এশীয় অবকাঠামো ব্যাংকে ১০৫১ কোটি টাকা পুঁজি দিচ্ছে সরকার

এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের মালিকানা শেয়ার পেতে বাংলাদেশকে ১ হাজার ৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। প্রথম কিস্তিতে ১০৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা পরিশোধ করবে সরকার। তবে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অর্থ বিভাগের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত হতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের শেয়ার মূলধন খাতে এই অর্থ প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে এ অর্থ ব্যয়ে যাবতীয় আর্থিক বিধি-বিধান এবং ফিন্যান্সশিয়াল প্রপ্রাইটি যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মোট ১০ কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করে ব্যাংকটির শেয়ার মালিকানা বুঝে পাবে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, চীনের নেতৃত্বে গঠিত এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) বাংলাদেশের নির্ধারিত শেয়ারের মূল্য পরিশোধে ইতোমধ্যে সংসদে বিল পাস হয়েছে। সংসদের চলতি অধিবেশনে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বিল-২০১৬ পাস হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিলটি সংসদে তোলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। এআইআইবির শেয়ারমূল্য বাবদ ৬৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে বিলটি সংসদে পাস করানো হয়েছে।

এই বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে সেই সময় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এআইআইবি ব্যাংকের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রধানত অবকাঠামো এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এশিয়ার টেকসই উন্নয়ন, সম্পদ সৃষ্টি এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে উৎসাহিত করা এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগের কাজ করে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা। জানা গেছে, এআইআইবির মূলধন ধরা হয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ২০ বিলিয়ন ডলার। সদস্য হতে বাংলাদেশকে দিতে হবে ৬৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন হিসেবে ১৩ কোটি ২১ লাখ ডলার এবং ৫২ কোটি ৮৪ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে অপরিশোধিত (কলেবল) মূলধন হিসেবে।

ব্যাংকটির সদর দফতর চীনের বেজিংয়ে। চীনের সাবেক অর্থমন্ত্রী জিন লিকুনকে প্রেসিডেন্ট এবং ১২ জনকে পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ব্যাংকে বাংলাদেশের মোট শেয়ারের পরিমাণ ৬ হাজার ৬০৫টি (প্রতিটি এক লাখ মার্কিন ডলার মূল্যমান) এবং চাঁদার পরিমাণ ৬৬০ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যার ২০ শতাংশ পেইড-ইন হিসাবে বাংলাদেশের প্রদেয় চাঁদার পরিমাণ ১৩২ দশকি ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ হাজার ৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা), যা ১০ কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য।

জানা গেছে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের লক্ষ্যে গঠিত এআইআইবির তহবিল যোগানদাতা হিসেবে ৫৭টি দেশ রয়েছে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও কানাডা ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব বড় অর্থনীতির দেশ রয়েছে।

ব্যাংকটি ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এখন বড় বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। সে কারণে বিশ্বব্যাংক-এডিবির বাইরেও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে সহায়তা পাওয়া গেলে সেটা আমরা সাদরে গ্রহণ করব। তিনি বলেন, বর্তমানে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ-বাণিজ্য সম্পর্ক বেশ ভাল। তারা আমাদের কয়েকটি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। সে কারণে তাদের নেতৃত্বে এআইআইবির সদস্য হয়ে আমরা লাভবানই হবো। তিনি বলেন, এই ব্যাংকের সদস্য হতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ ২২টি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি সম্পদশালী দেশও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এআইআইবির সদস্য হওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।