সক্ষমতা বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে মাস্টারপ্ল্যানের সুপারিশ অনুযায়ী কানেক্টিভিটি, জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণ এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরে সদ্য নিযুক্ত চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল। গতকাল রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের ১২৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আজ সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর ১৩০ বছরে পদার্পণ করছে। এ উপলক্ষে বন্দর কর্তৃপক্ষ সোমবার আলোচনা অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য মেজবানের আয়োজন করেছে বার্থ অপারেটর ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটররা। সংবাদ সম্মেলনে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনা করে বন্দরের কার্যক্রমকে আরো সম্প্রসারণ ও গতিশীল করতে স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারপ্ল্যান বা কৌশলগত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।’ এসব সুপারিশের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জানিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘এসব পরিকল্পনার মধ্যে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি কানেক্টিভিটি, জেটি ও ইয়ার্ড সম্প্রসারণ এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ে।’ চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে বিভিন্নমুখী যোগাযোগ বা কানেক্টিভিটিতে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে পারলে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব আরো বাড়বে। ফলে জাহাজ আগমনের সংখ্যাও বাড়বে। আর এ জন্য জেটি ও ইয়ার্ড প্রয়োজন। তাই যত দ্রুত সম্ভব জেটি ও ইয়ার্ড সম্প্রসারণ করব।’ পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকলে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে না উল্লেখ করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের ক্রেন বাড়াতে হবে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেব।’ ভারতের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল শুরু হয়েছে জানিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরেও কোস্টাল শিপ চলাচল বাড়বে। ফলে পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালের মতো আরো অনেক টার্মিনাল হবে। এসব জাহাজকে জায়গা দিতে হলে কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা রক্ষা প্রয়োজন।’ বে-টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে উল্লেখ বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘৯৫০ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এ বিষয়ে বন্দরের সদস্য (অ্যাডমিন অ্যান্ড প্ল্যানিং) জাফর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি বন্দর নির্মাণ করতে হলে ব্যাপক স্টাডি করতে হয়। এটা স্থানীয়ভাবে সম্ভব নয়। তাই আমরা এটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছি।’ পরিবেশ ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসন ভূমি অধিগ্রহণ করলেই এখানে কাজ শুরু করা হবে জানিয়ে জাফর আলম আরো বলেন, ‘প্রথমে ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। এরপর ধীরে ধীরে টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলবে।’ আইন মেনেই পায়রা বন্দর নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের তহবিল থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে জাফর আলম বলেন, ‘আগামী ১০ বছরের মধ্যে এ টাকা ফেরত দিতে হবে।’ লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভার ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে চট্টগ্রাম বন্দরের অর্থায়নের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নে ফ্লাইওভারের দরকার আছে। তবে বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। বিষয়টি আমরা সরকারকে জানিয়েছি। সরকারই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’ কর্ণফুলী ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাফর আলম বলেন, ‘এই প্রকল্পে তিনটি অংশ রয়েছে। এর মধ্যে জেটি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংক প্রটেকশনও প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ। ড্রেজিংয়ের কাজ হয়েছে ৬২ শতাংশ।’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মামলার কারণে এই প্রকল্পের কাজ আটকে ছিল জানিয়ে জাফর আলম বলেন, ‘এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আদায় করা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। শিগগির এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমোডর শাহীন রহমান, পরিচালক (পরিবহন) গোলাম সারওয়ার, ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন নাজমুল আলম, সচিব ওমর ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।