জনশক্তি রফতানির নতুন বাজার রাশিয়া

বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার। এ অবস্থায় জনশক্তি রফতানির নতুন বাজার হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে রাশিয়া। তৈরি পোশাক, নির্মাণ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশী কর্মী নিতে চায় দেশটি। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে এরই মধ্যে চাহিদাপত্রও (ডিমান্ড লেটার) পাঠিয়েছে রাশিয়া। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার গবেষণা সেল) মো. আবদুর রউফ এ প্রসঙ্গে বলেন, চলতি বছর জনশক্তি রফতানির হার বেড়েছে। নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানে আমরা কাজ করছি। কোন দেশে কী ধরনের কর্মী লাগবে, তা দেখা হচ্ছে। সেভাবেই কাজ করছে আমাদের শ্রমবাজার গবেষণা সেল। শিগগিরই বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সঙ্গে রাশিয়া নতুন করে যুক্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটি থেকে ৪০০ জনের ডিমান্ড লেটার পাওয়া গেছে। তৈরি পোশাক, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে এসব কর্মী যাবেন।

জানা গেছে, নতুন শ্রমবাজারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় সরকারিভাবে সীমিত পরিসরে দক্ষ জনশক্তি রফতানি শুরু হচ্ছে চলতি বছর। পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ম্যাকাও, হংকং, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, কানাডা, সুইডেন, অ্যাঙ্গোলা, গ্রিস, জর্ডান, ইতালি, সাইপ্রাস, সুদান, লাইবেরিয়া, তাঞ্জানিয়া, এস্তোনিয়া, আজারবাইজান, নাইজেরিয়া, বতসোয়ানা, সিয়েরালিওন, তাইওয়ান, স্পেন, পোল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, চেক রিপাবলিক, বেলজিয়াম, জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশেও শ্রমবাজার সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছিল মন্ত্রণালয়। বিগত বছরে মন্ত্রণালয় গঠিত প্রতিনিধি দল একাধিকবার এসব দেশ সফরও করেছে।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব দেশে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে অনেক দেশের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় কূটনৈতিক অদক্ষতায় জনশক্তি রফতানিতে মন্দাভাব এসেছে। এছাড়া মানব পাচার আইন, ব্যয় সাশ্রয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ছাঁটাই এবং অফিস ছোট করায় শ্রমবাজারগুলোয় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি রয়েছে দেশের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা। এ অবস্থায় নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির বিকল্প নেই।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২ লাখ ৯ হাজার ৩২৭ জন কর্মী বিভিন্ন দেশে গেছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে গেছেন ৬৩ হাজার ৯৯৮ জন। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন দেশে গেছেন ৬২ হাজার ২৪ জন ও মার্চে ৬৪ হাজার ৮৪৬ জন। এর মধ্যে নারী কর্মী রয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৭৯ জন।\