চেয়ারম্যান পদে ভোট পড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রায় ৭৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীক ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বিএনপির ‘ধানের শীষ’ ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ৫২২টি ইউপির ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এই ইউপিগুলোয় ভোট পড়েছে ৬৭ লাখ ৪৪ হাজার ৭০৫। গতকাল বুধবার বিকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ৭৩ দশমিক ৮২ শতাংশ ভোট পড়েছে।

প্রথম ধাপে মঙ্গলবার ৭১২ ইউপিতে ভোট হয়েছে। এখানে মোট ভোটার ছিল ১ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার ৯২ জন। এই ৭১২টি ইউপির মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ভোটের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৫৪ জন আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ৬৫৮ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ভোট হয়। এর মধ্যে ৫২২টি ইউপির বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রথম ধাপের নির্বাচনে ১৭টি দল অংশ নিলেও জয় পেয়েছে মাত্র ৭টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৯৪ ইউপিতে ভোট পেয়েছে ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৫৮২। বিএনপি ৩৫টি ইউপিতে ভোট পেয়েছে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৮৮। জাতীয় পার্টি-জেপি ৭টি ইউপিতে জয়লাভ করেছে। ভোট পেয়েছে ৬৫ হাজার ৩৫৬। জাতীয় পার্টি-জাপা ১টি ইউপিতে জয়ী হয়েছে, ভোট পেয়েছে ৬০ হাজার ৪২। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ৩টি ইউপিতে জয় পেয়েছে। ভোট পেয়েছে ৩৭ হাজার ৪৩১। ওয়ার্কার্স পার্টি ২টি ইউপিতে জয়ী, ভোট পেয়েছে ৩৫ হাজার ৬২৫। ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ ১টি ইউপিতে বিজয়ী হয়েছে, ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৬৮। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭৯টি ইউপিতে জয়ী হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট পেয়েছে ১৫ লাখ ৬১ হাজার ২৯৯।

বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জাকের পার্টি, বাংলাদেশের জাতীয় পার্টি-বিজেপি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো ইউপিতে জয়লাভ করতে পারেনি।

গতকাল ইসি সচিবালয়ে নিজকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমে ভোটারদের ভোট দেয়ার যে তথ্য এসেছে তাতে উত্সাহিত হয়েছি। পুরুষদের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছেন এবং ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়িতে গেছেন।

দলীয় প্রতীকে প্রথম অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে গোলযোগ-অনিয়মের কারণে ৬৫ কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করে ইসি। এ পর্যন্ত শুধু ভোটের দিন ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। নির্বাচনপূর্ব সহিংসতায় আরো ১০ জন নিহত হন।