চতুর্থ শিল্প বিপ্লব : বাংলাদেশ কোথায়?

মোস্তাফা জব্বার

অনেকেই পড়ে থাকবেন খবরটা, দৈনিক প্রথম আলো গত ২৩ জানুয়ারি ১৬ খুব গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। দেশের অন্য মিডিয়াতেও এর প্রভাব পড়েছে। এই খবরের ওপর ভিত্তি করে একটি মিডিয়া থেকে আমার সাক্ষাৎকার নিতে এসে নানা প্রশ্ন তুলে ধরলো আমার সামনে। আমি ধারণা করি, যারা সচেতন তাদের অনেকেই এই খবরটি পড়ে নিজের মাঝেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। কেউ কেউ হয়তো বন্ধুবান্ধবকে প্রশ্ন করেছেন বা কেউ কেউ হয়তো গুগলে খুঁজেছেন এই খবরের পেছনের খবর পেতে।আসুন আগে খবরটির ভূমিকা পাঠ করি, ‘মানবসভ্যতার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তিনটি শিল্প বিপ্লব পাল্টে দিয়েছে সারা বিশ্বের গতিপথ। প্রথম শিল্প বিপ্লবটি হয়েছিল ১৭৮৪ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের মাধ্যমে। এরপর ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ ও ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেটের আবিষ্কার শিল্পবিপ্লবের গতিকে বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। তবে আগের তিনটি বিপ্লবকে ছাডড়য়ে যেতে পারে ডিজিটাল বিপ্লব। এ নিয়েই এখন সারা দুনিয়ায় তোলপাড চলছে। এটিকে এখন বলা হচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। ডিজিটাল বিপ্লবকে কেন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বলা হচ্ছে, সেটি নিয়ে আলোচনার জন্য সারা বিশ্বের রাজনৈতিক নেতা, বহুজাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ ও বিশ্লেষকেরা জড়ো হয়েছেন সুইজারল্যান্ডের শহর দাভোসে। সেখানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডবিস্নউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে আলোচনার অন্যতম বিষয় হচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবকে নিয়ে সেখানে এখন চলছে আলোচনা-সমালোচনা ও বিশ্লেষণ।খবরটি আমাকে কিছুটা অবাক করেছে। কারণ দুনিয়ার এতো বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী মানুষেরা এতোদিন পরে ডিজিটাল বিপ্লবের বিষয়টি টের পেলেন আর এটাকে আরও একটি শিল্প বিপ্লব হিসেবে চিহ্নিত করলেন কেন? মানব সভ্যতার ইতিহাস ব্যাখ্যা করতে এদের তো ভুল হবার কথা নয়। এর আগে অ্যালভিন টফলারের মতো মানুষেরা মানব সভ্যতার বিকাশে কৃষি যুগের পর একটি শিল্প বিপ্লবের কথাই বলেছেন। তারা ডিজিটাল বিপ্লবকে মানবসভ্যতার তৃতীয় বিপ্লব বলেছিলেন। আমি কেবলমাত্র বিদ্যুৎ একটি শিল্প বিপ্লব সংঘটিত করেছে সেটিও মনে করি না। বরং বাষ্পীয় ইঞ্জিন থেকে আজ পর্যন্ত মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করেই শিল্প বিপ্লব গড়ে ওঠেছে। ইন্টারনেট একটি শিল্প বিপ্লব সংঘটিত করেছে নাকি একটি সভ্যতার জন্ম দিয়েছে সেটিও আমাদেরকে স্থির করতে হবে।খবরে উল্লেখ রয়েছে যে, ‘ডবিস্নউইএফের’ প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান ক্লাউস শোয়াব চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে নিজের লেখা একটি প্রবন্ধে বলেছেন, ‘আমরা চাই বা না চাই, এত দিন পর্যন্ত আমাদের জীবনধারা, কাজকর্ম, চিন্তাচেতনা যেভাবে চলেছে সেটা বদলে যেতে শুরু করেছে। এখন আমরা এক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের ভিত্তির ওপর শুরু হওয়া ডিজিটাল এ বিপ্লবের ফলে সবকিছুর পরিবর্তন হচ্ছে গাণিতিক হারে, যা আগে কখনো হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিশ্বের প্রতিটি দেশের প্রতিটি খাতে এ পরিবর্তন প্রভাব ফেলছে, যার ফলে পাল্টে যাচ্ছে উৎপাদন প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনা, এমনকি রাষ্ট্র চালানোর প্রক্রিয়া। ডিজিটাল বিপ্লব কী, সে বিষয়টিরও বিশদ একটি ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন ক্লাউস শোয়াব। স্মার্টফোনের মাধ্যমে সারা বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিবর্তন, ইন্টারনেট অব থিংস, যন্ত্রপাতি পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, রোবোটিকস, জৈবপ্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো বিষয়গুলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সূচনা করেছে বলে তিনি মনে করেন। ডিজিটাল বিপ্লবের এই শক্তির চিত্রটি বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ডিজিটাল ডিভিডেন্ডস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন এক দিনে বিশ্বে ২০ হাজার ৭০০ কোটি ই-মেইল পাঠানো হয়, গুগলে ৪২০ কোটি বিভিন্ন বিষয় খোঁজা হয়। এক যুগ আগেও তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে এ পরিবর্তনগুলো ছিল অকল্পনীয়।ডিজিটাল বিপ্লব সম্পর্কে বহুজাতিক মোবাইল অপারেটর ডিজিসেলের চেয়ারম্যান ডেড়নস ও ব্রায়েন বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হিসেবে ডিজিটালাইজেশন আমাদের কাজের সব ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে বিশাল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, তবে এই পরিবর্তনকে আমি দেখি সূচনা হিসেবে। আগামী ১০ বছরে ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে আমরা এমন সব পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, যা এর আগে ৫০ বছরে সম্ভব হয়নি।’ চতুর্থ এই শিল্প বিপ্লব সারা বিশ্বের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কী প্রভাব ফেলবে, সেটি নিয়ে দুই ধরনের মত পাওয়া যাচ্ছে। একদল বিশেষজ্ঞ বলছেন, ‘এর ফলে সব মানুষেরই আয়ের পরিমাণ ও জীবনমান বাডবে। বিশ্বের পণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়াতেও ডিজিটাল প্রযুক্তি আনবে ব্যাপক পরিবর্তন। এক দেশ থেকে আরেক দেশে পণ্য পাঠানোর খরচ অনেক কমে আসবে, ইতিবাচক প্রভাব পডবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। তবে আরেক দল অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ডিজিটাল বিপ্লব বিশ্বের অসাম্য ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ পর্যায়ে নিয়ে যাবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে মানুষের দ্বারা সম্পন্ন অনেক কাজ রোবট ও যন্ত্রপাতি দিয়ে সম্পন্ন করা হবে, এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে তা সমস্যা তৈরি করবে। এ ছাডা শ্রমবাজারে অল্প কর্মদক্ষ শ্রমিকদের চাহিদা ও বাজার কমে যাবে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বেশি করে সমস্যায় ফেলবে। ডিজিটাল বিপ্লবের আরও একটি সমস্যা নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এর ফলে সারা বিশ্বে সম্পদ বৈষম্য আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বাড়বে বলে অনেকের আশঙ্কা। ডিজিটাল প্রযুক্তির আবিষ্কারক, বিনিয়োগকারী দেশগুলো এর থেকে যতটা লাভবান হবে, অন্য দেশগুলো সেটা থেকে বঞ্চিত হবে। বিষয়টিকে জয়ী পক্ষের সব ছিনিয়ে নেওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল বিপ্লবের প্রভাবও হবে ব্যাপক। ব্যতিক্রমী পণ্যসেবার পাশাপাশি নিয়ত পরিবর্তনশীল গ্রাহক চাহিদা পূরণে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তি ব্যবহারে সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সরকার পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণেও ডিজিটাল বিপ্লব আনবে বড পরিবর্তন। প্রযুক্তি বিপ্লব সরকারি সেবাকে একদিকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসবে, অন্যদিকে বিধ্বংসী মারণাস্ত্রের সহজলভ্যতা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ঝুঁকিও বাড়াবে। নিরাপত্তা ঝুঁকির এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবই যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করবে, সেই আশঙ্কাও করছেন বিশ্লেষকেরা।’ অর্থনীতি ফোরামের নেতারা নিজেদেরকে অনেক প-িত বিবেচনা করে এসব নিয়ে এখন আলোচনা করলেও দুনিয়ার বহু মানুষ এই সময়টিকে ডিজিটাল সভ্যতার সময় হিসেবে অনেক আগেই চিহ্নিত করেছেন। জাতিসংঘ একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের কথাও বলেছে। সম্মেলন-কর্মসূচি প্রতিদিনই ডিজিটাল বিপ্লবকে ঘিরেই প্রণীত হচ্ছে। আমি অবাক হই যে তারা এতোদিন ঘুমিয়ে ছিলেন কেন?অপ্রিয় হলেও সত্য যে, বাংলাদেশ বর্ণিত ও কথিত তিনটি শিল্প বিপ্লবের কোনটিতেই যথাসময়ে অংশ নিতে পারেনি। এই সেদিনও আমরা কৃষিনির্ভর একটি দেশ ছিলাম। কৃষিযুগের সমস্ত লক্ষ্মণ আমাদের সমাজে, অর্থনীতিতে, রাজনীতিতে তথা জীবনধারায় স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিলো। ১৯৬৪ সালে আমরা কম্পিউটারের যুগে পা দিলেও এর প্রয়োগ ছিলো খুবই সীমিত। ব্রিটিশ-পাকিস্তান তাদের ঔপনিবেশিক শাসনে কখনও আমাদের শিল্পযুগের উপযুক্ত হবার সুযোগই দেয়নি। বাংলাদেশের রূপান্তরের সময়টি শুরুই হয়েছে ১৯৭২ সালে। তার মাঝেও ৭৫ থেকে ৯১ সময়কালের সামরিক শাসন দেশটির সামনে চলার পথকে পেছনে ঠেলে দিয়েছে। ৯১ পরবর্তী সরকারও দেশের আর্থ সামাজিক রূপান্তর বিষয়ে দুরদৃষ্টি নিয়ে তেমন কিছু ভাবতে পারেনি। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরটি নিয়ে পদক্ষেপ নিতে থাকে। বলার অপেক্ষা রাখেনা ২০০১ থেকে ২০০৮ সময়কালে শেখ হাসিনার নেতৃত্ত্বের ধারাবাহিকতা বজায় না থাকায় ২০০৯ থেকে দেশটির সামনে যাওয়ার পথটা আবার সুগম হয়। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা করে এই অঞ্চলই নয় সারা দুনিয়াকে প্রথম একটি ডিজিটাল সভ্যতা গড়ে ওঠার আভাস প্রদান করেন। বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র, কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এই ঘোষণা কেবল দূরদৃষ্টিসম্পন্নই ছিল না, এটি ছিলো দুনিয়াকে চোখে আঙুল দিয়ে একটি নতুন সভ্যতার জন্মকে দেখিয়ে দেয়া। সবাই জানেন, বাংলাদেশের পর ব্রিটেন ও ভারত ডিজিটাল রূপান্তরের কর্মসূচি ঘোষণা করে। আমার নিজের কথা যদি বলি তবে ডিজিটাল রূপান্তরের চর্চাটি শুরু করি ১৯৮৭ সালে। গণনা যন্ত্র দিয়ে মুদ্রণ ও প্রকাশনাকে বদলে দিয়ে শিক্ষাকে ডিজিটাল করার সরাসরি উদ্যোগ গ্রহণ করি ১৯৯৯ সালে। ডিজিটাল সভ্যতার রূপরেখা প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ-এপ্রিল মাসে নানা মিডিয়াতে। তবে বড় সফলতা অর্জন করতে পারি শব্দটিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরে। যেহেতু শেখ হাসিনা সেই ঘোষণার পর সরকার গঠন করেন এবং নতুন প্রজন্ম অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে শেখ হাসিনার ঘোষণাকে স্বাগত জানায়, সেহেতু ডিজিটাল বাংলাদেশের চাকা সামনে যেতেই থাকে। হতে পারে, আমরা যে গতিতে যেসব খাতে যে ধরনের পরিবর্তন চেয়েছিলাম সেইসব পরিবর্তন আমরা করতে পারিনি। তবে এটি মানতেই হবে যে, ঘোষণার পর সাত বছর ধরে বাংলাদেশ তার প্রচলিত কৃষিভিত্তিক সমাজকে ডিজিটাল করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে।পুরো কাজটিতেই আমাদের অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে। একটি ঔপনিবেশিক কাঠামোর আমলাতন্ত্র, কৃষি সমাজের রাজনীতি ও পুজিবাদী ধারার গতানুগতিক অর্থনীতির চাপে পড়ে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাচ্ছি না। জনগণের মাঝে সচেতনতার অভাব এবং প্রথম শিল্প বিপ্লবের শিক্ষাব্যবস্থার ফলে সামনে যাওয়াটা ক্রমাগতই থমকে যায়।যদিও আমাদের প্রধানমন্ত্রী জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছেন এবং অর্থনীতিকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের কথা বলা হচ্ছে, তবুও কায়িক শ্রমকে মেধাশ্রম ও অ্যানালগ শিল্পকে মেধাশিল্পে রূপান্তরের চেষ্টা খুব ক্ষীণ। অনেক সময়েই অপ্রয়োজনে প্রকল্প গ্রহণ ও সেগুলো বাস্তবায়নের ঘটনাও ঘটছে। কখনও কখনও হুজুগ তোলা হচ্ছে এবং তাতে নতুন প্রজন্ম বিভ্রান্তও হচ্ছে। অন্যদিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের পাশাপাশি ডিজিটাল অপরাধও বাড়ছে। উপনিবেশিক আইনের আইনগুলো এসব অপরাদের জন্য উপযোগী নয়। ফলে নতুন আইন করতে হচ্ছে। মিডিয়ার রূপান্তরের জন্য নতুন আইন ও নতুন নীতিমালা করতে হচ্ছে।তবে এটি গর্ব করার মতো যে সারা দুনিয়া যখন ডিজিটাল বিপ্লবের কথা বলছে তখন আমরা সেটি থেকে বিচ্ছিন্ন নই। আমাদের প্রচুর চ্যালেঞ্জ রয়েছে এই রূপান্তরে। বিশেষ করে আমরা যদি আমাদের মানবসম্পদকে ডিজিটাল যুগের উপযোগী করে গড়ে তুলতে না পারি তবে আমাদের অবস্থান দুনিয়ার তলানিতে থাকবে। তবে আমাদের সুযোগটা হচ্ছে যে আামদের জনসংখ্যা নবীন এবং তারা আমাদের জন্য একটি বাড়তি সুবিধা দেবে। আমরা যেহেতু এখন আর পশ্চাৎপদ থাকতে চাই না সেহেতু আমাদের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। আমি নিজে মনে করি, মেধাসম্পদে সমৃদ্ধ হতে পারলে আমরা দুনিয়াতে পিছিয়ে পড়তে পারিনা। অন্যদিকে আমাদেরকে অনুভব করতে হবে যে, ব্যক্তিগত বৈষম্য থেকে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে বৈষম্যের ধারাটিও কার্লমার্ক্সের সংজ্ঞায় থাকবে না। রাষ্ট্রের সীমানা, সংজ্ঞা বা অস্তিত্ত্ব ডিজিটাল যুগে ভিন্নতর হবে এটি মাথায় রেখে এখনই সেই যুদ্ধে জয়ী হবার কৌশল নির্ধারণ করতে পারি। আমি আমার নিজের মতো করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশলগুলোর বিবরণ খুব সংক্ষেপে তুলে ধরছি।আমি মনে করি, ডিজিটাল বিপ্লবে বা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে সামিল থাকতে হলে আমাদের প্রধান কৌশল হলো তিনটি। এই কৌশলগুলো মানবসম্পদ উন্নয়ন, সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর এবং একটি ডিজিটাল জীবনধারা গড়ে তোলা ও বাংলাদেশকে জন্মের প্রতিজ্ঞায় গড়ে তোলা বিষয়ক। অ: ডিজিটাল রূপান্তর ও মানবসম্পদ আ: ডিজিটাল সরকার ই: ডিজিটাল জীবনধারা ও জন্মের ঠিকানায় রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা। প্রথম কৌশলটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজের উপযোগী ডিজিটাল দক্ষতাসম্পন্ন মানবসম্পদ সৃষ্টি নিয়ে। আমরা এজন্য শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। দ্বিতীয় কৌশলটি সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর বা একটি ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠা বিষয়ক। তৃতীয় কৌশলটি মূলত একটি ডিজিটাল সমাজ গড়ে তোলার স্বপ্ন। একই সাথে একটি ধর্মভিত্তিক জাতীয়তা ও সাম্প্রদায়িক চেতনার বিপরীতে একটি ভাষাভিত্তিক জাতি রাষ্ট্র গড়ে তোলার স্বপ্ন এটি। এই কৌশলটির একটি অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দেশের শিল্প-কলকারখানা ও অর্থনীতির রূপটাকে ডিজিটাল করা বা সামগ্রিকভাবে একটি ডিজিটাল অর্থর্নীতিও গড়ে তোলা।আমি বিশ্বাস করি অতীতের মতো বিপ্লব থেকে দূরে থাকার ভুলটা আমরা আর করব না।ঢাকা। ২৪ জানুয়ারি, ২০১৬।[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কিবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক] mustafajabbar@gmail.com
– See more at: http://www.thedailysangbad.com/sub-editorial/2016/01/26/46919#sthash.TmPuuU3C.dpuf