জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ হবে ৫ হাজার কোটি ডলার

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে শুধু জ্বালানি খাতেই দেশে বিনিয়োগ হবে পাঁচ হাজার কোটি ডলার। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা পূরণ অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সে চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

গত মঙ্গলবার হংকংয়ের রিটজ কার্লটনে দিনব্যাপী চতুর্থ বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সিটি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অর্থায়নে এবং ডিএফডিএল, লংকাবাংলা, পিডবিল্গউসি ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের সহায়তায় এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

দেশের শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি অল্পদিনের মধ্যেই কেটে যাবে বলে উল্লেখ করেন তৌফিক-ই-ইলাহী। তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলগুলোয় একধরনের বলয় সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে সরকার। এর আওতায় এসব এলাকায় ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। এক অথবা দুই বছরের মধ্যেই এ নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ বছরে মাত্র দশমিক ৪ টন। উন্নত দেশে এ গ্যাসের নিঃসরণ ২০ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করা হচ্ছে। দেশের ৪০ লাখ পরিবার এখন আলো জ্বালাতে সৌরশক্তি ব্যবহার করে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ খাতে বিদেশিরা বড় অঙ্কের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বেশি আগ্রহ দেখিয়ে বেশ ক’টি প্রস্তাবও দিয়েছে। পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে আড়াই বিলিয়ন ডলার বা ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিনিয়োগ সম্মেলনে ‘পরিপ্রেক্ষিত :বাংলাদেশের জন্য রূপকল্প’ শীর্ষক মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, কার্যকর সামষ্টিক অর্থনীতির নীতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করেছে। জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রাও এ বছরের শেষ নাগাদ অর্জিত হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, দেশকে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনেক সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে আগামী দিনে বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বাড়বে।

সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল, বিল্ডের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, ডিসিসিআইর সভাপতি হোসেন খালেদ, রহিমআফরোজ গ্রুপের পরিচালক মুদাসসির মঈন, পিডবিল্গউসির বাংলাদেশের ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশিদ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের করপোরেট ব্যাংকিং শাখার প্রধান নেসার এজাজ বিজয়, বিইপিজেডের নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, সিঙ্গার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান গেভিন ওয়াকার ও আইএফসির কান্ট্রি হেড ওয়েন্ডি জো ওয়ার্নার এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।