৫ বছরের কর অবকাশ সুবিধা পাচ্ছে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প

পাঁচ বছরের জন্য কর অবকাশের সুবিধা পেতে যাচ্ছে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প। পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্যাসক্ষেত্রের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এদিকে সরকারের ‘অগ্রাধিকার প্রকল্প’ (ফার্স্ট ট্র্যাক) দ্রুত বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘ফার্স্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটি’র সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনকারী বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানি গত বছরের শুরুতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে পাঁচ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা চায়। কিন্তু রাজস্ব বোর্ড অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানায় যে, তিন বছরের বেশি সুবিধা দেয়া যাবে না। কারণ প্রচলিত সুবিধার চেয়ে বেশি দিলে অন্য প্রতিষ্ঠানকেও দিতে হবে, যা ঠিক হবে না। এখনই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের যন্ত্র আমদানিতে কর মওকুফ করা হয়, আমদানি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) এখনই মওকুফ করা আছে। কোম্পানিতে চাকরি করা ভারতীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা আগে থেকেই দেয়া আছে। এ অবস্থায় তারা ৫ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা চাইছে। অন্যদিকে কোম্পানি জানায়, যদি এই সুবিধা দেয়া হয় তাহলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমবে। কম টাকায় বিদ্যুৎ কিনতে পারবে পিডিবি।
এদিকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টিও পিছিয়ে পড়ে। গতকালের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সমাধানের জন্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে সব বিদ্যুৎকেন্দ্রেই এই সুবিধা দেয়া হচ্ছে। রামপালে কেন দেয়া হবে না। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হয়েছে। তিনি সম্মতি দিয়েছেন। এখন রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা হবে।
এদিকে বৈঠকে দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্যাসক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সব স্থাপনাতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে যে কেউ স্থাপনাতে প্রবেশ করতে পারে। তাই গতানুগতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি নিজস্বভাবে নিরাপত্তা জোরদার করবে জ্বালানি বিভাগ। এছাড়া স্থাপনাগুলোতে বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মজুদের জায়গায় আগুন লাগার বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ভারতীয় উগ্রপন্থি সংগঠন উলফা বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করার হুমকি দিয়েছে বলে একটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে বলেছেন। দারিদ্র্যের হার এখনকার ২২ শতাংশ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আরো ১০ শতাংশ কমিয়ে আনার ওপর জোর দেন তিনি। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ানো, শতভাগ বেতন বাড়ানো এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও বলে তিনি।
সরকারের অগ্রাধিকারের প্রকল্পগুলো হলো, পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ি ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রো রেল, এলএনজি টার্মিনাল, সোনাদিয়া ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর এবং দোহাজারী থেকে রামু হয়ে মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপন প্রকল্প।