বন সুরক্ষায় দেড় লাখের বেশি পরিবার সক্রিয়

প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুছ আলী বলেছেন, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহ-ব্যবস্থাপনা বিগত সময়ে একটি প্রমাণিত সফল ধারণা। বর্তমানে দেশে বন সুরক্ষায় এ ধরনের ২৭টি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং দেড় লাখের অধিক পরিবার সক্রিয় রয়েছে। গতকাল বুধবার কক্সবাজারের একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে টেকসই অর্থায়ন’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউএসএইড-এর ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেমস অ্যান্ড লাইভলিহুডস (ক্রেল) প্রকল্পের আওতায় উইনরক ইন্টারন্যাশনাল, নেকম, কোডেক, সিএনআরএস এবং বিসিএএস’র উদ্যোগে ইউএসএইড বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সরকারের বন অধিদফতরের সহায়তায় দিনব্যাপী এ সংলাপ আয়োজনের উদ্বোধন করেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যার ফলে বনাঞ্চল ধ্বংস না করে বরং তা রক্ষায় মানুষ অনেক বেশি সচেতন হয়েছে। এমনকি সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পার্শ্ববর্তী দেশসমূহেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

সংলাপে চারটি সমান্তরাল সেশনে আলোচকরা সহ-ব্যবস্থাপনা সংগঠনগুলোর অর্থনৈতিক স্থায়িত্বশিলতা নিশ্চিতকরণে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী এবং সহ-ব্যবস্থাপনা সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

চার পর্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন ইউএইসএইডের ড. আজহারুল মজুমদার, ক্রেলের চিফ অব পার্টি ড. জন এ ডর, ডেপুটি চিফ অব পার্টি কেভিন ক্যাম্প, আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইশতিয়াক উদ্দিন আহমাদ, নেকম’র সভাপতি আব্দুর রব মোল্লা, কোডেকের পরিচালক মুনির হেলাল এবং সিএনআরএসের নির্বাহী পরিচালক ড. মোখলেসুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সহ-ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের প্রকাশনার পাশাপাশি নানাবিধ হস্ত ও কুটিরশিল্পজাত সামগ্রীর প্রদর্শনীর আয়োজন হয়। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৩ মার্চ বনদস্যুদের বাধা দিতে গিয়ে জীবন দেন শীলখালী বন টহলদল কর্মী রফিকুল আলম। জাতীয় সম্পদ রক্ষায় তার বীরত্বপূর্ণ এই আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছর এই দিনটি সহ-ব্যবস্থাপনা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।