আধুনিক হচ্ছে চিড়িয়াখানা

জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রবেশমূল্য বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে চিডিয়াখানার প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা। এটি বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। প্রতিবছর এ চিড়িয়াখানায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ দর্শনার্থী যায়। প্রবেশমূল্য বাড়লে তিন থেকে চার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় হবে। বৈঠকে জাতীয় চিড়িয়াখানাকে আধুনিক মানসম্পন্ন করার জন্য নতুন অনেক পরিকল্পনা অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ। মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সায়েদুল হকের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার ও মো. আসলামুল হক, চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এস এম নজরুল ইসলাম এবং মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, জাতীয় চিড়িয়াখানার উপদেষ্টা পরিষদের পূর্ববর্তী বৈঠক সাড়ে তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুরের জুড়ং বার্ড পার্কের আদলে সাজানো হবে মিরপুর চিড়িয়াখানাকে। দর্শকদের জন্য থাকবে সাইট-সিয়িং জিপ ও ওয়াটার বোট। আরো থাকবে ভাসমান রেস্তোরাঁ ও রাতযাপনের জন্য রিসোর্ট। এর ফলে বিশ্বমানে উন্নীত হবে জাতীয় চিড়িয়াখানা। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন ধরনের দুই হাজারের বেশি প্রাণী ও পাখি রয়েছে। নতুন প্রাণী ও পাখি সংগ্রহ করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চিড়িয়াখানাকে আধুনিক করে তোলার জন্য নতুন লোকবল নিয়োগ, মিরপুর এক নম্বর গোল চত্বর থেকে চিড়িয়াখানার মূল প্রবেশপথ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ এবং চিড়িয়াখানার ভেতরে আধুনিক রেস্তোরাঁ নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো করতে পারলে চিড়িয়াখানার পরিবেশ পুরোপুরি পাল্টে যাবে। তিনি বলেন, আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে ৩৩ প্রজাতির প্রায় আড়াই শ প্রাণী ও পাখি আনা হবে। এ জন্য ব্যয় হবে ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিভিন্ন দেশ থেকে শিম্পাঞ্জি, লাল বানর, গণ্ডার, উটপাখি, আফ্রিকান সিংহ, সাদা সিংহ, চিতাবাঘ, চিত্রা হায়েনা, সাদা ও ধূসর পেলিকান, সালফার ক্রেস্টেড কাকাতুয়া, সারস, কেশোয়ারী প্রভৃতি সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী মে মাসের মধ্যে সেগুলো আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ভেতর থেকে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় ১৩ প্রজাতির ২০০ প্রাণী ও পাখি সংগ্রহ করা হবে। এসবের মধ্যে থাকবে ভোঁদড়, গোখরা সাপ, লাউডগা সাপ, দাঁড়াশ সাপ, সোনালি সাপ, লাল মুনিয়া পাখি, হোয়াইট-পিংক কবুতর, আঁচিল মুরগি, ময়না, হলুদ টিয়া ও তিতির। জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিবেশ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে চিড়িয়াখানার কিউরেটরকে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় বলা হয়, যেসব হরিণশাবক এখন ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়, ভবিষ্যতে সেগুলোর মূল্য ধরতে হবে ৬০ হাজার টাকা। চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া ময়ূর বিক্রির অনুমতি ছিল না, এখন থেকে অল্প সংখ্যায় ময়ূর বিক্রি করা যাবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়।