বিনামূল্যে আইনী সহায়তা পাওয়া হতদরিদ্রের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিবছর

সাত বছরে সারাদেশে ১ লাখ ২৯ হাজার দুইজন সহায়-সম্বলহীন দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা দিয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (লিগ্যাল এইড)। প্রতিবছর এ সহায়তা পাওয়ার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ‘গরিব দুঃখীর বিচার হওয়ার অধিকার, বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার’ লিগ্যাল এইডের (জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা) এবারের সেøাগানের প্রতিপাদ্য বিষয়। লিগ্যাল এইডের এ সেøাগানের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় হতদরিদ্র মানুষের আইনী সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। দেশের মানুষের সহায়তার জন্য ন্যাশনাল হেল্পলাইন কল সেন্টার চালু করা হবে। ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে লিগ্যাল এইড অফিসে এই হেল্পলাইন কল সেন্টার উদ্বোধন করবেন। ইতোমধ্যে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষদের ৯০ লাখ ৫৯ হাজার তিন শ’ টাকা আদায় করে দিতে সমর্থ হয়েছে। প্রতিবছর এ সহায়তা পাওয়ার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। লিগ্যাল এইড তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রধান কার্যালয়ে গ্রামীণ ফোনের ৩টি হটলাইন সর্ভিস চালু করেছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রাথমিক আইনী পরামর্শ ও তথ্য সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এ পর্যন্ত হটলাইনের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫১৭ জন। লিগ্যাল এইড স্থাপনের পর থেকে দেশে হতদরিদ্র মানুষের আইনী পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ফলে হতদরিদ্র মানুষ আইনী সুযোগ গ্রহণ করতে পারছে। প্রতিবছর এ সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।

লিগ্যাল এইডের চেয়ারম্যান আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক। কমিটির পরিচালক সিনিয়র জেলা জজ মালিক আব্দুল্লাহ আল-আমিন এবং সুপ্রীমকোর্ট লিগ্যাল এইডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। মন্ত্রিসভা বৈঠকে আইনগত সহায়তা প্রদান ২০০০ কার্যকরের তরিখ অর্থাৎ ২৮ এপ্রিলকে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ঘোষণা করেছে। বিগত ২০১৩ সাল থেকে ২৮ এপ্রিল তারিখকে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশে আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হয়ে আসছে। সংস্থার অধীনে প্রত্যেক জেলায় দায়রা জজকে চেয়ারম্যান করে একটি জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার জেলা ছাড়াও উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন লিগ্যাল কমিটি গঠন করেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের ৬৪টি জেলায় ২০০৯ সালে আইনী সহায়তা পেয়েছিলেন ৯ হাজার ১৬০ জন, ২০১০ সালে ১১ হাজার ২৬৬, ২০১১ সালে ১২ হাজার ৫৬৮ জন, ২০১২ সালে ১৫ হাজার ৪৫০, ২০১৩ সালে ১৯ হাজার ৪৯৩, ২০১৪ সালে ২৫ হাজার ২৮৩, ২০১৫ সালে ৩০ হাজার ৪০৯ এবং ২০১৬ সালে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ৫ হাজার ৩৭৩ জনকে আইনী সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে নারী ৬৭ হাজার ২৪৭ জন, পুরুষ ৬১ হাজার ৪০৪ এবং শিশু রয়েছে ৩৫১ জন। এ সময়ের মধ্যে সুপ্রীমকোর্টে জেল আপীল মামলায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৫১৭ জন।

লিগ্যাল এইডের সহকারী পরিচালক সিনিয়র সহকারী জজ কাজী ইয়াসিন হাবীব জানিয়েছেন, কারাগারে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৯ হাজার ১৩৬ জন সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে ৬ হাজার ৩৪ জন, ২০১৩ সালে ৬ হাজার ২৪৬, ২০১৪ সালে ৬ হাজার, ২০১৫ সালে ৮ হাজার ৭০৪ জন, ২০১৬ সালের ফেব্রুযারি পর্যন্ত ১ হাজার ৩৭৮ জন। আইনগত সহায়তাপ্রাপ্ত নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ৫০ হাজার ৫৫৯টি। সুপ্রীমকোর্টে জেল আপীল মামলার সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৫০ জন। অন্যদিক হটলাইনের মাধ্যমে আইনগত তথ্য সেবা প্রদান করা হয়েছে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৫১৭ জনকে। আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা অনুয়ায়ী লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে শুধু হতদরিদ্রদেরই আইনী সহায়তা প্রদান করা হয় না, এর বাইরেও আইনী সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। অসচ্ছল বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তি, যার বার্ষিক গড় আয় সুপ্রীমকোর্টে আইনগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে দেড় লাখ টাকা এবং অন্যান্য আদালতের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকার উর্ধে নয়। কর্মক্ষম নন, আংশিক কমক্ষম, কর্মহীন বা বার্ষিক দেড় লাখ টাকার উর্ধে আয় করতে অক্ষম মুক্তিযোদ্ধা, কোন শ্রমিক যার বার্ষিক গড় আয় এক লাখ টাকার উর্ধে নয়।