বাংলাদেশে গার্লস ইন আইসিটি উদযাপন

অভিজ্ঞতা বিনিময়, সুযোগ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময়সহ নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ৩০ এপ্রিল শেষ হয়েছে ‘বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক গার্লস ইন আইসিটি ডে’। গত ২১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে গার্লস ইন আইসিটি কার্যক্রম শুরু হয় বলে জানান দেশের এই কার্যক্রমের সমন্বয়ক কানিজ ফাতেমা। ২১ এপ্রিল কেবল মেয়েদের জন্য একটি অনলাইন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আইসিটি ওপেন হাউস ডের আওতায় শতাধিক মেয়ে বোর্ডিং ভিস্তা, ইউওয়াই সিস্টেমস, ডিনেট, গ্রাফিক পিপল, ডিজিকন টেকনোলজিস, গ্রামীণফোন, ব্র্যাক আইটি সার্ভিসেস, মাইক্রোসফট ও স্যামসাং রিসার্স ইনস্টিটিউট পরিদর্শনের সুযোগ পায়। সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিদর্শনকারীদের মধ্যে তাসনিম দেওয়ান অরিন, ফারহানা শারমিন, মেসকাত জাহান ও নুজহাত আশরাফ তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ছাড়া ঢাকা, রংপুর ও দিনাজপুরে আয়োজন করা হয় সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং ঢাকায় ক্যারিয়ার ফেয়ারের আয়োজন করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় এসব আইসিটি প্রতিষ্ঠান সরেজমিন ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা বিনিময়, আইসিটি খাতে আইসিটি এবং আইসিটি ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের সুযোগ এবং সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময়, বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও অগ্রণী নারী আইসিটি নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিনিময় এবং কেবল মেয়েদের জন্য আয়োজিত অনলাইন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে ৩০ এপ্রিল শেষ হয় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক গার্লস ইন আইসিটি ডে কার্যক্রম।

ঢাকার এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি ডটকমের সহযোগিতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ক্যারিয়ার মেলার শেষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা মেয়েদের নিজ নিজ দক্ষতা প্রমাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের প্রথম নারী প্রোগ্রামার অ্যাডা লাভলেসের কথা তুলে ধরে মেয়েদের আইসিটিতে বিশেষভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ওম্যান ইন আইটির প্রেসিডেন্ট বেগম লুনা শামসুদ্দোহা মেয়েদের আইসিটির চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেন। নিজের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, চেষ্টা করলেই মেয়েরা নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারে। এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান কাইয়ুম রেজা চৌধুরী শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর জোর দেন এবং মেয়েদের শিক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও সরব হওয়ার জন্য বলেন। এ সময় গার্লস ইন আইসিটি উপলক্ষে আয়োজিত অনলাইন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার ১৫ বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়।

এর আগে দিনভর তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া অন্য শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ ও বৈশ্বিক এবং স্থানীয় বাজারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুযোগ, সম্ভাবনা এবং দক্ষতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন আমরা টেকনোলজিসের বিপণনপ্রধান সোলাইমান সুখন, উইনমিল ইনফোটেকের প্রধান নির্বাহী বুশরা আলম, গ্রামীণফোনের স্পেশালিস্ট কানিজ ফাতেমা, উইন ইন-করপোরেটরের প্রধান নির্বাহী কাশফিয়া আহমেদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিডিওএসএন সহ-সভাপতি লাফিফা, গ্রাফিক পিপলের মেধা ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ক মাহেনাজ চৌধুরী ও এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক বিলকিস জামান।

একই দিন সকালে রংপুরের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয় গার্লস ইন আইসিটি কার্যক্রমের রংপুর বিভাগীয় দ্বিতীয় আয়োজন। তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আইসিটির সুযোগ, সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার শেষে কুইজ প্রতিযোগিতা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ কো-অর্ডিনেটর নাহেদ ফরিদ এবং বিশেষ অতিথি সিনিয়র সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) আবুল খায়ের। এ ছাড়া সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সহকারী সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. তানভীর সিদ্দিকী, মূল সেমিনার পরিচালনা করেন র‌্যানডম ডটসের প্রধান নির্বাহী রায়হান ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন র‌্যানডম ডটসের নির্বাহী আশরাফুল ইসলাম। বাংলাদেশ ওম্যান ইন আইটি এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক আয়োজিত গার্লস ইন আইটি কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষক ছিল অনলাইন জব পোর্টাল চাকরি ডটকম, টেক শহর ডটকম, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক। এতে সহযোগিতা করেছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারনেট সোসাইটি অব বাংলাদেশ, ফ্রিল্যান্স আইটি একাডেমি, দিনাজপুর আইটি একাডেমি ও রংপুর রেন্ডম ডটস।