সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি : লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৫৮ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আয় গত সাত মাসে

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চলতি আর্থিক বছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৫৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় বেশি হয়েছে। গত সাত মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৪৫ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮৭ কোটি টাকা। বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আর্থিক বছরে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কাস্টমস দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গত জানুয়ারি মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪১ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে। সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিউর রহমান টানু জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমস ও অন্য সংস্থার রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকায় গত জানুয়ারি মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ৬৬ কোটি ৮২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার টাকা।

স্থলবন্দরে দায়িত্বরত কাস্টমসের সহকারী কমিশনার ফখরুল আমিন চৌধুরী জানান, অন্য বন্দরেও সরকারের নিয়মনীতি মোতাবেক রাজস্ব আদায় করার ফলে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে কাস্টমস বিভাগ সরকারি বিধি-বিধান মোতাবেক রাজস্ব আদায় করে থাকে। তিনি আরো জানান, এ বন্দরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করে থাকে। ভারত থেকে যেসব ফল রপ্তানি হয় ওই সব ফলভর্তি গাড়িগুলো মালদহ হয়ে হিলি, বুড়িমারী ও ভোমরা বন্দরের দূরত্ব বেশি হওয়ায় ভারতের মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে সোনামসজিদ স্থল বন্দরে পণ্য বেশি আসছে। মালদহ থেকে বুড়িমারী বন্দরের দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটার, হিলিবন্দর ১৫০ কিলোমিটার ও ভোমরা বন্দর প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। কিন্তু সোনামসজিদ থেকে ভারতের মালদহের দূরত্ব মাত্র ১২ কিলোমিটার। মহদিপুর স্থলবন্দর ছাড়া অন্য বন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানি করলে ১০ গুণ বেশি পরিবহন ভাড়া দিতে হয়। কিন্তু মালদহ থেকে মহদিপুর বন্দর নিকটতম হওয়ায় পরিবহন ভাড়া অত্যন্ত কম। যে কারণে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে কাঁচা পণ্যভর্তি ট্রাক বেশি এসে থাকে। রাজস্বের সিংহভাগ এসে থাকে আমদানিকৃত ফল থেকে।

কাস্টমস কমিশনার আরো জানান, গত নভেম্বর মাসেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আয় হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। রাজস্ব আয় হয়েছিল ৭৮ কোটি ২৬ লাখ ২২ হাজার টাকা। ডিসেম্বর মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ৭১ কোটি ৩১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৮

হাজার টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪২ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আয় হয়েছিল।

বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বয় থাকলে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি বেশি হবে এবং রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব জানিয়েছেন।