কুড়িয়ে পাওয়া টাকা, চেক ফিরিয়ে দিলেন রিকশাচালক

সোমবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর রামকৃষ্ণ মিশন এলাকায় মানিব্যাগ, স্বাক্ষরিত চেক ও কিছু জরুরি কাগজপত্র পান আমজদ আলী।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের মোহাম্মদপুর থেকে ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় যাচ্ছিলেন তিনি। পথে ষোলঘর রামকৃষ্ণ মিশন এলাকায় মানিব্যাগটি রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে তুলে নেন।

“মানিব্যাগে ছিল নগদ ১৫ হাজার টাকা, ১ লাখ ২০ হাজার টাকার স্বাক্ষরিত চেক এবং কিছু কাগজপত্র। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞেস করে ওই মালামালের কোনো মালিক না পেয়ে বিষয়টি সুনামগঞ্জ রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুবিমল চক্রবর্তীকে জানাই।”

এদিকে ব্যবসায়ী অসীম রায় তার হারিয়ে যাওয়া মানিব্যাগের জন্য শহরে মাইকিং করছিলেন। খবর পেয়ে ফোনে অসীমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানান আমজাদ।

পরে রাত ৯টায় স্থানীয় একটি পত্রিকা অফিসে গিয়ে টাকা, চেক ও কাগজপত্র মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেন। খুশি হয়ে ব্যবসায়ী আসীম তাকে কিছু টাকা দিতে চাইলে আমজদ তা ফিরিয়ে দেন।

আমজদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ছোটবেলায় আমার বাবা বলেছিলেন, জীবনে যত কষ্টই করি না কেন, যেন অন্যের জিনিসে হাত না দিই। রিকশা চালিয়ে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কষ্ট করে জীবন চালালেও টাকা-পয়সার প্রতি আমার কোনো লোভ নেই।”

এর আগে গত বছর রমজান মাসেও ৫০ হাজার টাকা কুড়িয়ে পেয়ে মাইকিং করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেন তিনি।

শহরের মধ্যবাজার এলাকার ব্যবসায়ী অসীম রায় জানান, তিনি একটি জরুরি কাজে বনানীপাড়া গিয়েছিলেন। ফেরার পথে মানিব্যাগটি পকেট থেকে পড়ে যায়।

“আমি রিকশাচালক আমজদের সততায় মুগ্ধ হয়েছি। সমাজে এ রকম মানুষ আছে তাকে না দেখলে বুঝতে পারতাম না।”

শ্রমিকনেতা সুবিমল বলেন, “আগেও আমজদ আলী কুড়িয়ে পাওয়া ৫০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তার সততায় আমরা গর্বিত। আমরা তাকে সংবর্ধনা দেব।”