এলডিসি থেকে বের হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ!

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে আসতে জাতিসংঘের আরোপ করা তিনটি শর্ত পূরণের একেবারে দ্বারপ্রান্তে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) সর্বশেষ এলডিসি প্রতিবেদন-২০১৫-তে এ চিত্র উঠে এসেছে। সিডিপি প্রতি তিন বছর পর এসব মানদণ্ড পর্যালোচনা করে। যেসব দেশ কমপক্ষে দুটি শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়, তাদের এলডিসির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। সর্বশেষ হিসাবে বর্তমানে বিশ্বে ৪৮টি দেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় রয়েছে।
জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকের ভিত্তিতে বিশ্বের দেশগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছে : স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত। অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসোক) উন্নয়ন নীতিমালা বিষয়ক কমিটি বা কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) তিনটি সূচকের ভিত্তিতে তিন বছর পরপর এলডিসির তালিকা তৈরি করে থাকে। এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসার সূচকগুলো হচ্ছে : ক. মাথাপিছু আয় : তিন বছরের গড় মাথাপিছু জাতীয় আয় (জিএনআই); খ. মানবসম্পদ সূচক, যেটি পুষ্টি, স্বাস্থ্য, স্কুলে ভর্তি ও শিক্ষার হারের সমন্বয়ে তৈরি হয়; গ. অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক, যেটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক আঘাত, জনসংখ্যার পরিমাণ এবং বিশ্ববাজার থেকে একটি দেশের দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। একটি দেশ যেকোনো দুটি সূচক অর্জন করতে পারলে, সেটি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ ঘটানোর যোগ্যতা অর্জন করে। তবে ইচ্ছা করলে কোনো দেশ শুধু আয়ের ভিত্তিতেও এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসার আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে তার মাথাপিছু আয় মূল্যায়নের বছরে নির্ধারিত প্রয়োজনীয় আয়ের দ্বিগুণ হতে হবে।
সিডিপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান : প্রথম শর্ত (গড় মাথাপিছু আয়) ২০১৫ সালে সিডিপি থেকে ঘোষণা করা হয়েছে-কোনো দেশের তিন বছর গড় মাথাপিছু আয় ১ হাজার ২৪২ ডলার থাকলে সেটি শর্ত পূরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। সেক্ষেত্রে বর্তমানে বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু আয় দেখানো হয়েছে ৯২৬ ডলার। জাতিসংঘ তাদের নির্ধারিত হিসাবে মাথাপিছু আয় হিসাব করে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) চলত অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৪৬৬ ডলার হবে বলে প্রাথমিক হিসাব করেছে। এই সূচকে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও বিবিএসের সর্ব শেষ হিসাব সিডিপির হিসাবে উঠে আসেনি। দ্বিতীয়ত, মানবসম্পদ উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা অবনতি হয়েছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের বেঁধে দেওয়া ৬৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হয়।