ঢাকা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা

এটি হবে ভূমিকম্প সহনশীল * বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে পুরান ঢাকা

রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তুলতে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বিদ্যমান সড়ক-ফুটপাত, পার্ক-খেলার মাঠ, খাল-জলাধার, ড্রেনেজ-স্যুয়ারেজ সিস্টেমগুলো অক্ষুণœ রেখে চাহিদা অনুযায়ী বৃদ্ধি এবং সংস্কার করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তবে ছোটখাটো করে গড়ে তোলা জঞ্জাল এলাকায় পরিকল্পিত সুউচ্চ ভবন তৈরি করা হবে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওইসব এলাকায় ওপেন স্পেস (খোলা জায়গা) বের হবে। এতে কারও ক্ষতি হবে না। আবার পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে নগরীর পরিবেশ। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নগরীর স্থাপনাগুলো ভূমিকম্প সহনশীল হয়ে গড়ে উঠবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে এ কমিটি একাধিক সভাও করেছে। চলতি বছরের মধ্যে এ পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ পরিকল্পনার নাম দেয়া হয়েছে ‘অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান (এএপি)’। পাঁচ বছর মেয়াদি করা হচ্ছে এ পরিকল্পনা। ডিএসসিসির ৪৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এ পরিকল্পনা। তবে তা পরবর্তীকালে সম্প্রসারিত ডিএসসিসি (প্রক্রিয়াধীন) বা শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, ডেমরা, সারুলিয়া, দক্ষিণগাঁও, নাসিরাবাদ ও মান্ডা ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, এসব এলাকার আয়তন ৬৪ বর্গকিলোমিটার। এএপি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ও ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল্লাহ রোববার যুগান্তরকে জানান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ঢাকা শহর নিয়ে বিশদ পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। ডিএসসিসি নিজস্ব এলাকায় রাজউকের ঢাকা স্ট্যাকচার প্ল্যান (ডিএসপি) ও ঢাকা ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) আদলে ডিএসসিসি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সিটি কর্পোরেশন একটি বড় সেবাদানকারী সংস্থা। এ সংস্থার প্রকৌশল, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, সম্পত্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগরপরিকল্পনা, সম্পত্তিসহ আরও অনেকগুলো বিভাগ রয়েছে। ডিএসসিসির অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যানে বিভাগভিত্তিক আলাদা ‘ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ থাকবে। এখানে ডিএসসিসি এলাকার পার্ক, জলাধার, খেলার মাঠ, মার্কেটগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে। ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী জানান, এএপির কার্যক্রম প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এটা বাস্তবে রূপ পেতে খুব বেশি সময় লাগবে না। কেননা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা খরচ হবে। আর এটা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করতে পারবে। সেহেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রক্রিয়া সম্পাদনে সময় কম লাগবে। এ কারণে এ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, এএপি পরিকল্পনা প্রণয়নে সাত সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। এতে ডিএসসিসির সদস্য রাখা হয়েছে ৪ জন, এর বাইরে রাজউক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ও নগর উন্নয়ন অধিদফতরের একজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। তবে এ কমিটিতে বিশেষজ্ঞ কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এএপির এক সদস্য জানান, রাজউকের পরিকল্পনাগুলো অত্যন্ত সুন্দর হলেও তা সব সময় বাস্তবভিত্তিক হয় না। এ কারণে সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গিয়ে কঠিন বাধার মুখে পড়তে হয়। ড্যাপ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। দুর্বলের জন্য ড্যাপ অকাট্য দলিল, আর সবলের জন্য ফেলনা বিষয়। তিনি আরও জানান, এ কারণে নগর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করা যায় না। যার ফলে রাজধানী দিন দিন বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে পরিবেশ। ডিএসসিসির অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান হবে ভূমিকম্পবান্ধব, বাস্তবসম্মত এবং বাস্তবায়নযোগ্য। এএপি প্রণয়ন কমিটির আরেক সদস্য জানান, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে ডিএসসিসির অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান প্রণয়নে নগরীর সাধারণ জনগণ, নগর বিশেষজ্ঞ, জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হবে। ডিএসসিসির অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যানে পুরান ঢাকা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুরান ঢাকার সরু গলির যাপিত জীবনের চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে।