লবণাক্ত জমিতে গম আবাদে সাফল্য

কুয়াকাটা উপকূলীয় এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে গম চাষ করা হয়েছে। লবণাক্ত জমিতে প্রথম গম চাষ করে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। এবার গমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। চৈত্রমাসে লবণাক্ত এলাকার মাঠে সবুজের বিপ্লব ঘটেছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভের আশায় কুয়াকাটার দুই কৃষক নুরআলম ও কবির হোসেন ৫ একর জমিতে গমের আবাদ করেছেন। পৌর এলাকার মেলাপাড়ায় এ গম চাষের বাম্পার ফলনে ভবিষ্যতে চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এমনটাই দাবি করছেন কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিস।প্রাথমিকভাবে গম চাষে সফলতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ইতোমধ্যে এলাকায় কৃষকদের মাঝে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। মেলাপাড়ার কৃষক আবদুল খালেক জানান, তিনি আগামী বছর তার জমিতে গম চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। নুরআলম ও কবির হোসেনের জমি পাশেই তার জমি। কিন্তু তাদের (নুরআলম ও কবির) জমিতে সবুজের সমারোহ আর তার জমি ফসলহীন কূন্য মাঠ।সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কুয়াকাটা সংলগ্ন মেলাপাড়ায় লবণাক্ত ৫ একর জমিতে গমের চাষ করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কৃষক নুরআলম ও কবির হোসেন। কলাপাড়া উপজেলার কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে বীজ বপন করেছেন। পানি সেচসহ নানা পরিচর্যায় অক্লান্ত পরিশ্রমে সফলতার মুখ দেখেছেন ওই দুই কৃষক।গম চাষিরা জানিয়েছেন, একর প্রতি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। তাদের জমিতে রোপণ করা গম বিক্রয় করে প্রতি একরে ২৫ হাজার টাকা আয় হবে এমনটা আশা প্রকাশ করছেন তারা। কৃষক নুর আলম বলেন, ‘আমরা পরীক্ষামূলকভাবে ৫ একর জমিতে গম চাষ করেছি। ফলন এত ভালো হবে চিন্তা করি নাই। আমাদের দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও আগামীতে এ পেশার ঝুঁকবে।’কলাপাড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মসিউর রহমান বলেন, ‘এ অফিস উপজেলার কুয়াকাটা, লতাচাপলী, মহিপুর ইউনিয়নে কৃষি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় এবং আইএপিপির সহায়তায় ৫০ জন কৃষককে গমের বীজসহ কৃষি উপকরণ বিতরণ করেছে। উচ্চ ফলনশীল লবণ সহিষ্ণু প্রজাতির গম চাষ করে চাষিরা সফলতা পেয়েছেন।’