জিজিপি প্রকল্পের আওতায় বিঘায় বেড়েছে ১০ মণ ধান

আধুনিক কলাকৌশল প্রয়োগ করে ও নিয়ম মাফিক পরিমিত সার, শোধন করা বীজ ব্যবহার করে কৃষকরা বিঘাপ্রতি ১০ মণের বেশি ধানের ফলন পাচ্ছে। গত তিন বছর ধরে নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা এই অতিরিক্ত ফলন পাচ্ছে।

বুধবার নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার প্রত্যন্ত রাধানগর গ্রামে বহুজাতিক কোম্পানি সিনজেন্টার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ধান কাটা ও মাঠদিবস’ অনুষ্ঠানে কৃষকরা এসব তথ্য উপস্থাপন করে। তারা বলেন, সাধারণ নিয়মে ধান চাষ করে যেখানে বিঘাপ্রতি ফলন হয় প্রায় ২৬ মণ সেখানে সিনজেন্টা কর্মকর্তাদের তত্ত্ব¡াবধানে জিজিপি (গুড গ্রোথ প্ল্যান) প্রজেক্টের আওতায় আধুনিক কলাকৌশল প্রয়োগ করে বিঘাপ্রতি ৩৬ মণ করে ধানের ফলন পাচ্ছেন। এতে সামান্য বাড়তি খরচ হলেও কৃষকরা পাচ্ছে বিঘাপ্রতি ১০ মণ বেশি ধান। চলতি বোরো মৌসুমেও এ ফলন মিলেছে। ওই গ্রামের অন্তত ১০০ ধানচাষী এবার আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।

মাঠ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান। এছাড়া সিনজেন্টার আঞ্চলিক সেলস ম্যানেজার আব্দুল মালেক ও সেলস ক্যাপাবিলিটি ম্যানেজার আদম আলি উপস্থিত ছিলেন।

তারা জানান, শুধু জিজিপি (গুড গ্রোথ প্ল্যান) প্রজেক্টের অধীন নওগাঁর রাধানগর এলাকার এক শ’ কৃষক ধান চাষে সফল হয়েছেন। দেশে এ পদ্ধতি অনুসরণে প্রতিবছর ২৬ লাখ কৃষক সংযুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ২৩ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষী। মোট ১০টি পাইলট প্রকল্পে কৃষকদের তিনটি অঙ্গীকার দিয়ে সিনজেন্টা ২০১৩ সাল থেকে এ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তাদের তিনটি অঙ্গীকারের মধ্যে ফলন বৃদ্ধি, কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক চাষীদের কৃষি প্রযুক্তিতে সম্পৃক্ত করা।

নওগাঁয় তবুও হাসি নেই কৃষকের

নিজস্ব সংবাদদাতা, নওগাঁ থেকে জানান, আগাম বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভাল পেয়ে কৃষক-কৃষাণীর চোখমুখে আনন্দের ঝিলিক। তবে বর্তমানে ধানের বাজারদর নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন। ধানের তারা ন্যায্যমূল্য পাবেন, নাকি লোকসান গুনতে হবে এমন ভাবনাও করছেন তারা। তার পরও ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষক-কৃষাণীরা। তাদের যেন দম ফেলার সময় নেই। কালবৈশাখী বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই যত তাড়াতাড়ি পারা যায় কৃষক তাদের কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে চান। তাই মাঠে ফসল কাটার পাশাপাশি বাড়ির খলিয়ান তৈরি করাসহ অন্যান্য কাজে ব্যস্ত কৃষাণীরাও। তবে কামলা (কৃষি শ্রমিক) সঙ্কটে যথাসময়ে ধান কাটা-মাড়াই করতে পারবেন কি-না এমন দুশ্চিন্তাও কৃষককে পেয়ে বসেছে। অধিক টাকা দিয়েও জেলায় ধান কাটার জন্য মজুর পাওয়া যাচ্ছে না। ধানের ফলন ভাল হলেও মজুর সঙ্কট কৃষকদের বিপাকে ফেলেছে।