১৩ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে

প্রক্রিয়াধীন রামপাল ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার কেন্দ্রের বিদ্যুৎ ঢাকায় আনতে ৪০০ কেভি ক্ষমতার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে। ১ হাজার ৩৫৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরে এ বিষয়ে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ৬৬৩ কোটি টাকার বিদেশি সহায়তা পাওয়া যাবে। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, বৈঠকে ৯টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৯৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রকল্প ব্যয়ের ২ হাজার ৫৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থার তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ১৫৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। আর ৩ হাজার ৪০১ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিদেশি উৎস থেকে সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বৈঠকে দুইটি পুরনো প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ২০১৪ সালে নেয়া মূল প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে ৮২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। বহুজাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ডিএফআইডি ৮৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা সহায়তা দেবে। শুরুতে প্রকল্পের আওতায় ছয়টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থাকলেও নতুন সংশোধনীতে ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন সংস্থা অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।
পানি ভবন নির্মাণ প্রকল্প সংশোধন করে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২১০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ২০১৩ সালে ভবনটি নির্মাণে ৫৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। জুন মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত বরাদ্দের মাত্র ২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ভবনটি ১২ তলায় উন্নীত করাসহ বেশ কিছু সংশোধনী আনায় ব্যয় বেড়েছে ১৫৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ৯৭৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আন্তঃসংযোগ বাড়াতে ১৭টি সেতু নির্মাণ করা হবে। নির্মাণ করা হবে সাতটি কালভার্ট। এ লক্ষ্যে ২ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১ হাজার ৮৫১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা দেবে জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা)। আর সরকারের তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৬২১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। একই লক্ষ্যে ৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরে অনুমোদন দেয়া হয়েছে দিনাজপুর চিরিরবন্দর পার্বতীপুর সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ক্রস বর্ডার ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে যশোর জেলার শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলা, নড়াইল জেলারর সদর ও লোহাগড়া উপজেলা, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলার মিরেশ্বরাই, পটিকছড়ি, পটিয়া, চন্দনাইশ ও কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায়। এ প্রকল্পের আওতায়, সংযোগ সড়ক নির্মাণ, ১৭টি সেতু নির্মাণ, সাতটি কালভার্ট নির্মাণ, দুইটি টোল প্লাজা নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট)দুইটি নতুন বিভাগ ও দুইটি ইনস্টিটিউট চালু করতে ২৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে অপর একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রকল্পের আওতায় ইনস্টিটিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রমেন্টাল সায়েন্স, ডিপার্টমেন্ট অব রিনিউএবল এনার্জি, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিনিউকেশন টেকনোলজি ও কেমিক্যাল ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু হবে। এসব বিভাগ ও ইনস্টিটিউট চালু হলে প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৩০০ শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তি হতে পারবে। মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটির বিষয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।
তাছাড়া খাদ্য প্রযুক্তি, হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ক্যাটারিং সার্ভিসের মতো কর্মমুখী বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পের মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে ৩৪৭ কোটি টাকা। মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা জেলার তজুমুদ্দিন উপজেলা সদর সংরক্ষণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪৪৯ কোটি টাকা। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় নির্মাণে ব্যয় হবে ৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।