স্বল্পমূল্যে চাল-গম পাবে অর্ধকোটি দরিদ্র পরিবার

দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে সুলভ মূল্যে চাল-গম দেয়া হবে। চলতি বছরের জুলাই থেকেই এ চাল-গম বিতরণ করবে সরকার। প্রতিটি পরিবার পাবে ৩০ কেজি করে খাদ্যশস্য। তবে কত টাকা কেজি দরে চাল/গম দেয়া হবে তা ঠিক না হলেও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে প্রতি কেজি চাল-গমের দর হতে পারে ১০ টাকা। গত সোমবার সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় হতদরিদ্রদের এ খাদ্য সহায়তা দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মূলত ইউনিয়ন পর্যায়ের হতদরিদ্রদের খাদ্য সহায়তা দিতেই সরকার এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। কারণ ওএমএস-এর মাধ্যমে দেশের সব মহানগর ও জেলা পর্যায়ে চাল/আটা বিক্রি করা হয়।

এদিকে কোন্ কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের খাদ্যশস্য দেয়া হবে সে ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। কারণ এর আগে সুলভমূল্যে কার্ডের মাধ্যমে চাল-গম বিতরণ কার্যক্রম সফল না হওয়ায় এবার চিন্তা-ভাবনা করে আগাতে চায় খাদ্য অধিদপ্তর।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্রদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিতরণ কর্মসূচি চালু করেছিল। পরে একই বছরের ১ ডিসেম্বর কর্মসূচিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এরপর আর কর্মসূচিটি চালু করা হয়নি।

সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত মূল্যে কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিতরণ নীতিমালা ২০১১ এর আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রম পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ইউনিয়ন রেশনিং নামে একটি প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া ভিজিডির মাধ্যমেও এ খাদ্যশস্য বিতরণ করতে পারে সরকার।

খাদ্য অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫০ লাখ উপকারভোগী পরিবার নির্বাচন করা হবে। দারিদ্র্যের সূচক ও জনসংখ্যার ঘনত্বের ভিত্তিতে যথাক্রমে ৭৫ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ উপকারভোগী পরিবার নির্বাচন করা হবে। তবে কোনো ইউনিয়নে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ হাজারের কম হবে না। তিনি বলেন, উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দারিদ্র্য, নারী প্রধান পরিবার ও শিশু অন্তর্ভুক্ত পরিবারকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

প্রতিটি পরিবারকে একটি করে রেশন কার্ড দেয়া হবে। ওই কার্ডধারীদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খাদ্য কমিটি গঠন করা হবে। ইউনিয়ন কমিটিতে থাকবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। আর উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা থাকবেন স্থানীয় এমপি এবং সভাপতি হবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

সূত্র জানিয়েছে, খাদ্য কমিটি উপজেলাভিত্তিক দারিদ্র্য সূচক ও জনসংখ্যার ঘনত্ব অনুযায়ী সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা নির্ধারণ করবে। কমিটি প্রতি ৫০০ জন সুবিধাভোগীর জন্য একজন করে ডিলার নিয়োগ করবে। সুবিধাভোগীরা সপ্তাহে তিন দিন ১০ কেজি করে ৩০ কেজি চাল কিনতে পারবেন। এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলে বছরে ১৫ লাখ টন চালের প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে।