অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক স্তর

অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর হচ্ছে। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বুঝিয়ে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রাথমিক স্তর পঞ্চম শ্রেণীর পরিবর্তে অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীতের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চলতি বছর অষ্টম শ্রেণীতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২০১৮ সাল পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণীতে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু থাকবে। পরে শুধু অষ্টম শ্রেণীতেই সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেবে শিক্ষার্থীরা। শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে বৈঠক এবং প্রাথমিক শিক্ষা স্তর অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীতকরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীতে পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করা হবে। কেননা, পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের যোগ্যতাভিত্তিক পাঠ্যক্রমে শিক্ষা দেয়া হয়। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত জ্ঞানভিত্তিক পাঠ্যক্রম অনুসরণ করত। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কাজ করছে। ২০১৭ সালে নতুন পাঠ্যক্রমের আলোকে হবে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যবই।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব হুমায়ূন খালিদ সাংবাদিকদের জানান, আমরা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাপারে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন রাজনৈতিক পর্যায়ে এটি চূড়ান্ত হবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক, শিক্ষকদের বেতনসহ সার্বিক কার্যক্রম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখভাল করবে।
এ লক্ষ্যে বুধবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। তবে যথারীতি বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ড এ পরীক্ষাটি নেবে। পাশাপাশি পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাও নেয়া হবে। তবে এই পরীক্ষা দুটি আগামী ২০১৮ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কেবল অষ্টম শ্রেণীতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা থাকবে, না পঞ্চম শ্রেণীতেও নেয়া হবে। এখন থেকে বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অনুমোদন, শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনাসহ সব কার্যক্রম প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর অধীনে পরিচালিত হবে। ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক স্তরের সব বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি, অনুমোদন, পাঠদান স্থগিত রেখেছে।
ওই বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ূন খালিদের সভাপতিত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমেদ এবং যুগ্ম সচিব একেএম জাকির হোসেন ভূঁইয়াসহ মোট তিনজন অতিরিক্ত সচিব, একাধিক যুগ্ম সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান, শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিচালক মো. ফসিহউল্লাহ প্রমুখ বৈঠকে যোগ দেন।
উল্লেখ্য, দেশে সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা সার্বজনীন ও বাধ্যতামূলক। বর্তমানে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। সাধারণ শিক্ষায় ৩৭ হাজার ৬৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাতীয়করণকৃত ২৬ হাজার নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও নি¤œ মাধ্যমিক স্কুল, মাধ্যমিক স্কুলে সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি স্কুলে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বিদ্যমান। মাদরাসা শিক্ষায় ইবতেদায়ি (প্রাথমিক) স্তরে ইবতেদায়ি মাদরাসা, জুনিয়র মাদরাসা রয়েছে।
শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, দেশের প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত এবং মাধ্যমিক স্তর হবে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত। এরপর হবে উচ্চশিক্ষা স্তর।