বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ও বাংলাদেশের অগ্রগতি

২০ এপ্রিল (২০১৬) বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এবার দুই ধাপ এগিয়ে ১৪৪তম হয়েছে’ শিরোনামে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০১৫ ও ২০১৪ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৬তম। এই সূচক তৈরি করেছে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস। ১৮০টি দেশের গণমাধ্যম পর্যালোচনা করে এই সূচক করা হয়। এবার বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কমার বিষয়টি লক্ষ করা গেছে বলে দাবি করেছে ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠনটি। এই সংবাদ প্রকাশের দু’সপ্তাহের মধ্যে এসেছে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উদযাপনের দিন। বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সাল থেকে ‘৩ মে’ পালিত হয়ে আসছে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’। ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহকে অনুষ্ঠিত ‘ডিকারেশন অন প্রমোটিং ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যান্ড প্লুরালিস্টিক মিডিয়া’ শীর্ষক সেমিনারের ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে এ দিবসটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মূল লক্ষ ছিল, বিশ্বব্যাপী স্বাধীন, অবাধ ও বহুমাত্রিক শক্তিশালী গণমাধ্যম ও তথ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রের অগ্রগতি ও সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করা।

এবারে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে’ বাংলাদেশের সার্বিক স্কোর ৪৫ দশমিক ৯৪, যা গত বছর ছিল ৪২ দশমিক ৯৫। ১৮০টি দেশের মধ্যে সূচকে সবচেয়ে নিচের দিকের দেশ ইরিত্রিয়া। এর ঠিক উপরেই রয়েছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার ওপরে রয়েছে চিন ও সিরিয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নেপাল ১০৫, ভারত ১৩৩, থাইল্যান্ড ১৩৬, ফিলিপাইন ১৩৮, শ্রীলঙ্কা ১৪১, মিয়ানমার ১৪৩, আফগানিস্তান ১২০, মালয়েশিয়া ১৪৬ ও পাকিস্তান ১৪৭তম অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৪১তম, যা গত বছরে ছিল ৪৯তম। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল ২০তম। ভারত এবার ১৩৩তম, ২০১৫ সালে তারা ছিল ১৩৬তম। সবার ওপরে রয়েছে ফিনল্যান্ড। সূচকে টানা ছয় বছর ধরেই প্রথম স্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড। পরের অবস্থানে নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক ও নিউজিল্যান্ড। সূচকে ফ্রান্স গত বছরের চেয়ে সাত ধাপ পিছিয়ে ৪৫তম, জাপান ১১ ধাপ পিছিয়ে ৭২তম, অস্ট্রেলিয়া ২৫তম অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো হলেও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী সরকার ও ব্যবসায়ীদের চাপে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও বেশি খর্ব হয়েছে। এছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করে অপপ্রচারের একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। করপোরেট সুবিধার কথা ভেবেও গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করা শুরু করেছে। অর্থাৎ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের এ সময়েও দেখা যায় বিশ্বের প্রায় ৭৭টি দেশে এখনো স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেশেও কায়েমি স্বার্থবাদী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দুর্নীতি, সন্ত্রাসী কর্মকা- ও অপকর্মের খবর পরিবেশন করার জন্য অনেক সাংবাদিক প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হন। বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট, জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশনের (বিসিডিজেসি) এক জরিপে দেখা যায়, বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে দেশে দুই শতাধিক সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত ও নিগৃহীত হয়েছেন ২৮৫ জন সাংবাদিক। কেবল ২০০১-এর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৮টি ঘটনায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪৯ জন সাংবাদিক। চরম নির্যাতনের শিকার হয়েও অনেক সাংবাদিকের প্রচলিত আইনের আওতায় দীর্ঘমেয়াদি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো সময় ও অর্থ নেই। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার গণমানুষের তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বহুল প্রত্যাশিত ‘তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ’কে আইনে পরিণত করে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। উপরন্তু সাংবাদিক সমাজের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য এই সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আসলে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আরও ভালো হবে যদি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

গণমাধ্যমই সর্বপ্রথম শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। এ দেশের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে দ্রুত বিচারের সক্ষমতা এবং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর সিলেটে শিশু রাজন ও খুলনায় শিশু রাকিবকে পৈশাচিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে। রাজন হত্যার চার মাস এবং রাকিব হত্যার তিন মাস পাঁচ দিনের মাথায় ছয় আসামিকে ফাঁসি দেওয়ার দুটি রায় এবং নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় মামলার গতি ত্বরান্বিত হওয়ায় সব মহলই খুশি। গণমাধ্যমের কল্যাণেই এসব মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন হচ্ছে এবং দেশে অপরাধের মাত্রা অনেক কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিডিয়া ও বিচারব্যবস্থার প্রতিও মানুষের আস্থা বেড়েছে। আসলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এ দেশের সুশাসনের জন্য অনিবার্য হয়ে পড়েছে। তাছাড়া গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আইন জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করে। অন্যদিকে মিডিয়ার ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পেয়ে থাকে। এ কথা ঠিক আইন রক্ষা করবে জনস্বার্থ, নিশ্চিত করবে সবার সমান মর্যাদা ও অধিকার, সংরক্ষণ করবে মানবাধিকার এবং যে কোনো অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকারের বিধান করবেÑ এসবই সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘নেশন মাস্ট বি ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট করাপশন। পাবলিক ওপিনিয়ন মবিলাইজ না করলে শুধু আইন দিয়ে করাপশন বন্ধ করা যাবে না।’ গণসচেতনতা তৈরিতে মিডিয়ার ভূমিকা বঙ্গবন্ধুর আমল থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে স্বীকৃত। স্বাধীনতার পর থেকেই দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বহুবিধ আইন, বিধিবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আরও কিছু নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উন্নয়নে বেশ কিছু নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি এবং এগুলোর ব্যবস্থাপনা ও পদ্ধতির উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১১-২০১৫) শেখ হাসিনা সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিল। ‘রূপকল্প ২০২১’ এবং ‘রূপকল্প-৪১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত ‘বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা’ শীর্ষক দলিলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এই আন্দোলনে সবাইকে অংশীদার হতে উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম যেসব আইন গত মহাজোট সরকারের সময় প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’, ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’, ‘সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯’, ‘চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০’, ‘জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১’, ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২’, ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’, ‘প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২’ ইত্যাদি। এসব আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতি প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আর সে সম্পর্কে বিধান ব্রিটিশ আমল থেকেই চালু রয়েছে।

বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বস্তরে বিস্তৃত দুর্নীতি নির্মূল করলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হবে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, পুলিশ প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক নেতাদের অযাচিত প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এসব বাস্তবতা থেকেও আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আগামী এক দশকে এ দেশে ক্ষুধা, বেকারত্ব, অশিক্ষা, বঞ্চনা ও দারিদ্র্য থাকবে না। দেশে বিরাজ করবে সুখ, শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি। সংবিধানের প্রস্তাবনা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ‘এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা’ হবে, ‘যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত’ হবে। এই লক্ষ্য পূরণে সুশাসন প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রের অবশ্য-কর্তব্য এবং সেই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতি দমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য পরাকৌশল। কেবল আইন প্রয়োগ ও শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে একটি আন্দোলন গড়ে তোলা, যাতে নাগরিকরা চরিত্রনিষ্ঠ হয়, রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সুশীল সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলোয় শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মানুষকে নৈতিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ যেন সে অনুসরণ করে চলে। তার যেন সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদ-, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্য থাকে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তি-পর্যায়ে কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা খুব দরকার। এ জন্য বিদ্যমান আইনকানুন, নিয়মনীতির সঙ্গে দুর্নীতি দমনকে একটি আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করতে হবে। সেই অঙ্গীকারকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের সদিচ্ছার সঙ্গে সঙ্গে জনগণের প্রচেষ্টা গুরুত্ববহ।

মূলত ন্যায়বিচারের নজির সাধারণ মানুষকে যেমন আইনের শাসনের ব্যাপারে সচেতন করে তোলে তেমনি গণমাধ্যম সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়ে ওঠে। এ জন্য প্রচলিত বিচার কাঠামোর ওপর মানুষের আস্থা বেড়েছে। প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষের তথ্য প্রাপ্তির অন্যতম উৎস হলো গণমাধ্যম। বলা হয়ে থাকে গণমাধ্যম জনগণের মতামতকে ঠিক করে দেয়। অর্থাৎ গণমাধ্যমের এজেন্ডা পাবলিক এজেন্ডায় পরিণত হয়। সমাজে নানা ঘটনার মধ্যে কোনটি বেশি আলোচিত হবে বা গুরুত্ব পাবে গণমাধ্যমই তা নির্ধারণ করে দেয়। এর মধ্যে সহজবোধ্য ও দ্রুততম তথ্য প্রাপ্তির উৎস হিসেবে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এক ধাপ এগিয়ে। অতীত এবং বর্তমানের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে যাবে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি স্বাধীনভাবে কাজ করার যাবতীয় দিক উন্মোচন করতে হবে। তাহলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। আর সুশাসন সমুন্নত অবস্থানে পৌঁছলে তার মাধ্যমেই বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আরও ভালো হবে।

লেখক : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।