ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ

দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

সক্ষমতা বাড়ছে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের। এ লক্ষ্যে চতুর্থ ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে প্রায় ১ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা (২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার) ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে আরো ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। শিগগিরই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হতে যাচ্ছে। এতে সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন ও বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্বাক্ষর করবেন।
বিশ্বব্যাংক সহজ শর্তে এ ঋণ দিচ্ছে। সংস্থাটির ঋণের বিপরীতে বার্ষিক শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এ ঋণের অর্থ ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরে মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
বিদু্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক ১ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা দেবে। অবশিষ্ট অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হবে। ২০১৯ সালের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, রি-পাওয়ারিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। কারণ রি-পাওয়ারিংয়ের মাধ্যমে গ্যাসের ব্যবহার কমানো সম্ভব। পুরাতন বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি এবং দূষণ কমানো সম্ভব হয়। এজন্য ঘোড়াশালে দুটি ইউনিটের কাজ শুরু হচ্ছে। তৃতীয় ইউনিট বাস্তবায়নে অর্থ দিচ্ছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। আর চতুর্থ ইউনিট বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণ চুক্তি হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিট ১৯৮৯ সালে স্থাপিত হয়।
আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়ায় ২১০ মেগাওয়াটের ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ১৮০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে ৪০৩ মেগাওয়াট করা হবে। একই সঙ্গে রি-পাওয়ারিং করলে গ্যাস ব্যবহারের দক্ষতা ৫৪ শতাংশ বাড়বে।
বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, রি-পাওয়ারিংয়ের ব্যয় নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম। একই সঙ্গে রি-পাওয়ারিংয়ের সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন হতে থাকে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়। যা নতুন কম্বাইন্ড সাইকেল প্লান্ট স্থাপন করার সময় সম্ভব নয়।
বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিস ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদ্যুতের সিস্টেম লস কমে গেছে। তাই বিদ্যুৎ খাতে সহায়তা বাড়াচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এর আগে সিস্টেম লসের কারণে বাংলাদেশের প্রয়োজন থাকলেও এই খাতে বিনিয়োগে তেমন আগ্রহ দেখায়নি সংস্থাটি। তবে এখন সিস্টেম লস সহনীয় পর্যায় আসায় আবারো ফিরে আসছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, এখন বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লস সাড়ে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ। যা অত্যন্ত সহনীয় এবং ভারতে যে পরিমাণ সিস্টেম লস হয় তার চেয়েও কম। সিস্টেম লসের হার এর চেয়ে কমাতে হলে বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থা উন্নয়ন করতে হবে। সেখানে ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। তবে এখন যেটি রয়েছে সেটি স্বাভাবিক সিস্টেম লস হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, শুরু থেকেই বিদ্যুৎ খাতে কোনো বিনিয়োগ করেনি বিশ্বব্যাংক। এর প্রধান কারণ ছিল সিস্টেম লস। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে প্রথম সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে। তারপর তেমন কোনো প্রকল্পে অর্থায়ন না থাকলেও ২০১৪ সালে এসে বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন-সংক্রান্ত একটি প্রকল্পে মোট ৮২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে চুক্তি করে। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুতের সিস্টেম লস কমে আসায় এই খাতে সহায়তা সম্প্রসারণ করছে বিশ্বব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চতুর্থ ইউনিট রি-পাওয়ারিং এ সহায়তা দিচ্ছে সংস্থাটি।