কোটিপতি আমানতকারী ৬০ হাজার

কোটি টাকার আমানতকারী প্রতি বছর বাড়ছে। ব্যাংকে এক কোটি টাকা বা তার বেশি সঞ্চয় রয়েছে এমন হিসাবধারীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ হাজার বেড়ে ২০১৫ সাল শেষে হয়েছে ৬০ হাজার। এর মধ্যে সরকারি খাতে রয়েছে ১৬ হাজার অ্যাকাউন্ট। আর বেসরকারি খাতে রয়েছে ৪৪ হাজার অ্যাকাউন্ট। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে হালনাগাদ এ পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে।

কোটি টাকার আমানত হিসাবধারীর বাইরেও অনেক কোটিপতি রয়েছেন। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আমানত হিসাবে কোটি টাকার বেশি জমা আছে এখানে শুধু সেই সংখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে অনেকেই আছেন যাদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

 ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও বেসরকারি মেঘনা ব্যাংকের এমডি নূরুল আমিন সমকালকে বলেন, মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঞ্চয়ের মনোভাব বাড়ছে। দেশের চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশের আয় অনেক বেশি হারে বাড়লেও তারা বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ পাচ্ছেন না। এসব ব্যক্তি ব্যাংকে টাকা রাখার কারণে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি বলেন, শেয়ারবাজার পরিস্থিতি এখন খুব একটা ভালো না। জমি বা ফ্লাট কেনার প্রতিও মানুষ আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এছাড়া ব্যাংকের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের সুদহার বেশি হলেও তা সহজে বিনিময়যোগ্য না হওয়ায় অনেকে ব্যাংকে টাকা রাখছেন।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কোটি টাকার আমানতকারীর মধ্যে ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি টাকার বেশি রয়েছে ৫৯৫টি অ্যাকাউন্টে। এসব হিসাবে রয়েছে ৭৮ হাজার ৫১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ- প্রতিটি অ্যাকাউন্টে গড়ে প্রায় ১৩২ কোটি টাকা রয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টের মধ্যে বেসরকারি খাতের ২৮৮টি হিসাবে আছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা। আগের বছর বেসরকারি খাতের এ ধরনের ২৯৫টি হিসাবে ৩১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা ছিল। আর এখন ৪৪ হাজার কোটি টাকা জমা আছে সরকারি খাতের ৩০৭টি হিসাবে। আগের বছর শেষে সরকারি ২৯৪টি অ্যাকাউন্টে জমা ছিল ৩৮ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। ২০১৫ সাল শেষে ৪০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট রয়েছে ২২০টি। যেখানে রয়েছে ১০ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। ৩৫ কোটি থেকে ৪০ কোটি টাকার ১৬৬টি অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৬ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। ৩০ কোটি থেকে ৩৫ কোটি টাকার ২০৭টি অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৬ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার ৩৭৭টি অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১০ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা।

বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ৬২৯টি অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১৩ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার এক হাজার ৫৬ হিসাবে রয়েছে ১৮ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা। ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার ২ হাজার ১০৮টি হিসাবে রয়েছে ২৫ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। আগের বছর এক হাজার ৮১৫টি হিসাবে ছিল ২২ হাজার ১৬ কোটি টাকা। পাঁচ থেকে ১০ কোটি টাকার ৬ হাজার ৪১৬টি হিসাবে আগের বছর ৪৬ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এবারে ৭ হাজার ৬৫টি হিসাবে ৫০ হাজার ৩৮১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। আর এক থেকে পাঁচ কোটি টাকার ৪৭ হাজার ২৭৭টি হিসাবে আছে ৯৭ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। আগের বছর এ ধরনের ৪৩ হাজার ৮০৮টি হিসাবে ছিল ৮৯ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল শেষে মোট আমানত অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬২ লাখ ২৩ হাজার। যেখানে জমা আছে ৭ লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকা। আগের বছরে মোট ৬ কোটি ৯৪ লাখ অ্যাকাউন্টে ছিল ৬ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। ফলে এক বছরে মোট আমানতকারী বেড়েছে ৬৮ লাখ ৫২ হাজার। আর আমানতের পরিমাণ বেড়েছে এক লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি হিসাব সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮৩ হাজার বেড়ে ৭ কোটি ৫৬ লাখে দাঁড়িয়েছে। আর সরকারি খাতের হিসাব ১ লাখ ৬৮ হাজার বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ৪০ হাজার।