দশ সহস্রাধিক নারীকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ

উত্তরাঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার ১০ হাজার ৮০০ দরিদ্র নারীকে স্বাবলম্বী করে তুলতে ১৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন প্রকল্প নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের অধীনে যুব নারীদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তিন বছরব্যাপী এই প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হবে। প্রকল্পটির প্রস্তাবনা সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এই পাঁচ জেলার ১৮-২৫ বছর বয়সী বেকার দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নারীদের সেলাই কাটিংয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। যাতে করে কোনো নারী চাইলেই পোশাক শিল্পে কাজ করতে পারে, আবার কেউ চাইলে নিজেই সেলাইয়ের দোকান (দর্জি) দিতে পারে। কারণ এখন গ্রামাঞ্চলেও সেলাইয়ের কাজের চাহিদা আছে, তাতে ভালো আয়ও হয়।
২০১৪ সালে এই প্রকল্পটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তি নিতেই চলে যায় দুই বছর। এই প্রকল্পটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র নারীরা কাজের জন্য ঢাকায়
আসে এবং তারা পোশাক শিল্পে কাজ করে। কিন্তু তাতে তাদের জীবনমান উন্নয়ন হয় না। যে টাকা আয় করে তার অধিকাংশ খরচ হয় থাকা-খাওয়ায়। তাই উত্তরাঞ্চলের নারীরা যাতে নিজ এলাকায় স্বাবলম্বী হতে পারে তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি বিষয় হল, উত্তরাঞ্চলের নারীরা কাজের কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই ঢাকায় এসে পোশাক শিল্পের কাজে যোগ দেয়। তাতে তারা খবু কম টাকা বেতন পায়। তাই এই প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীরা ঢাকায় এসে ভালো বেতনে পোশাক শিল্পে কাজ করতে পারবে।
এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে উত্তরাঞ্চলের দারিদ্রপীড়িত মানুষের জন্য বেশ কিছু প্রকল্প নিলেও যুব নারীদের স্বাবলম্বী করতেই এটিই প্রথম প্রকল্প।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকে এই প্রকল্প প্রস্তাবনাটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের টাকার প্রকল্প এবং বিশ্বব্যাংক যেহেতু প্রকল্পে অনাপত্তি দিয়েছে তাই এটি অনুমোদন দেওয়া হবে।