২ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকার আট প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পে (ওয়ামিপ) তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে নেদারল্যান্ডস সরকারের ২ কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১ কোটি ৭৩ লাখ ডলার (১৪০ কোটি টাকা) প্রত্যাহার করা হয়েছে, যার ফলে প্রকল্পটি সংশোধন করে গতকাল মঙ্গলবার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.হ.ম. মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিকল্পনা সচিব তরিকুল ইসলাম এবং তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, কোনো অনিয়মের জন্য নয়, বিশ্বব্যাংকের কথা মতো সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা প্রকল্পে এখান থেকে টাকা ব্যবহার করা হয়। যার কারণে নেদারল্যান্ডস সরকার তাদের সহায়তার টাকা প্রকল্প থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই টাকা তারা অন্য প্রকল্পে ব্যবহার করতে দেবে না। তৃতীয় সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১৬ কোটি টাকা।

একনেক সূত্রে জানা যায়, পানি সম্পদ খাতের প্রকল্পটি ২০০৪ সালে অনুমোদন দেয়া হয়। যা ২০১১ সালে শেষ করার কথা। কিন্তু সময় বাড়িয়ে এখনো চলছে।

এ বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি শেষ করা হবে বলে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, প্রকল্পতে বিশ্বব্যাংকও অর্থায়ন করেছে। সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষার জন্য যে প্রকল্প নেয়া হয় সেখানে বিশ্বব্যাংকও অর্থায়ন করছে। কিন্তু বাড়তি টাকার প্রয়োজন হলে বিশ্বব্যাংক তখন পানি ব্যবস্থাপনার টাকা ওই প্রকল্পে ব্যয় করার জন্য বলে। সিরাজগঞ্জের প্রকল্পের জন্য জরুরি ভিত্তিতে টাকার দরকার। এতে নেদারল্যান্ডস সরকার বিগড়ে বসে, অর্থ প্রত্যাহার করে নেয়।

গতকাল অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, ৭৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নরসিংদী বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ প্রকল্প, সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে এই অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।

সভায় মোবারকপুর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের নতুন সংশোধনী অনুমোদন দেয়া হয়। এতে নতুন করে ৮৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।

৭৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাঁচপীর বাজার চিলমারী উপজেলা সদর দপ্তরের সাথে সংযোগকারী সড়কে তিস্তা নদীর উপর ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া ৪২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে জাতীয় প্রাণী সম্পদ ও পোল্ট্রি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট এবং রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার স্থাপন প্রকল্প, ৪৫৭ কোটি ব্যয়ে আন্তঃজেলা সীমান্ত সড়ক নির্মাণ: ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা অংশ প্রকল্প, ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প, ৫৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভোলা জেলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মেঘনা নদীর ভাঙন হতে পোল্ডার/৫৬/৫৭ রক্ষা প্রকল্প।