সাহসী মেয়ে বাস আদায় করলেন

বিআরটিসির ৫২ আসনের লাল বাসটি শুধু তার জন্যই এসেছে তা এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না কিশোরী শামসুন্নাহার শতাব্দী। তবে দিন শেষে ঘোর লাগা কিছুটা কমেছে। টেলিফোনে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলল, ‘শুধু একটা প্রশ্ন করেছিলাম যোগাযোগমন্ত্রীকে। তা সত্যি হবে চিন্তা করিনি। তবে আমার জন্যই তো বাস এল।’
গতকাল রোববার রাজধানীতে আলোচিত ছিল দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া শতাব্দীর নাম। তার এক প্রশ্নের জন্যই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একটি মহিলা বাস চালু করেছেন। গতকাল ওই বাসেই শতাব্দী ও তার বন্ধু এবং অন্য নারীরা নিশ্চিন্ত মনে যাতায়াত করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে। মহানগরীর গণপরিবহনের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে ঝটিকা সফরে কুড়িল বিশ্বরোডের পাশে শেওড়া বাসস্ট্যান্ডে যান মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। স্কুল থেকে ফেরার পথে শতাব্দী মন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য হাত তুলে বলে, ‘মিনিস্টার ওবায়দুল কাদের! আই হ্যাভ এ কোশ্চেন!’ মন্ত্রী তার কাছে প্রশ্ন শুনতে চান। তখন শতাব্দী ‘গুলিস্তান-আবদুল্লাহপুর ১২৩’ বাসগুলো ‘মহিলা সিট’ নেই বলে উঠতে দেয় না বলে জানায়। সে মন্ত্রীর কাছে জানতে চায়, এই সড়কে নারীদের জন্য আলাদা কোনো বাসের প্রয়োজন কি নেই? মন্ত্রী শতাব্দীর কাছ থেকে তার স্কুলে যাওয়ার সময় জেনে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই রোববার থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস চালুর নির্দেশ দেন।
শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী শতাব্দী। সে প্রথম আলোকে বলে, ‘মন্ত্রীর পিএস শনিবার রাতে ফোন করে বাসের কথা জানিয়ে সকাল সাড়ে ছয়টায় শেওড়া বাসস্ট্যান্ডে যেতে বলেন। আজ (গতকাল) বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি বাসটা আমার জন্যই দাঁড়িয়ে আছে। বাসে করে ক্যান্টনমেন্টের কাছে এমইএস বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাই। স্কুলে যাওয়ার পর শিক্ষকেরাও আমার এ কাজের জন্য অনেক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বাসের মধ্যে এক আন্টিও বলেছেন যে আমার জন্যই আজ আরামে বাসে যাতায়াত করতে পারলেন।’ স্কুল থেকে ফিরতি পথেও (বিআরটিসি) বাসটি শতাব্দীর অপেক্ষায় ছিল।
শতাব্দীর মা আকলিমা তরফদার বলেন,‘শত বছরে আমার মেয়ের মতো একটি শতাব্দীর জন্ম হয়।’ শতাব্দীর বাবা শফিকুজ্জামান একজন ব্যবসায়ী।
স্কুলপড়ুয়া মেয়ের আবদারে বাস চালু হলেও তা কত দিন চলবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রসঙ্গে এ বাসের তত্ত্বাবধানকারী খিলক্ষেত, জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কাজী নাসিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মন্ত্রীর নির্দেশে বাস চালু হয়েছে। আপাতত বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।’
নাসিরুল হক জানান, আবদুল্লাহপুর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নারীদের জন্য একটি আলাদা বাস ছিল। মাস খানেক চলার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। আপাতত এই বাসটি শেওড়া বাসস্ট্যান্ড হয়ে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মহাখালী-এয়ারপোর্ট সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে চলাচল করবে।