দীর্ঘমেয়াদি কৃষি উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে। আমরা জানি, বাংলাদেশের কৃষি উত্পাদন মূলত ছোট আকারের খামারনির্ভর এবং যা মিশ্র প্রকৃতির। গড় হিসাবে ধান ও অন্যান্য ফসলের উত্পাদনশীলতা এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। অপরদিকে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উত্পাদনের সঙ্গে কৃষকের উত্পাদনের বিস্তর ফারাক রয়েছে। কৃষির অন্যান্য উপখাত যেমন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা পরিলক্ষিত। তাছাড়া কিছু কিছু উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যের উত্পাদন বহুমুখীকরণের গতি আশানুরূপ নয়। এ সমস্যা হতে পরিত্রাণ পেতে দুর্যোগসহিষ্ণু কৃষিপ্রযুক্তির উদ্ভাবন ও ব্যবহার এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সামগ্রিক কৃষির উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উত্পাদন বৃদ্ধি, কৃষিজ আয় বহুমুখীকরণ, উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষি খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা সম্প্রসারণ, সেবা কার্যকর ও স্থায়িত্বশীলকরণ এবং সর্বোপরি উত্পাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিতে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন করার লক্ষ্যে সরকারের তরফ থেকে প্রকল্পভিত্তিক বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।
বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি) গ্রহণ করা হয়েছিল। ১৫ বছর মেয়াদি এ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পথ ধরে দ্বিতীয় পর্যায়ে তা আবার ২০২১ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পরবর্তী সাত বছরের জন্য তা পুনরায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টেকসই কৃষিব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে ‘এনএটিপি ফেজ-২’ নামে দীর্ঘমেয়াদি এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) এতে আর্থিক ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটি আগের মতোই বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, মত্স্য অধিদফতর, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিট। একনেকে অনুমোদিত কর্মসূচির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন হতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হলে কৃষকের উত্পাদন ও আয় বৃদ্ধি পাবে; যা খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষির সমৃদ্ধি অর্জন নিশ্চিত করবে। তাছাড়া বাজার সংযোগ জোরদার করার মাধ্যমে কৃষকের উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিতে সহায়ক হবে। কৃষি গবেষণা জোরদারকরণের মাধ্যমে প্রতিকূল পরিবেশ ও প্রতিবেশসহিষ্ণু যেমন বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, রোগ-পোকামাকড়-বালাই ইত্যাদি সহিষ্ণু ও অধিক উত্পাদনক্ষম প্রযুক্তি উদ্ভাবন সম্ভব হবে।
একটি বিষয় আমরা সকলেই জানি যে, ধান উত্পাদনের দেশ বাংলাদেশ। এখানে বছরে এখন আউশ, আমন ও বোরো-এ তিন মৌসুমে ধান আবাদ করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে আউশ ও আমন অনন্তকাল ধরে চাষাবাদ হয়ে আসছে। কিন্তু ষাটের দশকের সবুজ বিপ্লবের পর থেকে বোরো আবাদ আস্তে আস্তে জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। সত্তরের দশকে দেশে ধান উত্পাদন ও সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে আস্তে আস্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। সেচের মাধ্যমে বিভিন্ন কৃষি ফসল, বিশেষ করে ধান আবাদের প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে দেশে আউশের জমি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে। কারণ বাংলাদেশের ভূমির বন্ধুরতার ধরনের জন্য সব জমিই তিনফসলি নয়। কোনটা একফসলি, কোনটা দুইফসলি আবার কোনটা তিনফসলি। আবার তিনফসলি হলেও একই জমিতে আউশ-আমন-বোরো তিনটি ধান ফসল একই বছরে করা যায় না। কারণ শস্য আবর্তন, শস্য পর্যায় ইত্যাদি বলতে কিছু বৈজ্ঞানিক কথা আছে। এক বছরে একই জমিতে শুধু ধান ফসল ফলালে এবং কয়েক বছর পরপর শস্য পর্যায় অনুসরণ না করলে দিনে দিনে সেই জমির উর্বরাশক্তি কমে যায়। সেই উপলব্ধি থেকে বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রয়োগ অপরিহার্য। দেখা গেছে, একদিকে বোরোর আওতায় আবাদের জমি বৃদ্ধি পাওয়ায়, অপরদিকে আউশ ধানের ফলন কম হওয়ায় এবং আউশের পরিবর্তে শাকসবজি কিংবা অন্যান্য ফসল আবাদ করার কারণে আউশের জমি কমে যাচ্ছিল। কিন্তু বোরো আবাদ পুরোটাই সেচের ওপর নির্ভরশীল। আবার আমন আবাদ আংশিকভাবে সম্পূরক সেচের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে সেগুলোর উত্পাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে। সেই তুলনায় ফসল ওঠার পরে কৃষক ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে তারা এখন আর আগের মতো আমন ও বোরো আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অপরদিকে দেখা গেছে, আউশ ধানের আবাদের সময় পুরো বর্ষাকাল হওয়ায় সেসময় তার জন্য কোনো বাড়তি সেচের প্রয়োজন হয় না। সেজন্য যেসব এলাকায় আউশের আবাদ করার সুযোগ রয়েছে কিন্তু কৃষকরা তা করছেন না, তাদেরকে সরকারি পর্যায় থেকে উত্সাহ ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন থেকে সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন ছিল।
সম্প্রতি দৈনিক সকালের খবরসহ কয়েকটি পত্রিকায় একটি খবর বেরিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৫২টি জেলার মোট ২ লাখ ৩১ হাজার কৃষক প্রণোদনা পাচ্ছেন। সেই প্রণোদনাটি পাচ্ছেন আউশ ধান চাষের জন্য। দেশের উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ৩৩ কোটি ৬২ হাজার ২৩৫ টাকা অনুদান হিসেবে এ প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এক সংবাদ সম্মেলন হতে সম্প্রতি এ তথ্য জানা গেছে। উক্ত অঞ্চলের জেলাসমূহে যেখানে সেচের সুব্যবস্থা নেই এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আউশনির্ভর জেলাসমূহে আউশের বিভিন্ন জাত জনপ্রিয়করণের লক্ষ্যে এ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। কারণ এ প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্দেশ্য হল আউশ আবাদে কৃষকদের উত্সাহিতকরণ, আবাদের এলাকা বৃদ্ধি, উফশী জাতের সম্প্রসারণ, হেক্টরপ্রতি ফলন বৃদ্ধি, সার্বিকভাবে ধান উত্পাদন বৃদ্ধি। প্রস্তাবিত এ প্রণোদনা কর্মসূচিতে মঞ্জুরকৃত অর্থ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেট হতে সঙ্কুলান করা হবে, যার জন্য উক্ত খাতে সরকারি বরাদ্দের কোনো অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে না। সে ৫২টি জেলা হল-নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখলী, বরগুনা, ভোলা, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ। উক্ত জেলাগুলোতে ২ লাখ ৩১ হাজার ৩৬৩ জন কৃষক প্রতি এক বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি উফশী আউশ ধানের বীজ এবং ১০ কেজি উন্নতমানের নেরিকা জাতের আউশ ধানের বীজ পাবেন। সেই সঙ্গে উক্ত চাষাবাদের কৃষির ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ বাবদ ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি রাসায়নিক সার পাবেন। অপরদিকে সেচ ও আগাছা দমনের খরচ হিসেবে আরও চারশ’ করে নগদ অর্থ পাবেন।
টাকার অঙ্কের হিসাবে এই পরিমাণ অর্থ মোটেও খুব বেশি নয়, কিন্তু সরকারি তরফ থেকে যে সহযোগিতার হাত বাড়ানো হয়েছে সেটাকেই বড় করে দেখতে হবে এখানে। আর এভাবেই ব্যাপক সাফল্যের কৃষি খাত আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে গিয়ে দেশের বর্তমান খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় থাকবে এবং কৃষি ক্ষেত্রের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির আমদানিনির্ভরতা কমে আসবে। পরিমিত শস্যক্রম ও শস্যপর্যায় অনুসরণের মাধ্যমে মাটির ক্ষয়িষ্ণু উর্বরতা সঠিকভাবে বজায় রাখা সম্ভব হবে। দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনাকে সামনে নিয়ে কৃষি উন্নয়নকে টেকসই করার লক্ষ্যে কৃষিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে গত ৭ এপ্রিল ঢাকায় সার্ক কৃষিমন্ত্রীদের এক আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের কৃষি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী তৃতীয় সার্ক কৃষি সম্মেলনের এ অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে সার্কের মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপা, ভারতের কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী রাধা মোহন প্রমুখ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য সার্ক কৃষিমন্ত্রীদের সভাপতি নির্বাচন করা হয়েছে। এর আগে ভারত ছিল এ সংগঠনের সভাপতি। এ সময়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণকল্পে আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ। সেখানে শেখ হাসিনা অধিকতর আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তায় সার্ক ‘ফুড’ ও ‘বীজ’ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে এ অঞ্চলের সবাইকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে নজর দিতে হবে। এগুলো হচ্ছে-স্বল্প দামে উন্নত বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষিকাজে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে ভূ-উপরিস্থিত পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব-পদ্ধতির কৃষির প্রবর্তন, কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ, কৃষি উত্পাদন খরচ হ্রাস, কৃষক পর্যায়ে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, কৃষি বিপণনব্যবস্থা জোরদারকরণ, প্রান্তিক চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষা, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি-মাছের রোগ প্রতিরোধসহ উন্নত চাষ পদ্ধতি চালু এবং এসব কর্ম সম্পাদনের জন্য উন্নততর গবেষণা পরিচালনা করা।
এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, বিগত এক দশকে খাদ্যশস্যের উত্পাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় তিন গুণ এবং শাকসবজির উত্পাদন বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। বছরে ৩৪ মিলিয়ন টন চাল উত্পাদিত করে আমরা চাল উত্পাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করেছি। বর্তমানে নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে আমরা বিদেশে সীমিত পরিমাণে হলেও চাল রফতানি শুরু করেছি। কৃষিতে বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সাফল্য সরেজমিনে দেখার মানসে সার্ক সম্মেলন শেষে ভুটানের কৃষিমন্ত্রী বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গাজীপুর অফিস এবং তার কিছু গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। সেখানে পরিদর্শনকালে বিভিন্ন কার্যক্রম দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ থেকে চালসহ আরও কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য সেদেশে আমদানির আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে গত বছর জাতীয় মাথাপিছু গড় আয় ছিল ১৩১৪ মার্কিন ডলার এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৫ শতাংশ। তার ভিত্তিতেই তখন বিশ্বব্যাংকের র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশের কাতার থেকে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশের কাতারে চলে এসেছে। এর লক্ষ্য হল, ২০২১ সালের আগেই দেশ মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরিত হবে। সেই লক্ষণ ইতোমধ্যে অর্থনীতিতে বইতে শুরু করেছে। কারণ মাত্র কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের মাথাপিছু গড় আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৬৬ ডলারে। সেইসঙ্গে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৭.০৫ শতাংশ। এখানে কৃষি খাতেরও একটি বড় অবদান থাকবে। সেভাবেই কৃষিতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বর্তমান সরকারের ভিশন-২০২১ এবং রূপকল্প-২০৪১ অর্জনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সফলভাবে।