জাতীয় চিড়িয়াখানা আধুনিকায়নের মহাপরিকল্পনা

মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা আধুনিকায়নে নেয়া হচ্ছে মহাপরিকল্পনা। ৫২ বছর ধরে অবৈধ দখলে থাকা প্রায় ১ দশমিক ৭৫ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। বৃদ্ধি করা হচ্ছে সীমানা প্রাচীর। জনবল সংকটে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে শূন্যপদে লোক নিয়োগের সিদ্ধান্ত। চিড়িয়াখানার রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য প্রবেশ মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৫ কোটি টাকা একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

এ ব্যাপারে গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, ৫২ বছর পর বর্তমান সরকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার ১ দশমিক ৭৫ একর জমি ভূমি দস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার করেছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এ জমির উপর ৮টি প্লট বরাদ্ধ দিয়েছে। এ জমি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নয়। ওই জমিতে কথিত জমির মালিকদের কোন মালিকানা নেই। সরকারি চিড়িয়াখানার জমি গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ লিজ দিতে পারে না।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার সম্পত্তিতে অবৈধ বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হয়। সেখানে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ২ মার্চ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে প্রায় শত কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার হয়েছে। আমাদের ১০ একর সম্পত্তি নিয়ে মামলা ছিল। মামলায় জয়লাভ করার পর চিড়িয়াখানার সম্পত্তি দখলে আসে। যার মূল্য প্রায় ৫শ’ কোটি টাকা। বর্তমান বিশিল মৌজায় সি,এস -৩০ দাগের এল ,এ কেশ নং ৭০/৭৬-৭৭ মাধ্যমে অধিগ্রহণকৃত জাতীয় চিড়িয়াখানার জন্য আরো ২ একর সম্পত্তি প্রায় ২০ বছর ধরে ভূমি দস্যুদের দখলে আছে, যা অচিরেই দখলমুক্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, চিড়িয়াখানার আধুনিকীকরণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণকল্পে সরকারক যে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে তা মাস্টার প্লান তৈরিসহ বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ অব কাঠামো উন্নয়নের জন্য মধ্যবর্তী একটি অনধিক ২৫ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব জরুরি ভিত্তিতে প্রেরনের জন্য প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চিড়িয়াখানার ভিতরের রাস্তা ভাঙ্গা-চূড়া। গাড়ী পার্কিং ব্যবস্থা খুবেই খারাপ। এছাড়া যাত্রী ছাউনি ও পর্যাপ্ত পরিমানে টয়লেট না থাকার কারণে অনেক সময় দর্শনার্থীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে। তাই চিড়িয়াখানা এলাকার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে একটি মেগা পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।