লবণাক্ত অঞ্চলে তরমুজ চাষ কৃষকের মুখে হাসি

লবণাক্ত অঞ্চল খুলনার পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রায় তরমুজ চাষে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক এ অঞ্চল এককভাবে দখলে ছিল লবণাক্ততা। রবি শস্য ও শাক-সবজির আবাদ প্রায় উঠে গিয়ে ছিল বললে চলে। ৮০-র দশকে এ অঞ্চলে শুরু হয় লবণ পানিতে চিংড়ি চাষ। বিদেশে ব্যাপক চাহিদা ও প্রথম দিকে কৃষক লাভবান হওয়ায় চিংড়ি চাষে ঝুঁকে পড়েন। অব্যাহত ভাইরাস ও চিংড়িতে বিভিন্ন অপদ্রব পুশসহ নানাবিদ সমস্যায় এ শিল্পে ধস নামে। চিংড়িচাষিরা মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করে চিংড়ি শিল্প থেকে। ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে লবণ পানিতে চিংড়ি চাষ। কৃষক ঝুঁকছেন রবি শষ্যসহ শাক-সবজি চাষে। আর তারই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক বছর কৃষক লবণাক্ত মাটিতে তরমুজ চাষ করে এ অঞ্চলের বাম্পার ফলন পাচ্ছেন। ভালো ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকরা একদিকে বেশ উৎফুল্ল, অন্যদিকে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তরমুজ চাষ। তরমুজ চাষে কৃষকের ভাগ্য বদলানোর পাশাপাশি বদলাছে এলাকার আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট। চিংড়ি চাষে বিপর্যস্ত কৃষক খুঁজে পেয়েছেন নতুন ঠিকানা। লবণাক্ত এলাকায় তরমুজের আশাতীত ফলন কৃষকের করেছে স্বাবলম্বী।
পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় দুটি ইউনিয়নে এ বছর ১৮৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। দেলুটী ও গড়ইখালী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী, হাটবাড়ীয়া, শান্তা, বাইনবাড়ীয়া, বগুলাবরচক, কুমখালী, হোগলারচকসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা তরমুজের আবাদ করেছেন।
বেলে ও দো-অাঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযুক্ত। গাছ ১ থেকে ২ ফুট বড় হলে হালকা বৃষ্টির প্রয়োজন হয়। কিন্তু বৃষ্টি না হলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বছর তরমুজ চাষে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। এবার চাষিরা বেশিরভাগ জমিতে ভিকটার সুপার জাতের তরমুজ চাষ করেন। চাষিদের বিঘাপ্রতি ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আগামী কয়েক দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে হেক্টর প্রতি ফলন ৪৫ টন হবে বলে আশা করছেন চাষিরা। ইতোমধ্যে চাষিরা হেক্টরপ্রতি ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ১ থেকে দেড় লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে সমর্থ হয়েছেন। তরমুজের রয়েছে বিভিন্ন গ্রেড। ৪ কেজি থেকে গ্রেড শুরু। ক্ষেত থেকে আড়তদার বা পাইকারি ক্রেতার কৃষকের মাঠ থেকে তরমুজ কিনে থাকেন। তরমুজের ভিন্ন ভিন্ন গ্রেডের ভিন্ন ভিন্ন দাম। ৪ কেজি ওজনের একটি তরমুজ স্থানীয় বাজারে কৃষক ১২-১৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে। গ্রেডের নিচের তরমুজ এলাকার স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। দেলুটী ইউনিয়নের তরমুজচাষি মানবেন্দ্র ম-ল, লোকেশ ম-ল ও সমরেশ ম-ল জানান, এ বছর তরমুজের আবাদ করে ফলন ভালো হয়েছে। ক্ষেত থেকে প্রায় ৫০ ভাগ তরমুজ বিক্রি করা হয়েছে। এখনো প্রায় ৫০ ভাগ তরমুজ ক্ষেতে আছে।
লবণাক্ত এলাকায় তরমুজ সুস্বাদু মিষ্টি হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। যশোর, খুলনা, রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাইকারি ক্রেতারা তরমুজ ট্রলার ও ট্রাকযোগে তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আশাতীত তরমুজের ফলনে চাষিদের মুখে উচ্ছ্বাসের হাসি ফুটেছে।
তরমুজ চাষ সম্পর্কে পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিভাষ চন্দ্র সাহা জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। আগামীতে অধিক জমিতে তরমুজ চাষে কৃষক উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।