রাজধানীর আয়তন বাড়ছে

রাজধানীর আয়তন বাড়ছে। মহানগরীর আশপাশে উপ-শহর হিসেবে গড়ে উঠা ১৭৮ দশমিক ৭৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা যুক্ত হচ্ছে রাজধানীতে। এরমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ৬৪ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটার এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ১১৪ দশমিক ৫৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা।

সম্প্রসারিত ডিএসসিসিতে যুক্ত হচ্ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ এলাকার কিছু অংশ। এছাড়া শ্যামপুরের রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিকল্পিত শিল্প এলাকা, ঢাকা ওয়াসার পয়োঃবর্জ্য শোধনাগার, দনিয়া-মাতুয়াইল-সারুলিয়া-ডেমরা-দক্ষিণগাঁও-নাসিরাবাদ এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামগুলো। অকল্পিতভাবে গড়ে উঠা শহরে অবকাঠামোর মান্ডাও চলে আসছে ডিএসসিসির মধ্যে। মাতুয়াইল ল্যান্ড ফিল এতদিন নিজেদের সীমানার বাইরে থাকলেও সম্প্রসারিত আয়তনে ডিএসসিসিভুক্ত হচ্ছে।

আর ডিএনসিসি এলাকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বাড্ডা-ভাটারা-সাতারকুল-বেরাইদ-ডুমনি-উত্তরখান-দক্ষিণখান ও হরিরামপুর এলাকা। এরমধ্যে বাড্ডা ও ভাটারা আধুনিক শহুররূপে গড়ে উঠেছে। তবে তা অপরিকল্পিত। রাজউকের ছোঁয়ায় হরিরামপুরের একাংশ বদলে গেলেও অপরাংশের চিত্র অত্যন্ত করুণ। ন্যূনতম নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত ওই এলাকার বাসিন্দারা। সাতারকুলের পানি নিষ্কাশন খালগুলো ভরাট করে ফেলছে কিছু আবাসন কোম্পানি। সরেজমিন দেখা গেছে, ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) উল্লিখিত ১৩০ ফুট খাল বাস্তবে রয়েছে ১৫ ফুট। খাল পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। এছাড়া ডুমনি-উত্তরখান ও দক্ষিণখান এখনও চরম অবহেলিত। সড়ক-ফুটপাত গ্রামের মেঠোপথের চেয়েও খারাপ। নেই ড্রেনেজ-স্যুয়ারেজ লাইন। পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাসের রয়েছে তীব্র সংকট। ডুমনির কাঁঠালদিয়া গ্রাম এবং বেরাইদের ফকিরখালি গ্রামের নাগরিক সেবার চিত্র প্রত্যন্ত গ্রামের যে কোনো এলাকাকে হার মানাবে। এখনও ওই এলাকার বাসিন্দাদের বাঁশের সাঁকো-কাঠের সাঁকোই পারাপারের অবলম্বন।

ডেমরা ও সারুলিয়া এলাকার ডিএনডি বাঁধ এলাকা ঘুরে জলাধার-খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার চিত্র দেখা গেছে। পানি নিষ্কাশন নালাগুলো বন্ধ করে ফেলায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকায় কয়েক লাখ মানুষের বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যায়।

ডিএনডি বাঁধ মূলত ইরিগেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কৃষিজাতপণ্য উৎপাদনের জন্য তৈরি হয়। অত্যন্ত সুনিপুণ কৌশলে পরিকল্পিতভাবে ৫৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার সেচ খাল ও ৪৫ দশমিক ৯০ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল তৈরি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ডিএনডি প্রজেক্টের ডেমরা ও সারুরিয়া রাজধানীর খুব কাছে হওয়ায় এ এলাকায় দ্রুত জনবসতি গড়ে উঠতে শুরু করে।

১৯৮৮ ও ১৯৯৮-এর বন্যায় ডিএনডি বাঁধের ভেতর পানি প্রবেশ না করায় ওই এলাকায় বাড়িঘর এবং ভবন তৈরির হিড়িক পড়ে যায়। পরে অপরিকল্পিতভাবে শুরু হয় স্কুল-কলেজ, শিল্প-কারখানাসহ বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ। অনেক জলাশয় ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে আবাসিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষমতাসীনদের কবলে বিলীন হয়ে যায় পানি নিষ্কাশনের খালগুলো। অনেক স্থানজ–ড়ে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। ডিএসসিসির ঘাড়ে ডিএনডি বাঁধ এসে পড়লে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ওই এলাকাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা চ্যালেঞ্জের বিষয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ডিএসসিসির বর্তমান আয়তন ৪৫ বর্গকিলোমিটার, ডিএনসিসি ৮২ দশমিক ৬৩ বর্গ কিলোমিটার। ডিএসসিসি ডিএনসিসি থেকে আয়তনে ৩৭ দশমিক ৬৩ বর্গকিলোমিটার ছোট। আর সম্প্রসারিত (প্রক্রিয়াধীন) হলে এ পার্থক্য দাঁড়াবে ৮৮ দশমিক ০৪ বর্গকিলোমিটার।

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল্লাহ যুগান্তরকে জানান, ডিএসসিসির সম্প্রসারিত এলাকার মধ্যে ডিএনডি একটি বড় সমস্যা। ওই বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিএনডি এলাকা ডিএসসিসি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে (এনসিসি) দিয়ে দিতে চায়। সেই বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে ডিএনডি বাঁধ এলাকার সমস্যা সমাধানের বিষয়ে কি ধরনের প্রকল্প করা যায়, সেসব বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ডিএনসিসিতে যেসব এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে, সেসব এলাকার বিষয়ে আমরা নিজস্ব কিছু চিন্তা-ভাবনা করছি, তবে তা এখনও গণমাধ্যমকে বলার পর্যায়ে আসেনি। তিনি আরও জানান, গেজেট প্রকাশের পর সম্প্রসারিত এলাকার ব্যাপারে আমরা নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করব। জনবলসহ সামগ্রিক বিষয়ে আমাদের অনেক কাজ করার রয়েছে।