লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াতে পারে চা উৎপাদন

মৌসুমের শুরুতেই প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার দেশে চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বছর চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ মিলিয়ন কেজি। চায়ের মোট উৎপাদনের ৯৫ শতাংশই সিলেটের বাগান থেকে উৎপাদিত হয়।

সংশ্লিষ্টদের আশা, মৌসুমের শুরুর মতো অনুকূল আবহাওয়া বছরজুড়ে অব্যাহত থাকলে এ বছর চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর এপ্রিল থেকে চা উৎপাদন শুরু হয়। কয়েক বছর ধরে এ সময়টায় তীব্র খরায় ব্যাহত হয় উৎপাদন। এ বছর এপ্রিলের শুরু থেকেই সিলেটে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চা উৎপাদনের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। গত বছরও দেশে চায়ের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হয়। ২০১৫ সালে দেশে চা উৎপাদন হয়েছিল ৬৭ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন কেজি।

সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, এপ্রিলে সিলেটে এ পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৮৫২ দশমিক ৩ মিলিমিটার। দেশের অন্যান্য এলাকায় যখন বৃষ্টির জন্য হাহাকার, তখন প্রতিদিনই প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। এ মৌসুমে আরো বৃষ্টিপাত, এমনকি বন্যারও শঙ্কা আছে বলে জানিয়েছে সিলেট আবহাওয়া অফিস।

এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে এবার সিলেট অঞ্চলে আগেভাগেই চায়ের পাতা উত্তোলন শুরু হয়েছে। অন্যান্য বছর সাধারণত এপ্রিল থেকে চায়ের পাতা উত্তোলন শুরু হয়। কিন্তু এবার মার্চের শেষভাগেই সিলেটের সব কয়টি ভ্যালির বেশির ভাগ বাগানে পাতা উত্তোলন শুরু হয়েছে। ফলে এবার চায়ের নিলামও শুরু হচ্ছে আগেভাগেই। চট্টগ্রামে চায়ের প্রথম নিলাম অনুষ্ঠিত হবে আজ। এতে সিলেটের বাগানগুলোর চা ওঠানো হবে।

সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি ও খাদিমনগর টি এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল রশীদ চৌধুরী বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমরা সপ্তাহখানেক আগেই উৎপাদন শুরু করতে পেরেছি। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।’

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, দেশের ১৬২টি চা বাগানের মধ্যে সিলেট বিভাগে আছে ১৩১টি। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে ৯০, হবিগঞ্জে ২৩ ও সিলেট জেলায় ১৮টি বাগান আছে।

চা বোর্ড সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে দেশে ৬৭ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন কেজি, ২০১৪ সালে ৬৩ দশমিক ৮৮ কেজি ও ২০১৩ সালে ৬৬ দশমিক ২৬ কেজি চা উৎপাদন হয়।

সিলেটে মালনীছড়া, লাক্কাতুরাসহ কয়েকটি বাগান ঘুরে দেখা যায়, সেখানে পূর্ণোদ্যমে চলছে চায়ের উৎপাদন। শ্রমিকরা ব্যস্ত পাতা উত্তোলনে। কারখানাগুলোয় চলছে সেই পাতা প্রক্রিয়াজাতের কাজ। অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত পাতা উত্তোলন চলবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

সিলেটে আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ বলেন, এ বছর সিলেটে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বৈশাখ মাসেই প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। সিলেট অঞ্চলে বন্যারও শঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চা বাগান ব্যবস্থাপনা সেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাজান আখন্দ বলেন, চা উৎপাদনের জন্য বৃষ্টিপাত জরুরি। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিও ক্ষতিকর। বাগানে সার দেয়া যায় না। বিশেষত শিলাবৃষ্টি হলে কচি পাতা ঝরে যায়। কয়েক দিন ধরে সিলেটে শিলাবৃষ্টি হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত আবহাওয়া চা উৎপাদনের অনুকূলে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করছি, চলতি বছর চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।’ এ বছর চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭০ মিলিয়ন কেজি উল্লেখ করে তিনি জানান, এর মধ্যে সিলেট বিভাগে ৯৫ শতাংশ চা উৎপাদন হয়। চায়ের মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশই আসে বালিশিরা ও লস্করপুর ভ্যালি থেকে।