মেগা আট প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পদ্মা সেতু ও রেল

এম শাহজাহান ॥ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি সঞ্চালক মেগা আট প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়িতব্য এই আট প্রকল্প চলতি বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় মেগা আট প্রকল্পে নতুন যুক্ত হচ্ছেÑ পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প। বাকি প্রকল্পগুলো হচ্ছেÑপদ্মা সেতু প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্প, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প, মাতারবাড়ী বিদ্যুত প্রকল্প ও পায়রা সমুদ্র বন্দর। এসব প্রকল্পের মধ্যে সরকারের চলতি মেয়াদে পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ পুরোপুরি সম্পন্ন করতে তাগিদ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও ফাস্ট ট্রাক প্রজেক্টের সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে আজ মঙ্গলবার মনিটরিং টাস্ক ফোর্সের ৭ম সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এই সভায় মনিটরিং টাস্ক ফোর্সের সর্বশেষ সভার সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ, প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এবং পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প ফাস্ট ট্রাকভুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, সরকারী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও দ্রুত করতে গঠন করা হচ্ছে প্রজেক্ট প্রিপারেটরি ফান্ড এবং সংশোধন হচ্ছে ভূমিসংক্রান্ত আইনও। গত ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ফাস্ট ট্রাক প্রজেক্ট মনিটরিং টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। এবার দ্রুত ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজগুলো শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হবে। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট, কর্মসংস্থান এবং রূপকল্প ভিশন-২১ বাস্তবায়ন করতে হলে মেগা এই আট প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, প্রবৃদ্ধিতে গতি সঞ্চালক বৃহৎ আট প্রকল্পকে দ্রুত সময়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নজরদারিতে এনেছি। এর মধ্যে সরকারের চলতি মেয়াদেই পদ্মা সেতু এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের কাজ শেষ করা হবে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রতিবছর দশমিক ৫৬ শতাংশ হারে বাড়বে এবং অনগ্রসর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উন্নয়ন কর্মকা- ত্বরান্বিত হবে।

এদিকে, গত ষষ্ঠ সভার সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে কার্যপত্রে বলা হয়েছেÑ এলএনজিসংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ভূমি সংরক্ষণের বিষয়ে ভূমিসংক্রান্ত আইন জরুরী ভিত্তিতে সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দেয়া হয়েছে। পায়রা বন্দরের নাম পরিবর্তন করে পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর করতে হবে এবং ফিজিবিলিটি স্টাডি করে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে। ষষ্ঠ সভার এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলা হয়েছেÑ পায়রা বন্দরের নাম পরিবর্তনের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। এইচআর ওয়ালিংফোর্স নামের একটি ব্রিটিশ ফার্ম টেকনিক্যাল আর্থিক ফিজিবিলিটি স্টাডি করছে। সংস্থাটির রিপোর্ট পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মহেশখালি ও মাতারবাড়ি এলাকা প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত জমি মূল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ডিপিপি ও টিপিপি প্রণয়ন ও অনুমোদন পদ্ধতি সহজ এবং সময় কমানোর জন্য সরকারী খাতে উন্নয়ন প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন করা হচ্ছে। ফাস্ট ট্রাকভুক্ত প্রকল্পসমূহ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে মনিটরিং সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইএমইডি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ কার্যাদি দ্রুততর করার লক্ষ্যে ভূমি সচিবের সভাপতিত্বে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ফাস্ট ট্রাকভুক্ত প্রজেক্টগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে এবারের পর্যালোচনা বৈঠকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। পদ্মা সেতুর দ্রুত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ জোর দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধন হয়ে থাকবে। এটি বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন না করলেও জনগণের বিশ্বাসকে সম্মান দিয়ে সবার সহযোগিতায় এই সেতু বাস্তবায়িত হচ্ছে। দ্রুততার সঙ্গে সেতুর কাজ এগিয়ে চলছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন হবে। তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেতু এলাকায় সকল সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন সেনাবাহিনীর ক্যান্টমেন্ট স্থাপন করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। ভিশন-২১ সামনে রেখে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কিছু কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিনিয়োগ। এ জন্য অবকাঠামো উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুত উৎপাদনের অগ্রগতি সন্তোষজনক জানিয়ে তিনি বলেন, এখন বিনিয়োগকারীরা চাইলেই বিদ্যুত পাচ্ছেন। বিনিয়োগ আকর্ষণে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফাস্ট ট্রাকভুক্ত প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায় মেগা ৬টি প্রকল্প ফাস্ট ট্রাক প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। পরবর্তীতে যুক্ত করা হয় মাতারবাড়ী বিদ্যুত কেন্দ্র ও পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রকল্প। শুধু ঘোষণাই নয়, বাস্তবায়ন দ্রুত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি ফাস্ট ট্রাক মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। এর সভাপতি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই।