তারুণ্যের উত্থান :সম্ভাবনার অপার হাতছানি – মোতাহার হোসেন

শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায়ও যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সরকারের স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের হাসপাতাল-ক্লিনিকও গড়ে উঠেছে মফস্বলে। ঢাকার সঙ্গে সড়কপথে সারাদেশের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত জেলা সদর কিংবা রাজধানীতে আনা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়ে ওঠায় মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয়েছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে একসময় সমস্যা হিসেবে ভাবা হতো। এখন সেই বর্ধিত জনসংখ্যা আর সমস্যা, বোঝা বা আপদ নয়। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা শোনা যায়। সম্প্রতি দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৫ শতাংশ অর্জন এবং মানুষের মাথাপিছু গড় আয় ১ হাজার ৪৬৬ ডলারে উন্নীত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে সরকার। এটা মূলত মানুষের জীবনমানের উন্নয়নেরও ইনডিকেটর হিসেবে বিবেচিত হয়। এ খবর নিশ্চয় দেশবাসীর জন্য আশার বাণী বহন করে আনবে। মূলত এর নেপথ্যে শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎসহ সামগ্রিক খাতের উন্নয়নের বহিঃপ্রকাশ। আর এর পেছনের কারিগর হচ্ছে এ দেশের মেহনতি শ্রমজীবী, কৃষক, প্রতিশ্রুতিশীল ও মেধাবী তারুণ্যের উত্থান ও কর্মোদ্যমী প্রচেষ্টা। যেখানে এখনো বিদ্যুতের আলো পেঁৗছেনি, সেখানেও বহু আগে পেঁৗছে গেছে শিক্ষার আলো। পাড়ায় পাড়ায় এখন শিক্ষিত লোক পাওয়া যায়। ডাক্তার-প্রকৌশলীও হচ্ছে গ্রামের মানুষ। কৃষি উৎপাদন ব্যাপকহারে বাড়ায় এবং শিল্পায়ন ও সড়ক অবকাঠামো গড়ে ওঠায় শিল্পপণ্য যেমন মুহূর্তে পেঁৗছে যাচ্ছে গ্রামের মুদি দোকানে, তেমন কৃষকের পণ্যও আসছে রাজধানীতে। মানুষের খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসাসেবা সবই পেঁৗছে গেছে গ্রাম পর্যায়ে। ফলে দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি জীবনমানেরও উন্নতি হয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে সবচেয়ে বেশি। দেশে এখন কর্মসংস্থান আছে ৫ কোটি ৮১ লাখ মানুষের। এর মধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ১২ লাখ, বাকি ১ কোটি ৬৮ লাখ নারী। এর আগের জরিপ অনুযায়ী তখন কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল ৫ কোটি ৪১ লাখ মানুষ। সে হিসেবে কর্মসংস্থান বেড়েছে ৪০ লাখ। এই সময়ে শিল্প ও সেবা খাতে নারীর অন্তর্ভুক্তি বেড়েছে। ২০১০ সালে ১ কোটি ৬২ লাখ নারী কৃষি, ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। তা এখন বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৬৮ লাখ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, দেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭০.৭ বছর। তাদের ২০১৪ সালের জরিপে পুরুষের গড় আয়ু এখন ৬৯.১ আর নারীর ৭১.৬ বছর। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশিদের গড় আয়ু প্রথম প্রণয়ন করা হয় ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে। তখনকার ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সের ওই হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ছিল ৫০.৭ বছর। অর্থাৎ গত ৪২ বছরে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে ২০ বছর। প্রতি ১ বছরে প্রায় ৬ মাস করে আয়ু বেড়েছে বাংলাদেশিদের। অবশ্য জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের হিসাবমতে, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ জনসংখ্যার বোনাসকাল উপভোগ করছে, যা ২০৪০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ এ সময়ে দেশের জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি থাকে ১৫ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। ১ থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী জনসংখ্যাও কমতে থাকে। একই সঙ্গে ৫৯ বছরের ওপর জনসংখ্যা থাকে সবচেয়ে কম। মধ্যবর্তী বয়সী এই মানুষরা উপার্জন করতে পারে, ফলে অন্যের ওপর নির্ভশীলতা কমে। এতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নতি হয়। সর্বাধিক কর্মক্ষম এ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কাজের পরিবেশ তৈরি করাটা জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এ বিপুল জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন কর্মপরিকল্পনা। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও নিতে হবে এখন থেকেই। স্বাস্থ্য খাতের বিকাশের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে দেশে একদিকে যেমন মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, বেড়েছে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাও। ফলে দেশের জনসংখ্যা বোঝা নয়, এটি হতে পারে অন্যতম সম্পদ। বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর সুবর্ণ সুযোগ এখনই। জাপান, চীন, শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ যেখানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীস্বল্পতায় শঙ্কিত, সেখানে বাংলাদেশ ঠিক তার উল্টো। বাংলাদেশের জন্য এ সুযোগ তৈরি হয়েছে ২০১২ সাল থেকে। এ বয়সসীমার মানুষই সবচেয়ে কর্মক্ষম, যারা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। বিবিএসের সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি ৭ লাখ, যা মোট জনগোষ্ঠীর ৩৯ শতাংশ। এ সুযোগ কাজে লাগাতে সবার আগে প্রয়োজন জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা। তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া। প্রয়োজন বিদেশের শ্রমবাজার উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। কর্মক্ষম মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। আর তা করতে গেলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সামগ্রিকভাবে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি। এটা সত্য, ২০৩১ সালের পর বার্ধক্যে পড়া লোকের সংখ্যা বেড়ে যাবে, এখন থেকেই তাদের জন্য বিকল্প চিন্তাভাবনা শুরু করা উচিত।
এ লেখার সঙ্গে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও যৌক্তিক বলে মনে হয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের মরমি কবি ও গবেষক ইবনে সালেহ মুনতাসিরের লেখা ‘মানুষ আজ আর দেশের বোঝা নয়’ লিরিকটি। তিনি তার এ লিরিকে লিখেছেন : ‘মানুষ আর দেশের সমস্যা নয় আজ/মানুষ হলো বড় সম্পদ হাতিয়ার তাই তো সাজ/দিকে দিকে শুনি কর্মীদের পদধ্বনি/সস্তা শ্রমের কারণে সারা দুনিয়ায় বাংলার জয়ধ্বনি বাংলা আজ সারা দুনিয়ার বিনিয়োগের শেষ ঠিকানা/যে দেশেতে বহমান পদ্মা মেঘনা যমুনা/দামে কম মানে সেরা বাংলা আজ অধরা/বাংলার কর্মীরা আজ দামে গুণে দুনিয়ার সেরা রপ্তানি যে বাংলার পেশা আর নেশা/সেরা রপ্তানি পণ্য বানানোই আমাদের আশা/মধ্যম আয়ের পরে উচ্চ আয়ের দেশে শামিল হতে চাই/আটাশ বিলিয়নের পরে পঞ্চাশ একশ বিলিয়নের রিজার্ভ চাই সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কত রপ্তানি অঞ্চল/পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলারে পেঁৗছাতে করেছে অনেক অর্থনৈতিক জোন/একশ বিলিয়নের জন্য করব মোরা আরো শতাধিক জোন/বিনিয়োগের শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ বিশ্ববাসী শোন ‘ এটা সত্য যে, জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করতে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে হবে। এজন্য বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগ স্থবির। এটা সত্য, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তাহলে জনসংখ্যাকেও জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। এ ডিভিডেন্টকে অবশ্যই সুপরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে নিতে হবে ইতিবাচক ভূমিকা। কর্মক্ষম এ জনগোষ্ঠীকে সর্বাধিক কাজে লাগাতে হলে প্রচুর কাজের সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ব্যক্তি উদ্যোগের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ দরকার। অবকাঠামো সৃষ্টিতে সর্বাধিক সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নজর দিতে হবে শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে। সবার মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টির জন্য এবং আয়বৈষম্য কমিয়ে আনা, দুর্নীতি দমনে দরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আর মাথাপিছু আয়ে অনেক এগিয়ে থাকা ভারতের মানুষের চেয়েও বাংলাদেশের মানুষ বাঁচে গড়ে ২ বছর বেশি। ইউএনএফপিএর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত হওয়ায় মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। সংস্থাটি বলছে, ২০২১ সালে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়াবে ৭৩ বছরে। আর ২০৬১ সালে তা বেড়ে হবে ৭৯ বছর। পুরুষের চেয়ে নারীর গড় আয়ু বাড়বে বেশি। মূলত বেশি টেনশন করার কারণে পুরুষের গড় আয়ু কমছে। দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে বহুগুণ, বেকারের সংখ্যা কমেছে, বেড়েছে কর্মসংস্থান। মানুষ এখন আর না খেয়ে থাকে না। সরকার গরিব লোকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কৌশলপত্রে অর্থায়ন বাড়াচ্ছে। এসব কারণে মৃত্যুহার কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মানুষের গড় আয়ুও বাড়ছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য আসছে। দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ এশিয়ার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। সেখান থেকে ফিরে এসে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা। ছেলেদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মেয়ে শিক্ষার্থীও বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সরকারি-বেসরকারি খাতে শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করছে।
শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায়ও যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সরকারের স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের হাসপাতাল-ক্লিনিকও গড়ে উঠেছে মফস্বলে। ঢাকার সঙ্গে সড়কপথে সারা দেশের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত জেলা সদর কিংবা রাজধানীতে আনা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়ে ওঠায় মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয়েছে।
তেমনি পরিবারের সদস্যসংখ্যা কম হওয়ায় উপার্জনকারী সদস্যের ওপর নির্ভরশীলদের সংখ্যাও কমছে। শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে অর্থনৈতিকভাবে একে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসছে। ২০১০ সালের জরিপে নির্ভরতার হার ছিল ৬৯ শতাংশ, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৬৭ শতাংশে। অর্থাৎ আগে একজন নারী তার পরিবারের একজন উপার্জনক্ষম পুরুষের ওপর নির্ভরশীল থাকতেন। তা প্রতিনিয়ত কমছে। অর্থাৎ পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের সবাই কিছু করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া গত ৩ বছরে কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীলতার হারও কমেছে। মানুষ এখন ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতের দিকে ঝুঁকছে। তথ্য অনুযায়ী, কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত ৪৫ শতাংশ মানুষ। আর ৫৫ শতাংশ মানুষ ম্যানুফ্যাকচারিংসহ অন্যান্য কাজে যুক্ত। তবে শিক্ষা ও কারিগরি জ্ঞানের অভাবের কারণে বাংলাদেশের শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার চেয়ে অনেক কম। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। বাংলাদেশ ১ কোটিরও বেশি শ্রমশক্তি রপ্তানি করে বছরে ১৮ বিলিয়ন (১ হাজার ৮০০ কোটি) ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করছে। তথ্যানুযায়ী, ২০১৩ সালে দেশে যেখানে সাক্ষরতার হার ছিল ৫৭.২ শতাংশ, ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮.৬ শতাংশে। ৭ বছরের বেশি বয়সীদের শিক্ষার হারের আলোকে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষের শিক্ষার হার ৬০.৭ শতাংশ। আর নারীর মধ্যে সাক্ষরতার হার ৫৬.৬ শতাংশ। গ্রামে ৫৭.২ শতাংশ পুরুষ ও ৫৩.১ শতাংশ নারী শিক্ষিত। শহর অঞ্চলে ৭০.৫ শতাংশ মানুষ সাক্ষরতার আওতায় এসেছে। শহরে পুরুষের সাক্ষরতার হার ৭২.৬ আর নারীর সাক্ষরতার হার ৬৮.৬ শতাংশ। বর্তমানে আলোর উৎস হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে ৬৮ শতাংশ মানুষ। ২০১৩ সালে এ হার ছিল ৬৬.৯ শতাংশ। কেরোসিন ব্যবহারকারী কমে দাঁড়িয়েছে ৩১.৪ শতাংশে, যা ২০১৩ সালে ছিল ৩২.৩ শতাংশ। ২০১৪ সালে স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩.৫ শতাংশে, যা ২০১৩ সালে ছিল ৬৩.৩ শতাংশ। এখনো খোলা স্থানে মলত্যাগ করে ২.১ শতাংশ মানুষ। ২০১৩ সালে এ হার ছিল ২.২ শতাংশ। মোটা দাগে দুটি কারণে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। প্রথমত, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন আর দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি।
দেশে এখন শিশুদের টিকা দেয়ার হার বেড়েছে। আগের তুলনায় স্বাস্থ্যসেবার মান বেড়েছে। স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের হারও বেড়েছে। মানুষ তার নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি বেশ যত্নশীল। সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবহার বেড়েছে। সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রেও মানুষ এখন সচেতন। এ ছাড়া দেশে কলেরার মতো মহামারী বা বড় ধরনের কোনো রোগবালাই নেই বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুতনয়া শেখ হাসিনার ‘ভিশন ২০২১’ বাস্তবায়ন হলে দেশের মানুষের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান হবে আরো সম্মানের এবং মর্যাদার। আমাদের প্রত্যাশা দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় বিদ্যমান কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগ নেবেন।