কলেজছাত্রের কৃষি বিপ্লব

বাহুবল উপজেলার রশিদপুর চা বাগানের ভেতরে ফয়জাবাদ হিলস। এখানে পাহাড়ি টিলা আর সমতল মিলিয়ে প্রায় ৭৯২ শতক জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে একটি বাগান। মুসলিম নামের এ বাগানে চাষ হয় নাগা মরিচ, কলা, পেঁপে, লেবুসহ নানা ফসল। তবে লেবুই এখানকার প্রধান ফসল। এ বাগানের উদ্যোক্তা কলেজপড়–য়া সাইদুল ইসলাম। তিনি রীতিমতো কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন।
এখানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে অর্ধশতাধিক পরিবার।
জানা গেছে, মুসলিম বাগানে সারা বছরই ফসল উৎপন্ন হয়। শ্রমিকরা প্রতিদিন লেবু, নাগা মরিচ, কলা, পেঁপেসহ নানা ফসল সংগ্রহ করেন। এর পর নিজস্ব পরিবহনে করে নিয়ে যাওয়া হয় আড়তে। এখানকার ফসলের চাহিদাও বেশ ভালো। এর কারণ এসব ফসল উৎপাদনে কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। তবে গাছের গোড়ায় সামান্য রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া সার হিসেবে গোবর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিষমুক্ত ফসলের বিপ্লব দেখে অন্য বেকার যুবকরা পাহাড়ি পতিত জমি চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
উদ্যোক্তা সাইদুল ইসলামের বাড়ি উপজেলার পূর্ব ভাদেশ্বর পুকুরপাড় গ্রামে। তিনি শ্রীমঙ্গল কলেজের অনার্সের ছাত্র। তার বাগানে একই জমিতে লেবু গাছের নিচে নাগা মরিচ চাষ হয়। একই সঙ্গে পেঁপে আর কলা গাছ থেকে আশানুরূপ উৎপাদন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ পাহাড়ে তার বাবা মুসলিম উদ্দিন প্রথমে লেবু বাগান করেন। বাবা মারা যাওয়ার পর সাইদুল এ বাগানের হাল ধরেন। একই সঙ্গে তিনি নাগা মরিচ, পেঁপে, কলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করছেন। এতে বেশ লাভ হচ্ছে। তাদের সফলতা দেখে শত শত লোক লেবু বাগান করেছেন। তারাও সফল হয়েছেন।
সাইদুল বলেন, লেখাপড়ার অবসরে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছি। বাগানের নিরাপত্তায় পাহারাদার রয়েছেন। স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষ শ্রমিক কাজ করছেন। তিনি জানান, শুকনো মৌসুমে গাছের গোড়ায় পানি দিলে ১২ মাসই ফসল হয়। পরিশেষে তিনি জানান, সরকারি আর্থিক সহায়তা পেলে এ বাগান আরও এগিয়ে নিতে পারবেন তিনি। বিষমুক্ত ফসল চাষ করে মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে চান এ তরুণ উদ্যোক্তা।
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শাহ আলম বলেন, হবিগঞ্জের মাটি সব ফসলের বাম্পার উৎপাদনের জন্য উপযোগী। কৃষি কাজ এগিয়ে নিতে চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।