পরিবেশ রক্ষায় হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প সরানো হবেই

দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু দলটির নীতিনির্ধারকদের একজন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন তিনি। সরকারি কলকারখানা গতিশীল করতে একগুচ্ছ কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের অভিভাবক হিসেবে শিল্প মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছেন। বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘদিনের সমস্যা রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সরিয়ে সাভার শিল্প নগরীতে স্থানান্তরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সার সরবরাহে রয়েছে সফলতা। চিনি শিল্প আধুনিকীকরণ ও বিএসটিআইয়ের মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এরই মধ্যে ভারত, রাশিয়া, মিয়ানমার, ওমান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পুঁজি বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরে সক্ষম হয়েছেন। শুধু বৃহৎ শিল্পই নয়, শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের এ দুই বছরে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প খাতেও উত্পাদন, কর্মসংস্থান ও বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো শিল্পমন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাষ্ট্রপতি শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে শিল্প খাতের আধুনিকায়নে যুগোপযোগী শিল্পনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাত্কারে শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের দুই বছরে তাঁর গ্রহণ করা বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন ফারজানা লাবনী কালের কণ্ঠ : আপনি দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের একজন। একই সঙ্গে শিল্পমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। কিভাবে কাজের সমন্বয় করেন? আমির হোসেন আমু : সেই কিশোর বয়স থেকেই মানুষের জন্য কাজ করে চলেছি। রাজনীতিতে ঘটা করে যোগ দিইনি। মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়েই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। দেশ স্বাধীন করেছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চাই। ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। অবসর কাকে বলে জানি না। আমার জীবনটাই কাটছে ব্যস্ততায়। আওয়ামী লীগের আদর্শ বুকে ধারণ করে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পালন করে মন্ত্রণালয়ের কাজ করি। একইভাবে দলীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন করি। কোথাও কোনো সমস্যা হয় না। কালের কণ্ঠ : আওয়ামী লীগ যে লক্ষ্য নিয়ে গত ও বর্তমান মেয়াদে সরকারের দায়িত্ব নিয়েছে আপনার দৃষ্টিতে তার কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে এবং হচ্ছে? আমির হোসেন আমু : বাংলাদেশকে এখন আর ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিদেশে অর্থ চেয়ে বেড়াতে হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই স্বনির্ভর হয়েছে। বড় অঙ্কের রিজার্ভ রয়েছে। রপ্তানি আয় বাড়ছে। তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ এখন প্রথম সারিতে, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙা, আইসিটি, ওষুধ, চামড়াসহ শিল্পের বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের গত সাত বছরের অর্জন চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থায় উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বের জন্য রোল মডেল। কালের কণ্ঠ : গত দুই বছর শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে কতটা সন্তুষ্ট? আমির হোসেন আমু : আমি চেষ্টা করেছি সরকারি প্রতিষ্ঠান লাভে আনতে। একই সঙ্গে বেসরকারি শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছি। বেসরকারি খাতের অভিভাবক হিসেবে শিল্প মন্ত্রণালয় পরিচালনার চেষ্টা করেছি। বিনিয়োগ ও শিল্পসহায়ক নীতি সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছি। সঠিক পথেই আছি। আশা করি সফল হব। কালের কণ্ঠ : রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারির কারণে বুড়িগঙ্গার পানি নষ্ট হচ্ছে, জনজীবন হুমকিতে আছে। অনেক বছর থেকে চেষ্টা করেও এসব ট্যানারি সরানো সম্ভব হচ্ছে না। আপনি শিল্পমন্ত্রী হওয়ার পর ট্যানারি স্থানান্তরে অগ্রগতি কতটা? আমির হোসেন আমু : হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরানো হবেই। এ বিষয়ে কোনো চক্রান্ত করে কাজ হবে না। কাউকে এ নিয়ে খেলতে দেওয়া হবে না। বুড়িগঙ্গার পানি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হাজারীবাগ ও আশপাশের মানুষের জীবন হুমকির মুখে। সাভারে চামড়া শিল্প নগরী প্রস্তুত। সিটিপি ট্যানারির বর্জ্য পেলেই কাজ শুরু করবে। কোনো টালবাহানা করতে দেব না। আমি হাজারীবাগ দূষণমুক্ত করবই। এটা আমার চ্যালেঞ্জ। ট্যানারি মালিকদের অনুকূলে সরকারের বরাদ্দকৃত ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান কার্যক্রম ও কারখানা নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে সিটিপির দুটি মডিউল নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৩১ জানুয়ারি, ২০১৬ থেকে ডেমো টেস্ট রান অব্যাহত রয়েছে। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য মালিকদের মধ্যে ৫২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ট্যানারি স্থানান্তর ও সাভারে কারখানা নির্মাণকাজে গতি পেয়েছে। সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে ট্যানারি স্থানান্তর প্রক্রিয়া অতিদ্রুত সম্পন্ন সম্ভব হবে বলে আশা করছি। ঢাকা মহানগরী ও বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ রোধে রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পগুলোকে সাভারে স্থানান্তরের লক্ষ্যে ১৫৫টি শিল্প ইউনিট ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২০০ একর জমি এরই মধ্যে প্লট হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কালের কণ্ঠ : দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহে আপনি সফলতা দেখিয়েছেন। সার দেশে উত্পাদন না করে বিদেশ থেকে আমদানিতে বড় অঙ্কের অর্থ চলে যাচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানে কিছু ভেবেছেন? আমির হোসেন আমু : অবশ্যই। দুই বছর ধরে দেশে সুষ্ঠু সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের কোথাও সারের কোনো ধরনের সংকট হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশে কখনো সারের ঘাটতি হয়নি। অথচ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে সারের জন্য কৃষকদের আন্দোলন করতে হয়। সারের জন্য কৃষকদের জীবনও দিতে হয়েছে। কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সারা দেশে ২৭ লাখ টন ইউরিয়া সারের চাহিদার বিপরীতে বিসিআইসির আওতাধীন কারখানাগুলোয় আট লাখ ৭৮ হাজার ৩৬০ টন ইউরিয়া সার উত্পাদন হয়েছে এবং ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৫১৭ টন ইউরিয়া সার আমদানি করা হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সারা দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ২৮ লাখ টন নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১১ লাখ ৮৬ হাজার ১৬৩ টন ইউরিয়া সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ ৫০ হাজার টন। ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত চার লাখ ৬৫ হাজার ৪১৯ টন ইউরিয়া সার উত্পাদিত হয়েছে এবং পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ১১৭ টন ইউরিয়া সার আমদানি করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এবং দেশে ইউরিয়া সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে চার হাজার ৮৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জে বার্ষিক পাঁচ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টন গ্রানুলার ইউরিয়া উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে এবং পূর্ণমাত্রায় সার উত্পাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। চীনা নির্মাণ সংস্থা কর্তৃক কারখানাটি অল্প সময়ের মধ্যে সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণ ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে একটি মেগা ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন দুই হাজার ৮০০ টন গ্রানুলার ইউরিয়া উত্পাদন সম্ভব হবে। সার সংরক্ষণ ও বিতরণে সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি বাফার গোডাউন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কালের কণ্ঠ : সরকারি কলকারখানা বেসরকারীকরণে আপনার পদক্ষেপ কী? লোকসানি কলকারখানা মুনাফায় আনতে কী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন? আমির হোসেন আমু : আর কোনো সরকারি কলকারখানা ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। আস্তে আস্তে সব কটিই মুনাফায় আনা হবে। এরই মধ্যে চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স আবার চালু করার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে এবং ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশ। সিমেন্ট ও ক্লিংকার উত্পাদনের জন্য ছাতক সিমেন্ট কারখানা বিএমআরই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের বন্ধ কারখানা চালু করার অংশ হিসেবে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল প্রাঙ্গণে একটি নতুন পেপার মিল স্থাপনের জন্য প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। কালের কণ্ঠ : কয়েক দফা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি চিনি কলগুলো বন্ধে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসব কারখানা সরকারের জন্য বোঝা বলে অনেকে মনে করেন। এ শিল্প বাঁচাতে আপনার পরিকল্পনা কী? আমির হোসেন আমু : চিনিকলগুলোয় পণ্য বৈচিত্র্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ছয়টি চিনিকলে পুরনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫টি চিনিকলে ইটিপি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ ও জুস ক্লারিফিকেশন অ্যান্ড ফিলট্রেশনের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও চিনিকলে সুগারবিট থেকে চিনি উত্পাদন ও নর্থ বেঙ্গল চিনিকলে চিনি উত্পাদনের সঙ্গে ‘কোজেনারেশন পদ্ধতি’তে বিদ্যুৎ উত্পাদন, বায়োগ্যাস ও ডিস্টিলারি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাবনা চিনিকলে জৈব সার উত্পাদনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ঝিলবাংলা চিনিকলে বিএমআর করে উত্পাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আখচাষিদের কল্যাণে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে প্রতি কুইন্টাল আখের মূল্য মিলগেটে ২৫০ থেকে বৃদ্ধি করে ২৭৫ টাকা ও বহির্কেন্দ্রে ২৪৪ থেকে বৃদ্ধি করে ২৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে আখ উত্পাদনের জন্য চাষিদের মধ্যে প্রায় ৫২ কোটি ১৭ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। কালের কণ্ঠ : শিল্পনগরী স্থাপনে অগ্রগতি কত দূর? আমির হোসেন আমু : দেশি ওষুধ শিল্পের উন্নয়ন ও এ খাতে রপ্তানি বাড়াতে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েনস (এপিআই) শিল্পপার্ক স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এ লক্ষ্যে ২০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি সম্পন্ন হলে ৪২টি শিল্প-কারখানায় ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল দেশে প্রস্তুত করে সুলভ মূল্যে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। রাজধানীর আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা থেকে সব কেমিক্যাল গোডাউন ও কারখানা অপসারণের লক্ষ্যে উন্নত ভৌত অবকাঠামো সমৃদ্ধ ও স্বাস্থ্যসম্মত কেমিক্যাল পল্লী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক কারখানা ও মুদ্রণ শিল্পকে ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব স্থানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য এরই মধ্যে বিসিক প্লাস্টিক শিল্পনগরী প্রকল্পটি একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। ইলেকট্রিক্যাল গুডস ম্যানুফ্যাকচারিং ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী স্থাপনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জে ৪০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পপার্ক, রংপুরের নিশবেতগঞ্জ-রাধাকৃষ্ণপুর শতরঞ্চি শিল্প উন্নয়ন কেন্দ্র, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিসিক স্পেশাল ইকনোমিক জোন (টেক্সটাইল), বরগুনা শিল্পনগরী, মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরী, কুমিল্লা শিল্পনগরী সম্প্রসারণ-২ ও গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রয়েছে। পাশপাশি নরসিংদী, রাউজান, মাদারীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বরিশাল, ঢাকা, জামালপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, পিরোজপুর, কক্সবাজার, সিলেট শিল্পনগরীগুলো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কালের কণ্ঠ : দেশের লবণচাষিরা নায্য মূল্য পায় না। অন্যদিকে একশ্রেণির ব্যবসায়ী লবণ আমদানির দাবি জানিয়ে আসছেন। দেশি লবণ শিল্প রক্ষায় শিল্প মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিয়েছে? আমির হোসেন আমু : ২০১৩-২০১৪ মৌসুমে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ১৭ লাখ ৫৩ হাজার টন লবণ উত্পাদন হয়েছে। ২০১৪-১৫ মৌসুমে লবণ উত্পাদন হয়েছে ১২ লাখ ৮২ হাজার টন। লবণচাষিদের মূল্য সহায়তা দিতে বর্তমান সরকার ২০১৪ সালে ভোজ্য লবণ আমদানি নিষিদ্ধ করে। দেশের শতভাগ পরিবারকে আয়োডিনযুক্ত ভোজ্য লবণ ব্যবহারের আওতায় আনা ও ৯০ শতাংশ ভোজ্য লবণে পরিমিত পরিমাণে আয়োডিন মিশ্রণ নিশ্চিতে ৭১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ তৈরির মাধ্যমে আয়োডিন ঘাটতি পূরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পের অগ্রগতির হার ৮৪ শতাংশ। বর্তমানে দেশে আয়োডিনের অভাবজনিত কারণে সৃষ্ট গলগণ্ড রোগ অনেকাংশে কমে এসেছে। আয়োডিনযুক্ত লবণ উত্পাদনে সহায়তার অংশ হিসেবে ইউনিসেফের সহায়তায় লবণ মিল মালিকদের মধ্যে ২৬৭টি সল্ট আয়োডাইজেশন প্ল্যান্ট (এসআইপি) বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের জন্য জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত খাত কি সম্ভাবনাময় শিল্প খাত? আমির হোসেন আমু : সীতাকুণ্ড উপজেলার সাতটি মৌজা নিয়ে শিপ ব্রেকিং ও শিপ রিসাইক্লিং জোন ঘোষণা করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পটুয়াখালী জেলায় নির্মাণাধীন পায়রা বন্দরের কাছাকাছি পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ও জাহাজ নির্মাণের জন্য বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার বড় নিশানবাড়িয়া মৌজায় শিপ রিসাইক্লিং জোন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ‘বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ আইন, ২০১৫’ দ্রুত কার্যকর করে এর আলোকে ‘বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ বোর্ড’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ বোর্ড দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিকাশ ও এর অবদান কাজে লাগাতে সক্রিয় থাকবে। পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিকাশে IMO ও NORAD-এর সহায়তায় ‘Safe and Environmentally Sound Ship Recycling in Bangladesh’ শীর্ষক একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কালের কণ্ঠ : অটোমোবাইল শিল্প নিয়ে আপনার উদ্যোগ ও পরিকল্পনা কী? আমির হোসেন আমু : বিএসইসির ‘প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ জাপানের মিত্সুবিশি জিপ, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ভারতের মাহেন্দ্র কম্পানিরScorpio S10 মডেলের SUV Jeep ও ডাবল কেবিন পিকআপ এবং চীনের ফোডে অটোমোবাইলস লিমিটেডের Landfort মডেলের SUV Jeep সংযোজনপূর্বক বাজারজাত করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভারতের টাটা মোটরসের বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুল্যান্স ইত্যাদি সংযোজনপূর্বক বাজারজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেডের কারখানায় স্থানীয়ভাবে মোটরসাইকেল উত্পাদন ও সংযোজনের জন্য চীনের জনশেন মোটরসাইকেল ম্যানুফেকচারিং কম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিটাক ৩৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ তৈরি এবং মেরামত করেছে। ফলে দেশের প্রায় ৯০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে। প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বিটাক, বগুড়া প্রকল্প’ বাস্তবায়ন হওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষ কারিগরি জনবল সৃষ্টি করে দারিদ্র্যবিমোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন টিউবস লিমিটেডের কারখানায় এলইডি ভাল্ভ উত্পাদনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি ইতিমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। ইতিমধ্যে জার্মানির GIZ-এর আর্থিক সহায়তায় বিএসটিআইয়ে একটি আধুনিক energy efficient testing ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশে Conventional পাওয়ার জেনারেশন থেকে উদ্ভূত গ্রিন হাউস গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে এসি, রেফ্রিজারেটর, ফ্যান, বৈদ্যুতিক মোটর, বৈদ্যুতিক ব্যালাস্ট, সিএফএল পণ্যগুলোর জন্য জ্বালানি দক্ষ মান ও লেবেলিং বাস্তবায়ন এবং আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প-কারখানায় জ্বালানি দক্ষ পণ্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ে একটি এনার্জি এফিসিয়েন্সি সেল গঠন করা হয়েছে। কালের কণ্ঠ : শিল্প খাতের জন্য দিকনির্দেশনা প্রণয়নের অগ্রগতি কত দূর? আমির হোসেন আমু : জাতীয় আয়ে শিল্প খাতের অবদান ২৮ থেকে ৪০ শতাংশ এবং মোট কর্মসংস্থানের অবদান ১৬ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। পণ্য ও সেবার গুণগত মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় মাননীতি, শিল্প প্লট বরাদ্দ নীতিমালা এবং লবণনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। হস্ত ও কারুশিল্প বিকাশের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে হস্ত ও কারুশিল্প নীতিমালা-২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি জোরদারের লক্ষ্যে জাতীয় মেধাসম্পদনীতি ও বিনিয়োগনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেধাসম্পদের সুরক্ষায় ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) আইন ২০১৩, ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতিজনিত রোগবালাই প্রতিরোধে ভোজ্য তেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ আইন ২০১৩ এবং ‘ভোজ্য তেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ বিধিমালা-২০১৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশসম্মত জাহাজ ভাঙা ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্প সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ আইন-২০১৫’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। কালের কণ্ঠ : শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আপনি যেসব দ্বিপক্ষীয় পুঁজি বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, সে সম্পর্কে কিছু বলুন? আমির হোসেন আমু : বাংলাদেশে বিনিয়োগসংক্রান্ত পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পুঁজি বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাশিয়া, মিয়ানমার, ওমান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পুঁজি বিনিয়োগসংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। গত বছরের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে বিএসটিআই ও ভারতীয় মান সংস্থা ‘ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস’-এর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কালের কণ্ঠ : সরকারি কলকারখানার বর্তমান হালচাল কেমন? আমির হোসেন আমু : বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) আওতাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ৭০০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য উত্পাদন এবং ৭৬০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য বিক্রয়ের মাধ্যমে ৭৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট, ট্যাক্সসহ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মোট ২৪৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা প্রদান করেছে। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প খাতে বিশেষ নজরদারি করা হয়েছে। জানুয়ারি ২০১৪ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ মেয়াদে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প খাতে বিসিকের নিজস্ব ঋণ কর্মসূচি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন ও উদ্যোক্তাদের নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে ৩৯৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। বিসিকের ৭৪টি শিল্পনগরীতে উত্পাদনরত শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ৪৩০৬টি। এর মধ্যে ৯৫০টি শিল্প ইউনিট রপ্তানিমুখী। কারখানাগুলোতে গত দুই বছরে প্রায় ৮৬,৪৪১ কোটি টাকার পণ্য উত্পাদিত হয়েছে। এর মধ্যে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৮,৩৩৭ কোটি টাকার পণ্যসামগ্রী। কালের কণ্ঠ : শিল্প মন্ত্রণালয় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কী ভূমিকা রেখেছে? আমির হোসেন আমু : গত দুই বছরে শুধু বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত শিল্প-কারখানাগুলোতে এক লাখ ৮৯ হাজার জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তাকেন্দ্র (বিটাক) হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত ৯,৪৮৩ জন পুরুষ ও ৬,২৮০ জন মহিলাসহ মোট ১৫,৭৬৩ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। প্রশিক্ষণ শেষে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত ২,৭০২ জন পুরুষ ও ২,৬১৬ জন মহিলাসহ মোট ৫,৩১৮ জন বিভিন্ন কারখানায় চাকরি পেয়েছে। কালের কণ্ঠ : অনেক দেশে বিএসটিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতা না থাকায় বাংলাদেশের ব্যবসা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে? পণ্য ও সেবার গুণগতমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না। এ বাধা দূর করতে শিল্প মন্ত্রণালয় কী করছে? আমির হোসেন আমু : বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) গতিশীল করতে একগুচ্ছ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশব্যাপী ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে আম, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান ও প্রচারণা চালানো হয়েছে। ফলে গত মৌসুমে ফরমালিন ও কার্বাইডের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার কমে এসেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিএসটিআইয়ের জনবল বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিলেট ও বরিশাল বিভাগে বিএসটিআইয়ের অফিস-কাম-ল্যাবরেটরি স্থাপনপূর্বক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ফরিদপুর, কুমিল্লা, রংপুর, কক্সবাজার ও ময়মনসিংহে বিএসটিআইয়ের অফিস-কাম-ল্যাবরেটরি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। নিজস্ব অবকাঠামো নির্মাণের আগ পর্যন্ত রংপুর ও কুমিল্লা জেলা সদরে অস্থায়ীভাবে ভাড়া বাড়িতে বিএসটিআই মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষণ কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসটিআইয়ের বিভিন্ন ল্যাবরেটরি ভারতের NABL থেকে Accreditation অর্জন করেছে। বিএসটিআইয়ের Product Certification -এর আওতায় এ পর্যন্ত ১৪টি পণ্যের জন্য ভারতের National Accreditation Board for Certification Body থেকে Accreditation পাওয়া গেছে। বিএসটিআইয়ের সব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ায় রপ্তানি বাণিজ্যে সৃষ্ট কারিগরি বাধা দূর হবে এবং দেশীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে অবাধে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদিত যৌথ ইশতেহারের ৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে ভারতীয় ক্রেডিট লাইন এগ্রিমেন্টের আওতায় প্রায় ২৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘Modernization & Strengthening of BSTI’ শীর্ষক একটি টসনত্বষষধ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শেষ পর্যায়ে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্যপণ্য, স্বর্ণ ও ইট পরীক্ষণের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতিসংবলিত টেস্টিং ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। JDCF-এর সহায়তায় নির্মিত ভবনে কেমিক্যাল মেটোরোলজি ল্যাব প্রতিষ্ঠার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যবৈষম্য দূর করা এবং দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ৬ জুন, ২০১৫ দুই দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএসটিআই ও বিআইএসের মধ্যে BCA স্বাক্ষর করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই দেশই বর্তমানে কাজ করছে। IFC-এর কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বিএসটিআইয়ের প্রোডাক্ট সার্টিফিকেশন সিস্টেমকে ডিজিটালাইজেশন করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত সেবাগ্রহীতাদের কাছে পৌঁছে দিতে মোবাইল অ্যাপস চালু করা হয়েছে। কালের কণ্ঠ : পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর ওপর নজরদারিতে বিএবি কাজ করছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ প্রতিষ্ঠান গতিশীলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? আমির হোসেন আমু : বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) ২০১৪ সালে APLAC-এর পূর্ণ সদস্য পদ অর্জন করেছে। বিএবি ফুড, টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যাল, সিমেন্ট টেস্টিং ল্যাবরেটরি এবং মেডিক্যাল প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরিকে অ্যাক্রেডিটেশন প্রদানের সক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কারিগরি প্রতিবন্ধকতা সফলভাবে মোকাবিলা করে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি ও গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। কালের কণ্ঠ : নীতি-সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার কাজকে আপনারা কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছেন? আমির হোসেন আমু : ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইপি (শিল্প) কার্ড বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিল্প-কারখানায় উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উত্কর্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিবছর ‘ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশে রসায়ন শিল্প সংস্থার আওতাধীন কারখানাগুলোর জনবলের কারিগরি দক্ষতা ও সেবা প্রদানে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কোরিয়া সরকারের আর্থিক সহায়তায় একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। শিল্পব্যবস্থাপনা দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) গত দুই বছরে বিভিন্ন কোর্স আয়োজনের মাধ্যমে প্রায় ৭০০০ জন ব্যবস্থাপক ও জনবলকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। কালের কণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ। আমির হোসেন আমু : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ। – See more at: