উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে কোনো বল প্রয়োগ নয়

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বল প্রয়োগ না করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এতে উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ বা প্রকল্প বাস্তবায়নে সতর্কতা অবলম্বন এবং সংশ্লিষ্ট মানুষদের সমর্থন নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গত ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার ও চীনের দুটি কোম্পানির যৌথভাবে বাস্তবায়নাধীন ১২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্রের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন নিহত হয়। এরপর গত ৭ এপ্রিল সরকারের আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১১তম সভায় উন্নয়ন প্রকল্পের জমি
অধিগ্রহণের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে স্থানীয় অধিবাসীদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো বিশেষ বিবেচনায় রাখতে হবে। স্থানীয় অধিবাসীদের সম্পৃক্ত করে এবং তাদের সহযোগিতা নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত বল প্রয়োগের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এজন্য উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে স্থানীয় জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক ও ইতিবাচক ধারণা দেবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সকালের খবরকে জানান, আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে সংশ্লিষ্টদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। বাঁশখালীর মতো যেন আর কোনো ঘটনা না ঘটে সেজন্যই সরকারের এই উদ্যোগ।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ এ বিষয়ে সকালের খবরকে বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় আইন মেনে তা করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রেই আইন মানা হয় না। ভূমি অফিসগুলো সঠিকভাবে আইন মানে না। এক্ষেত্রে সরকার মুখে যা বলে কাজে সেটা করে না।’
তিনি বলেন, নিয়ম, আইন-কানুন ও স্বচ্ছতা অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ করা হলে বাঁশখালীর মতো ঘটনা এড়ানো যাবে। এসব ক্ষেত্রে যে দুর্নীতি হয়, তা রোধ করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি এখন অনেকটা ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে।