ভারত থেকে বিদ্যুত্ আসছে আরো আসবে পরবর্তী ক্ষেত্র হবে আন্তঃসংযোগ সম্প্রসারণ :শেখ হাসিনা

মহাশূন্যে ও বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় ভারত :মোদী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুত্ ও ব্যান্ডউইথ বিনিময়কে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেন, আমাদের সহযোগিতার পরবর্তী ক্ষেত্র হবে আন্তঃসংযোগ সম্প্রসারণ। কারণ আন্তঃযোগাযোগ হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত। এই অঞ্চলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন উচ্চমানে পৌঁছেছে। ব্যান্ডউইথ রফতানি এবং ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানি কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে বিদ্যুত্ আসছে, আরও আসবে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যৌথভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে বাটন চেপে ১০ জিবিপিএস (ইন্টারনেট) ব্যান্ডউইথ রফতানিকরণ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নয়াদিল্লিতে তার কার্যালয় থেকে বাটন টিপে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ দুটির সম্পর্কের বিকাশমান ধারায় আরো একটি মাইলফলক স্থাপিত হলো। ব্যান্ডউইথ রফতানি এবং ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানি কার্যক্রম উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কুমিল্লার সীমান্তবর্তী উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্য থেকে ভারতের ১শ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ রফতানি এবং বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রফতানি কার্যক্রম সূচনা হলো।

নয়াদিল্লি থেকে বিশেষ প্রতিনিধি জানান, ভিডিও কনফারেন্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যান্ডউইথ রফতানি এবং ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানি কার্যক্রম উদ্বোধনের ঘটনাকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পর বন্ধুপ্রতিম দুটি দেশ যেভাবে জলে, স্থলে এবং ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে, সেভাবে মহাশূন্যেও সেই সহযোগিতার ক্ষেত্রকে ভারত সম্প্রসারিত করতে চায়। তিনি বলেন, ভারতের দৃঢ় ইচ্ছা জল, সড়ক ও আকাশ পথে ভারত যেমন বাংলাদেশের পাশে ছিল তেমনি মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটেও ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকতে আগ্রহী।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে পার্শ্ববর্তী দুটি দেশ কী করে বোঝাপড়ার মাধ্যমে একই পথে এগিয়ে যেতে পারে তার দৃষ্টান্ত হলো আজ। তিনি সমগ্র দেশবাসীকে হোলির শুভ কামনা জানিয়ে বলেন, হোলি রঙের উত্সব। হোলির এই পবিত্র উত্সবের দিনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভারতের ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি (শেয়ারিং) কার্যক্রমের উদ্বোধন হওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন রঙে রাঙানো হলো।

বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের আগুনঝরা দিনগুলোর কথা স্মরণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সেই দুঃখের দিনগুলোতে যেমন ভারত এবং ভারতের জনগণ বাংলাদেশের পাশে থেকেছে এখন বাংলাদেশ যেমন উন্নতির শিখরে আরোহণ করছে, তখনও ভারত তাদের পাশে রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে তার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে আমরা সমগ্র বিশ্বের সামনে অনন্য নজির স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছি। তিনি প্রযুক্তির উত্কর্ষের সাহায্যে দুটি দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং একজন মুখ্যমন্ত্রী সহযোগে প্রকল্প উদ্বোধনের ঘটনা বিশ্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে দুই দেশের যোগাযোগের আরো নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুত্ ও ব্যান্ডউইথ (ইন্টারনেট) বিনিময় আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের জন্য একটি ‘চমত্কার নিদর্শন’। আজ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সুখের দিন। শেখ হাসিনা ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুত্ আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ রফতানি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলফলক বলে উল্লেখ করে আরো বলেন, আমি নিশ্চিত আমাদের জনগণের বৃহত্ কল্যাণ সাধনের মাধ্যমে এ ধরনের আরো অনেক আনন্দঘন মুহূর্ত অপেক্ষা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুত্ পাওয়ার মধ্য দিয়ে আরেকটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ হল। তিনি বলেন, ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে আমার ত্রিপুরা সফরের সময় এর সূত্রপাত হয়েছিল। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীসহ আজকে আমরা সবাই অত্যন্ত আনন্দিত। এটি বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে আমাদের দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার এক চমত্কার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ভারত থেকে ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি করছি। আরও ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানির জন্য সাবস্টেশন স্থাপনের কাজ চলছে। ভারত এবং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী গণভবন থেকে বক্তব্য রাখেন এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বক্তব্য রাখেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার আগরতলা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সভ্য সমাজে সন্ত্রাসীদের কোনো

স্থান নেই : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলজিয়ামে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, কোনো সভ্য সমাজে সন্ত্রাসীদের স্থান নেই। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক শোক বার্তায় তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি, সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। তাদের কোনো বর্ণ, ধর্ম অথবা ধর্ম বিশ্বাস যাই হোক, কোনো সভ্য সমাজে তাদের ঠাঁই নেই।