‘রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প হবে দেশের উন্নয়নের মাইলফলক’

পাবনার রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। যার ফলে পাবনা জেলা ও ঈশ্বরদী উপজেলা হবে নতুন সিঙ্গাপুর। যেখানে কোনো প্রকার ঝুঁকি তো থাকবেই না বরং উন্নয়নের জোয়ারে ভাসবে এই অঞ্চল।

আজ বুধবার সকালে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে পাবনার সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় রাশিয়ার সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় জানানো হয়, এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে মাত্র তিন টাকা। ২০২২ সালে জাতীয় গ্রিডে ১২০০ মেগাওয়াট এবং ২০২৩ সালে যোগ হবে আরো ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ফলে দেশের বিদ্যুতের ঘাটতি মিটিয়ে এই বিদ্যুৎ পাশের দেশগুলোতে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ঝুঁকিমুক্ত ফোর জি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এই প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো, সাইট ডেভেলপমেন্ট, মাটি পরীক্ষা, কন্সট্রাকশন ল্যাবরেটরিসহ প্রথম পর্যায়ের ৯০ শতাংশ কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে দ্বিতীয় পর্যায়ে আণবিক চুল্লি বা রি-অ্যাকটর বসানোর কাজ শুরু হবে। রি-অ্যাক্টর বসানোর কাজ শেষ হলে আগামী ২০২২ সালে প্রথমে ১২০০ মেগাওয়াট এবং তার পরের বছর ২০২৩ সালে আরো ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। আর এই বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের উৎপাদন খরচ পড়বে মাত্র দুই টাকা ৯০ পয়সা। যা দিন টাকা দরে বিক্রি করলেও প্লান্ট স্থাপন ও পরিচালনায় কোনো লোকসান হবে না। এই প্রকল্পের ‘লাইফ’ বা জীবন শক্তি হবে ৫০ বছর। আর তা সংস্কার করে দাঁড়াবে ৮০ বছরে। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর এর ৯০ শতাংশ ব্যয় বহন করবে রাশিয়া সরকার। মাত্র ১০ শতাংশ টাকা খরচ করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে।

গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা বলেন, পাঁচ স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকায় এই প্রকল্পে দুর্ঘটনা ঘটনার কোনো সম্ভাবনা নেই। যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেও তবে তাতে কোনো ক্ষতি হবে না। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদি মোকাবিলায় এই রি-অ্যাকটর সক্ষম। জাপানের ফুকুসিমা দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত প্লানটি বিদ্যুৎ সরবরাহ বিহীন নিরাপদে থাকবে। পৃথিবীর ৩২ দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লির মধ্যে এটি হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এবং ফোর জি ক্ষমতাসম্পন্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ০২ অক্টোবর পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

পাবনার অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এই গোলটেবিলের সঞ্চলনা করেন বাংলাদেশের ট্রিনিউ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ড. ফরহাদ কামাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল নকীব চৌধুরী, পাবনার পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক শিবজিত নাগ, রাশিয়ার রোসাটমের কমিউনিকেশন অফিসার মি. আরকাডি কারনিভ, রাশিয়ান নিউক্লিয়ার নিউজের চিফ এডিটর মি. ইলি প্লানটনভ, এইসএসই গ্রুপের সেজেই হুজুক লেভ, রোসাটম কর্মকর্তা এলিনা গিওর গিভেনসহ রাশিয়ান বিশেষজ্ঞরা।

পরে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, পাবনা সংবাদপত্র পরিষদ সভাপতি আবদুল মতীন খান, পাবনা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক সমকাল সাংবাদিক এ বি এম ফজলুর রহমান, মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো চিফ উৎপল মির্জা, বাংলাদেশ বেতারের শুশীল তরফদার, বাসসের রফিকুল ইসলাম সুইট এবং এটিএন বাংলার মোবারক বিশ্বাস।