কুড়িগ্রাম থেকে আলু রপ্তানি করছে ৫০ কম্পানি

মাৎলয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশে আলু রপ্তানি শুরু হওয়ায় কুড়িগ্রামে আলুর বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। ফলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক, কৃষি শ্রমিক, ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক ও পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

রপ্তানিকারকদের সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাস ধরে কুড়িগ্রামসহ রংপুর অঞ্চলের কয়েকটি জেলা থেকে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশে আলু রপ্তানি বেড়ে গেছে। অর্ডারও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। এ বছর ডায়মন্ড ও গ্রানুলাসহ সাদা রঙের আলুর চাহিদা বেশি থাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আলু সংগ্রহ করে দুই কেজি ওজনের প্যাকেটে ভরে তা চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কুয়েত পল্লী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আরওয়া অ্যাগ্রো ইন্টারন্যাশনাল কম্পানির উদ্যোগে সাড়ে তিন বিঘা জমির ওপর একটি বড় চালাঘর নির্মাণ করা হয়েছে। রপ্তানির জন্য আলু প্রক্রিয়াজাতকরণের নানা ধাপে বেশ কিছু শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ কারণে খুশি এলাকার কৃষি শ্রমিকরা। পুরুষের সঙ্গে সমান তালে কাজ করছেন নারীরাও। জমি ও কৃষকের বাড়ি থেকে আলু সংগ্রহের পর এখানে আলু বাছাই, প্যাকিং, ট্রাকে ওঠানোসহ নানা কাজে প্রতিদিনই দেড় শতাধিক শ্রমিক ব্যস্ত থাকছে।

শ্রমিক শহিদুল, রফিকুল ও নুর আলম জানান, তাঁরা দৈনিক ২০০-২২০ টাকা হারে মজুরি পান। আর নারী শ্রমিকরা পান ১২০ টাকা করে। নারী শ্রমিক সারদা দেবী জানান, আলু রপ্তানি শুরুর পর থেকে তাঁদের কাজ নিয়ে আর ভাবতে হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম থেকে আসা ট্রাকচালক জহিরুল হক জানান, ২৫ হাজার টাকা ভাড়ায় সপ্তাহে দুই-তিন দিন তাঁরা এখান থেকে আলু নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে যাচ্ছেন। স্থানীয় আলু ব্যবসায়ী ফয়জার আলী জানান, আলু রপ্তানির কারণে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে আলু ক্রয় করে এনে রপ্তানিকারকদের সরবরাহ করছেন। ফলে এখানে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে।

রপ্তানিকারকদের সূত্রে জানা গেছে, গত বছর গ্রানুলা ও কার্ডিনাল জাতের আলু বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। এবার সাদা রঙের আলুর চাহিদা বেশি। আরওয়া অ্যাগ্রো ইন্টান্যাশনাল কম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার তৌসিন হোসাইন জানান, গত বছর রাশিয়াতে আলু রপ্তানি শুরু হলেও পরে টিস্যু টেস্টে তা বন্ধ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে দেশে আলুর প্রয়োজনীয় টেস্টের আধুনিক ল্যাবরেটরি না থাকাকে দায়ী করেন তিনি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ ধরনের ল্যাবরেটরি স্থাপন জরুরি বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

তৌসিন হোসাইন আরো জানান, এবার আলু রপ্তানি গত বছরের চেয়ে কিছুটা কমলেও অন্তত ৫০টি কম্পানি আলু রপ্তানি করছে। তবে অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভর্তুকি সুবিধা বাড়ালে আলু রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হবে বলে তাঁর দাবি।

রপ্তানিকারকরা জানান, ভারত ও পাকিস্তানে ৩০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হলেও বাংলাদেশে কর্তনের পর ১৬ শতাংশের মতো ভর্তুকি পান আমদানিকারকরা। ফলে চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারকদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।

এদিকে রপ্তানি শুরুর পর থেকে আলুর দামও বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি আলুর পাইকারি মূল্য ১৫ টাকা, যা এক মাস আগে বিক্রি হতো ১০ টাকা করে। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘এবার রোগমুক্ত আলু চাষ হওয়ায় তা কিনতে বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বেশি।’ এভাবে রপ্তানি অব্যাহত থাকলে এবার কৃষকরা আলু চাষে বেশ লাভবান হবেন বলেই মনে করেন তিনি।