অর্থনীতিতে পাটের অবদান

আমাদের অর্থনীতিতে পাট খাতের যে অবদান তার মূল্য অপরিসীম। তাইতো পাটকে বলা হয় ‘সোনালী আঁশ’। এই উপমহাদেশে পাটের চাষ যেখানে হতো সবচেয়ে বেশি সেটা হচ্ছে, এই বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে পাট চাষ ও পাট পণ্য বেশি উৎপাদন হলেও, চাষিরা কখনো তাদের ন্যায্য মূল্য পায়নি। তাদের সব সময় বঞ্চিত করা হয়েছে। আর লাভের ভাগ নিয়ে গেছে অবাঙালি পাটকল মালিক আর সুযোগ সন্ধানী ফড়িয়া। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল মজুদদার। পাট খাতে এই শোষন পরিস্থিতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা কর্মসূচিতে। তিনি বলেছিলেন, ‘যতদিন পাট থাকে চাষির ঘরে ততদিন পাটের দাম থাকে ১৫-২০ টাকা। ব্যবসায়ীদের গুদামে চলে যাওয়ার সাথে সাথে তার দাম হয় ৫০ টাকা। পাট ব্যবসাকে জাতীয়করণ করে পাট রফতানিকে সরকারি আয়ত্তে আনা ছাড়া এর কোনো প্রতিকার নাই।’
স্বাধীনতার পর কোন সরকারই পাটকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ সরকার এই বিষয়টি গুরত্ব সহকারে বিবেচনা করেছেণ। বিশেষ করে জাতির জনকের সুযোগ্যকণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাটশিল্পের পুনরুজ্জীবন ও আধুনিকায়নের ধারা বেগবান করার কঠিন কাজটি হাতে নেন। তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিলেন, দেশের অর্থনীতিতে পাটের হারানো ইতিহাস পুনরুদ্ধার করতে হবে। পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে।
আজকের পাট বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের রফতানি আয়ের ৪ দশমিক ৯শতাংশ অর্জিত হয় পাট খাত থেকে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে কাঁচাপাট থেকে রফতানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৪৩৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ কাঁচাপাট রফতানি হয়েছে ২০ লাখ ৫৫ হাজার বেল। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কিছুটা কমে গেলেও, ২০১৪-১৫তে আবার বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ ২০১৪-১৫তে কাঁচাপাট থেকে আয় হয় ৮১৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত আয় হয়েছে ৪৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
২০১২-১৩ অর্থবছরে পাটজাত দ্রব্য থেকে রফতানি আয় হয়েছে ৬ হাজার ১৬২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এ সময় পাটজাত দ্রব্য উৎপাদন হয় ৯ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন। রফতানি হয় ৮ লাখ ৬৮ হাজার মেঃটন। ২০১৩-১৪তে পাটজাত দ্রব্য থেকে আয় হয় ৫ হাজার ২২৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। উৎপাদনের মাত্রা তবে বেশ ভালো ছিল। যার পরিমান ৯ লাখ ৮৩ হাজার মেঃটন। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে পাটজাত দ্রব্য থেকে আয় হয়েছে আগের দুই বছরের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ এ সময় আয় হয় ৫ হাজার ৬০২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। চলতি বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত রফতানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৯৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
এদিকে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক আইন বাস্তবায়নের ফলে এক মাসে প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ পাটের ব্যাগ বিক্রি হয়েছে। ব্যাগের বছরের চাহিদা ১০ কোটি থেকে ৭০ কোটি ব্যাগে উন্নীত হয়েছে বলে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। পাটপণ্য বহুমুখীকরণের ফলে এ পর্যন্ত ২৫০ জন সফল উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। এ সব উদ্যোক্তারা ১৩১ ধরনের বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন করছেন। আর রফতানি হচ্ছে বিশ্বের ১১৮টি দেশে।