‘জঙ্গিবাদের উত্থান ঠেকাতে হবে’

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঠেকাতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ একটি দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আমাদের দেশকে আমরা এভাবে দেখতে চাই না। কারণ পাকিস্তান আজ জঙ্গিবাদের কারণে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুবই চৌকস। তারা জঙ্গি দমনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে সমাজের প্রতিটি মানুষকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, যারা আজ জঙ্গিবাদের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়ে নিয়েছে, তারা ভুল পথে হাঁটছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আইয়ের সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো গ্রামীণফোন আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলেন। সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সুজনের সম্পাদক বর্তমান সময়ের রাজনীতি ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, দেশে সুযোগের অভাবে হাজারো মানুষ কাজের খোঁজে পাড়ি জমিয়েছে উপসাগরীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে। সিঙ্গাপুরের দৈনিক স্ট্রেটস টাইমসের এক সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটির গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-বিষয়ক অ্যাসোসিয়েট এডিটর রাভি ভেল্লোর লিখেছেন—একজন বাংলাদেশির মধ্যে কী কী বিষয়ে উগ্রপন্থী চিন্তাভাবনা গড়ে তোলে। সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ওয়াহাবি প্রভাব রয়েছে নিশ্চিতভাবে। ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের উত্থান হচ্ছে। মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিষয়ে ভুল ধারণাও কাজ করছে। এর ফলে অনেকেই বিপথগামী হয়ে যাচ্ছে। এটা ঠেকানোর জন্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের দায়িত্বও অনেক। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন। জবাবে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সহিষ্ণুতার জন্য পরিচিত যেকোনো সমাজের মতো বাংলাদেশেও সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মবিশ্বাসের মধ্যে মৌলবাদ ও উগ্রপন্থী আদর্শের উত্থান প্রভাব ফেলেছে। মানুষের মধ্যে হতাশার পেছনে অবদান রেখেছে দারিদ্র্য। অন্যদিকে মিয়ানমারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রোহিঙ্গা মুসলিমরা বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যের কারণে অব্যাহতভাবে নাগরিকত্বহীনতার কষ্ট ভোগ করছে। এতে বাংলাদেশের অনেকে ক্ষুব্ধ, যাদের রোহিঙ্গাদের প্রতি মমতাবোধ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে জঙ্গিবাদ কখনো বিস্তার হতে পারবে না। কারণ আমাদের দেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। মানুষ কখনো বিশৃঙ্খলা বা জঙ্গিবাদের মতো পরিস্থিতি পছন্দ করে না।’ আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, ডেইলি স্টার সম্পাদক এখন অনেকগুলো মামলার আসামি। তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা কিভাবে দেখছেন? জবাবে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ মানহানির অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় করা মামলা প্রত্যাহার চেয়েছে সম্পাদক পরিষদ। বুধবার পরিষদের সভার পর সভাপতি গোলাম সারওয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। তিনি বলেন, সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের ‘সরবরাহ করা’ শেখ হাসিনার ‘দুর্নীতির খবর’ যাচাই না করে প্রকাশের ‘ভুল’ মাহফুজ আনাম স্বীকারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের করা এসব মামলার বেশির ভাগই মানহানির, কয়েকটিতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগও আনা হয়েছে। ৬৬টি মামলায় ৮২ হাজার ৬৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে বলে সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে তার নিন্দা জানানো হয়। এতে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। তিনি বলেন, এখন যেহেতু আদালতের বিষয়, তাই এ নিয়ে আমাদের কোনো কথা বলা ঠিক হবে না। এখন আইনিভাবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। আরেকটি কথা হলো কোনো কাজ করার আগে ভেবেচিন্তে করা উচিত, যাতে এই কাজের জন্য পরবর্তী সময়ে কোনো সমস্যা মোকাবিলা করতে না হয়।