ঘটেনি যেখানে শ্রমিক মালিক অথবা শ্রমিক সরকার জড়িত অসন্তোষে শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান হয়েও মালিক বা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত স্বরে কথা বলেছেন। সব সময় তাকে শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলতে শোনা গেছে। শ্রমিকদের দাবি গ্রহণে মালিকপক্ষ যখন কঠোর অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী তখন তা স্তিমিত করে শ্রমিকদের স্বার্থ যতটুকু আদায় করা যায় তার জন্য তৎপর হয়েছেন বা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন ও মালিকদের এ ব্যাপারে অনুরোধ করেছেন এবং তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে।
একসময় আমি যখন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলাম তখনো পাটশিল্পের নানারকম সংকট ছিল। বিশেষ করে আদমজী পাটকল বেসরকারি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বার বার একটি মহল উদ্যোগ নিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, আদমজী জুট মিল চালু থাকলে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয় ৩-৪ কোটি টাকা মাসে। আর বন্ধ থাকলে ক্ষতি হয় মাসে ১ কোটি টাকা। ওই সময়ে একমাত্র বিজেএমসি ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সবাই ঐকমত্য হয়ে সেদিনের অর্থমন্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বিজেএমসিকে যেন কোনো অর্থ বরাদ্দ না করা হয়। পাট কেনা, শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ এতে কমপক্ষে বছরে ৫০০ কোটি টাকার প্রয়োজন পড়ে। প্রত্যেক বছরই নতুন পাট উঠলে পাট কেনার সংকট দেখা দিত এবং প্রতিবারই বিষয়টি তৎকালীন পাট প্রতিমন্ত্রী ফায়জুল হক প্রথমে আমার দৃষ্টিতে আনতেন এবং আমি বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে এনে প্রতি বছর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে সংকট দূর করতাম। এভাবে ৪ বছরে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। শুধু আদমজী নয়, পাটশিল্পকে এভাবে রক্ষা করা হয়েছে। পাট ও অর্থ মন্ত্রণালয় সেদিন যে পরামর্শ দিয়েছিল তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অগ্রাহ্য করেছিলেন। আমি নিশ্চিত ২০০১ সালে যদি শেখ হাসিনা আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারতেন, তবে আদমজীর এত করুণ পরিণতি হতো না। শুধু পাটশিল্প নয়, গরিব-দুঃখী মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি শ্রেণি যখনই বিপন্ন হয়েছে, দেশরত্ন শেখ হাসিনা তখনই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তার ভূমিকা বিরোধীদলীয় নেতার মতো মনে হয়েছে। সরকারপ্রধান হয়েও আমলাদের মতামত অগ্রাহ্য করে সাধারণ মানুষ, শ্রমিক-কৃষকদের পক্ষাবলম্বন করেছেন।

মনে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা একই ব্যক্তি নন। অনেকেই ক্ষমতায় যাওয়ার আগে জনগণের সমর্থন পাওয়ার জন্য অনেক রকম প্রতিশ্রুতি দেন। ভোট আকর্ষণের কূটনীতি অবলম্বন করেন। নির্বাচনোত্তর সরকার পরিচালনার পদ্ধতির ওপর কোনো সামঞ্জস্যতা খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু আজ পর্যন্ত শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে তিনবার তিনি ক্ষমতায় থাকায় নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনোত্তর ক্ষমতাসীন হওয়ার পর অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে দেখা গেছে।
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য, সে পথেই তিনি অগ্রসর হয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি প্রমাণ করলেন তিনি শোষিতের পক্ষে। তার সেই ঐতিহাসিক বক্তব্য_ বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আমি শোষিতের পক্ষে’। দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ছিল তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ। বঙ্গবন্ধু তার সারা জীবনে এমন কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন কিনা সন্দেহ যেখানে শোষিত-বঞ্চিত মানুষের কথা বলা হয়নি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নাম পরিবর্তন করে কৃষক শ্রমিক লীগ রাখাটা হৃদয়ে প্রকৃত রাজনৈতিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকা-ের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত অবস্থায় ১৯৮১ সালে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি দলীয় প্রধান পদে নির্বাচিত হয়ে এক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশে ফেরেন। তিনিও তার পিতার মতো দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে পথচলা শুরু করেন। শেখ হাসিনা মোট ১৩ বছর ক্ষমতায় আছেন। এ ১৩ বছরে এমন কোনো বার্ষিক বাজেট নেই যেখানে শোষিত-বঞ্চিত, কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। এই তো মুক্তিযোদ্ধারা আজ ভাতা পেয়েছেন এবং তাদের ভাতা বর্ধিত করা হয়েছে। বোধহয় যতটুকু মনে পড়ে ১৯৯৯ সালে বাজেট বক্তব্য ছাপা হওয়ার পরও সম্মিলিত মুক্তিযুদ্ধের ফ্রন্টের প্রধান হিসেবে আমি যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাজেট চাই, তখন তৎকালীন অর্থমন্ত্রীকে ডেকে তিনি বলেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের বরাদ্দ বাজেটে থাকতে হবে এবং তা বাস্তবায়িত হয়েছিল। এসব পদক্ষেপের কথা তো আর বলে শেষ করা যাবে না। কত হাজার বাস্তুচ্যুত গ্রামের ও নদী ভাঙুলি মানুষকে ঢাকা শহর থেকে গ্রামে পুনর্বাসন করেছেন তা তো আজ কারো জানতে বাকি নেই। এখন একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে প্রতি মাসে যে ভাতা দেয়া হচ্ছে এবং যা ক্রমাগত বর্ধিত হচ্ছে তাতে একজন মুক্তিযোদ্ধারও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করা সমীচীন নয়।
প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়ে যেভাবে সাধারণ বঞ্চিত ঘরের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা ও যা অচিরেই বাস্তবায়িত হবে তা তো কোনো রূপকথার গল্প নয়, বাস্তব। আগে অবসর ভাতা ছাড়া কোনো ভাতা ছিল না। এখন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে দুস্থ ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামীপরিত্যক্তা ভাতাসহ নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। সমাজের যেখানেই দুস্থ মানবতা, সেখানেই শেখ হাসিনার ভাতা। সম্প্রতি শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দেশের সব প্রতিবন্ধীর দায়দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে সরকার গ্রহণ করবে। আজকে পোশাকশ্রমিকরা যাদের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ, তাদের বেতন যে নূ্যনতম মাসিক ৪ হাজার টাকার ওপরে করা হয়েছে, এর আগে এই বেতনের হার ছিল ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা মাত্র। লাখ লাখ টন চাল বিনামূল্যে হতদরিদ্রদের মধ্যে বিভিন্ন সময় বিতরণ করা হয়েছে। বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলেই সরকার যে দ্রুততার সঙ্গে সাহায্য নিয়ে অগ্রসর হয় তা অকল্পনীয়। এখন দুর্যোগ মোকাবেলায় সাহায্য সংস্থার বড় বড় ব্যানার নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লঙ্গরখানা খুলতে দেখা যায় না। উত্তরবঙ্গে আজ মঙ্গা নেই। রাস্তায় কোথাও এখন বস্ত্রহীন বা ছিন্ন মানুষ মেলে না। গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখি শুক্রবার কয়েক কেজি মুষ্টির চাল ফকিরদের দেয়ার সময় সেখানে ভিক্ষুক নেই। কোনো সাহায্য নেয়ার লোক নেই। প্রত্যেকেই কাজ করছে। একজন নারী শ্রমিক প্রতিদিন ১৫০, একজন কৃষিশ্রমিক প্রতিদিন ৩০০, রিকশা-ভ্যান চালক প্রতিদিন ৫০০-১০০০ টাকা উপার্জন করছেন। এক বেলা মাছ ধরে বিক্রি করলে কম হলেও ৫০০ টাকা উপার্জন হয়। তবে সব দুঃখী গরিব মানুষের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তা বলা যাবে না। কিন্তু দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকারের দৃষ্টি যে তাদের দিকেই আছে এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। একটা রাজনৈতিক বক্তব্যে যে স্থির ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার শ্রদ্ধেয় পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ শাসন করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে পুনর্গঠিত করে বাংলাদেশের সংকট সমাধান করে যেতে পারেননি। প্রতিবিপ্লবের শিকার হয়ে তাকে বিদায় নিতে হয়েছে। তাই পিতার অবর্তমানে তাকেই বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। তার মহান পিতার ভাষায় দুঃখী মানুষের মুখে হাসি, পেট ভরে বাংলার প্রতিটি মানুষকে আহার জোগানো। আহার শেষ, মুখে হাসি ফোটানোর কাজটি এখন বাকি। শেখ হাসিনা দ্রুত সে পথেই এগিয়ে চলেছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে যদি একটানা তিনি অর্থাৎ তিন টার্ম ১৫ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতে পারতেন আজ বাংলাদেশের চেহারা অন্যরকম হতো। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দেশ অনুন্নয়নের পথে চলে বিপরীত দিকে যে অগ্রযাত্রা শুরু করেছিল, তা প্রতিহত করে বর্তমান অর্জন সম্ভব করতে হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া গণতন্ত্রের কথা বলা বা উন্নয়নের কথাই বলি তা অর্জন সম্ভব নয়। কিছু স্থিতিশীলতা অর্জন হয়েছে বলেই বর্তমান সাফল্য এসেছে। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও দেশের কর্মঠ যুবশক্তির ওপর। তথ্যপ্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে যেভাবে অর্থনীতিকে ক্রমাগত অগ্রসরমান করা হচ্ছে, সেবা খাতে যেভাবে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, বেকারত্ব দূরীকরণে যে বাস্তব পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে, দারিদ্র্য বিমোচনে দেশ যেভাবে সফল হয়েছে, কৃষিতে স্বনির্ভরতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জনগণের দোরগোড়ায় পেঁৗছে দেয়া হয়েছে, যেভাবে সমাজের দুর্বল শ্রেণির মানুষকে ক্রমাগত টেনে তোলার চেষ্টা চলছে, যেভাবে উন্নয়নের পক্ষে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণ করা হচ্ছে, তাতে সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন শুধু বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিতই হবে না একই সঙ্গে ধনিকশ্রেণির অর্থনৈতিক বৈষম্য ভারসাম্য এনে প্রতিটি নাগরিকের জন্য জননিরাপত্তা বিধান করবে বলে মনে হয়। ১৫% লোকের হাতে সম্পদের করায়ত্ত থাকুক এটা বঙ্গবন্ধু পছন্দ করতেন না, শেখ হাসিনাও তা চান না। বর্তমান আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় কিভাবে দুর্বল শ্রেণিকে শক্তিশালী করা যায় সে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। এখনো শোষক শ্রেণি চেষ্টা করছে সম্পদের সম্পূর্ণ অংশ নিজেরাই ভোগ করতে। আজ শেখ হাসিনা চান সম্পদের সুসম বণ্টন ও শোষিত মানুষের সম্পদের ভোগের অধিকার সুনিশ্চিত করা। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের অবিকল অনুসরণ করা বাস্তবায়নযোগ্য না হলেও মূল নির্দেশনা থেকে শেখ হাসিনা একেবারে সরে দাঁড়াবেন এরূপ সন্দেহের অবকাশ নেই। মানবতাবাদী শেখ হাসিনার এটা যুক্তিহীন কোনো প্রশংসা নয়, যুক্তিবাদী বাস্তব পদক্ষেপ। যে লেখা দিয়ে শুরু করেছিলাম খুলনার জুট মিলের শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে।
আশার বিষয় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ শ্রমিক নেতারা মেনে নিয়েছেন, ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে, শ্রমিকরা কাজে ফিরে গেছে। আমরাও আশা করি পাটশিল্প অতীত গৌরব ফিরে পাবে এবং কলকারখানায় প্রাণচাঞ্চল্য সব সময় থাকবে।