রফতানি আয়ে সুবাতাস

দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে রফতানি আয়ে সুবাতাস বইছে। অর্থবছরের ৯ মাসে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। গত ৬ মাস থেকে রফতানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। একক মাস হিসেবে মার্চে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) দুই হাজার ৪৯৫ কোটি ৫১ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি আয় হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের দুই হাজার ২৯০ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের রফতানির চেয়ে আট দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি। একক মাস হিসেবে গত মার্চ মাসে ২৮৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের মার্চের ২৫৯ কোটি ডলারের চেয়ে নয় দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। মঙ্গলবার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে।

জানা গেছে, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক। সে মাসে আয় কমে যায় ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। তবে আগস্টে অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত নবেম্বর শেষে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ ধারা মাচেও অব্যাহত ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পণ্য রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৪৪৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই দশমিক ১২ শতাংশ বেশি হয়েছে প্রকৃত রফতানি আয়। এদিকে শুধু গত মার্চ মাসে ২৮৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের মার্চের ২৫৯ কোটি ডলারের চেয়ে নয় দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। ফেব্রুয়ারি মাসে রফতানি আয় হয়েছিল ২৮৫ কোটি ডলারের পণ্য। আর প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে অর্জিত দুই হাজার ৪৯৫ ডলারের পণ্য রফতানি আয়ের মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকেই এসেছে দুই হাজার ৪৪ কোটি ডলার। এই আয় গত অর্থবছরের একইসময়ের এক হাজার ৮৬২ কোটি ডলারে রফতানির চেয়ে নয় দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। এ প্রসঙ্গে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু বলেন, রফতানি আয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান খুবই সন্তোষজনক চিত্র প্রকাশ করছে। পোশাক খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু খাতে রফতানি প্রবৃদ্ধি ভাল। তবে কৃষিপণ্যের চিত্র ভাল নয়। পণ্যটির মান নিয়ন্ত্রণ, মোড়কীকরণ ও তালিকাভুক্ত রফতানিকারকদের উন্নয়নের মাধ্যমে এ পরিস্থিতি পর্যায়ক্রমে ভাল করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চের তুলনায় চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে হিমায়িত খাদ্য রফতানি আয় ১২ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে। এ বিষয়ে হিমায়িত খাদ্যসংশ্লিষ্ট রফতানিকারকদের সংগঠন বিএফএফইএর সভাপতি এসএম আমজাদ হোসেন বলেন, চিংড়ি ও হিমায়িত মাছ রফতানি আয়ে আগামীতে আরও বড় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে, যার প্রধান কারণ ইউরোপে মুদ্রার অবমূল্যায়ন। এ খাতে প্রায় ৮৫ শতাংশ রফতানি আয় আসে ইউরোপ থেকে। আর এ অঞ্চল থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ দাম কম পেয়েছি আমরা; যার প্রভাব দেখা যাচ্ছে রফতানি আয়ে।

ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ, রবার ও রবার পণ্য রফতানিতে ২৮ দশমিক ৭০ শতাংশ, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রফতানি ২২ দশমিক ৬১ শতাংশ, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য রফতানিতে ৮২ দশমিক ৫৪ শতাংশ, অন্যদিকে কৃষিপণ্যে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্য রফতানি ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ, পশম ও পশমি জাতীয় পণ্যে ৮৪.৬২ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্যে ১ দশমিক ৭২ শতাংশ, হোম টেক্সটাইল খাতে ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কমেছে।

প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছর তিন হাজার ৩৫০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ইপিবি। লক্ষ্যমাত্রাটি অর্জন করতে হলে চলতি এপ্রিল এবং আগামী মে ও জুন মাসে ৮৫৪ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি আয় করতে হবে। গত অর্থবছর দেশের পণ্য রফতানি আয় ছিল তিন হাজার ১২০ কোটি ডলার।