বাংলাদেশ স্বপ্ন,, ফ্রেড পি. হকবার্গ

২০১৬ সালে আমার প্রথম আন্তর্জাতিক সফর হিসেবে চলতি সপ্তাহে আমি বাংলাদেশ ভ্রমণ করছি। কেন আমি বাংলাদেশকে বাছাই করলাম? বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এবং ভোক্তা চাহিদার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখানে প্রতিযোগিতা করতে চায়। বিশেষভাবে টেকসই ‘মেড-ইন-দ্য-ইউএসএ’ মানের গুণসম্পন্ন পণ্য এবং সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী অবকাঠামোগত বিনিয়োগ লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দেশটিকে সহায়তা করতে চায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্মিত উড়োজাহাজ, যন্ত্রপাতি, স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি নিয়ে আমরা গর্বিত। এই পণ্যগুলো সবচেয়ে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই হিসেবে বিশ্বব্যাপী বিবেচিত। যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট (এক্সিম) ব্যাংক দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন বাংলাদেশে প্রতিযোগিতা করতে পারে সে জন্য সহায়তা করবে। এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করতে বাংলাদেশ ভ্রমণকালে আমি অর্থনৈতিক, সরকারি এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব। উদাহরণ হিসেবে বিমান এয়ারলাইনসের চারটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ ক্রয় করতে ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংক ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলারেরও বেশি অর্থায়ন করেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিকাশের ফলে নিরাপদ, স্বল্পমূল্যের এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী আরো বেশি দূরপাল্লার উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। বিমানের নতুন বোয়িং জেটগুলো সেই প্রয়োজন মেটাবে। কিন্তু এটি ১০ হাজার মিটার দূরের দৃষ্টিভঙ্গি। এই নতুন বিমান বাংলাদেশিদের জন্য আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। বিমানের বহর আধুনিক ও বিস্তৃত করতে এক্সিম ব্যাংক ও বিমানের মধ্যে যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারি তারই অংশ হিসেবে এই বিমান কেনা। বিমান চলাচলে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির আক্ষরিক অর্থে উন্নতিতে সময়ের সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় আরো বিমানচালক, বিমানবালা ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তার প্রয়োজন হবে। প্রেসিডেন্ট ওবামার মেয়াদে এক্সিম ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ৬৫ কোটি ডলারের বেশি রপ্তানি করতে সহায়তা করেছে, আগের যেকোনো প্রশাসনের চেয়ে যা সবচেয়ে বেশি। ভবিষ্যতে আমি বিনিয়োগের আরো বেশি সুযোগ দেখছি। বাংলাদেশের সুযোগ হচ্ছে এখানকার ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি। আমরা জানি যে বাংলাদেশিরা আমেরিকান বিমান, ট্রেনের বগি এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি কিনতে চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ সরকার গুরুত্বপূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে বায়ু ও সৌরশক্তি প্রযুক্তি মূল প্রতিপাদ্য। যেহেতু বাংলাদেশ বড় বড় নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ করার কথা ভাবছে, আমরা এক্সিম ব্যাংক ওই প্রকল্পগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকে সে ব্যাপারে সহায়তা করব। আমাদের কাজ হচ্ছে বিদেশি বাজারে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো যেন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি গ্রাহকদের সঙ্গে অংশীদারির মাধ্যমে বড় ধরনের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। আমরা জানি, প্রতিযোগিতা অনেক কঠিন। আমি আত্মবিশ্বাসী এই প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়ন উচ্চমানের আমেরিকান পণ্য ও সেবা পাওয়ার প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে, যা এ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে। আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন এই প্রতিশ্রুতিশীল বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারে। আমি গর্বিত যে বাংলাদেশে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারে সে ব্যাপারে এক্সিম ব্যাংক সাহায্য অব্যাহত রাখবে। আমি বাংলাদেশের এবং দক্ষিণ এশিয়ার নতুন ও পুরনো বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী যেন একত্রে আমরা মধ্যবিত্তদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি এবং আমাদের সবার এই দায়িত্ববোধ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করতে পারি।