বিল সেচে বোরো আবাদের উদ্যোগ

যশোরের অভয়নগর উপজেলার জলাবদ্ধ বিল ঝিকরা থেকে ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচে বোরো আবাদের উদ্যোগ নিয়েছেন কৃষকেরা। তাঁরা আট দিন ধরে বিল থেকে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন।
বিল ঝিকরার কৃষকেরা বলেন, ভবদহ স্লুইসগেটের কারণে তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতায় বিলের নিচের দিকের প্রায় ১ হাজার ৫০০ বিঘা জমিতে তিন বছর ধরে ফসল হয় না। এবার রাজাপুর, হরিশপুর, আড়পাড়া, গোবিন্দপুর, বনগ্রাম, আমডাঙ্গা ও সুন্দলী গ্রামের এক হাজার কৃষক পানি সেচে আবাদের উদ্যোগ নিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন, ‘বিষয়টি শোনার পর দেখতে গিয়েছিলাম। এটা ভালো উদ্যোগ। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য করার সুযোগ থাকলে অবশ্যই করব।’
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ১৪টি ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন রাজাপুর খালের পাড়ে বসিয়ে বিলের পানি সেচে খালে ফেলা হচ্ছে। তিনটি শ্যালো মেশিন সাময়িক বন্ধ। পাশেই রাজাপুর গ্রামের ভোলানাথ মণ্ডল, কৃপা রায় ও হরি চাঁদ বিশ্বাস বিকল হয়ে যাওয়া একটি শ্যালো মেশিন মেরামত করছেন।
ওই তিনজন কৃষক বলেন, রাজাপুর খালের পাড় বেঁধে ২২ জানুয়ারি থেকে তাঁরা ১২টি ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে দিনরাত বিলের পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করেন। পরে আরও দুটি শ্যালো মেশিন কাজে লাগানো হয়। এ পর্যন্ত প্রায় দেড় ফুট পানি কমেছে। বিলে এখনো দুই থেকে আড়াই ফুট পানি রয়েছে। প্রথমে রাজাপুর গ্রামের কয়েকজন কৃষক চাঁদা তুলে ডিজেল কিনে পানি সেচ শুরু করেন। পরে ওই গ্রামের আরও ২০০ কৃষক এগিয়ে আসেন। পর্যায়ক্রমে আশপাশের গ্রামগুলোর কৃষকেরা পানি সেচের জন্য টাকা ও শ্যালো মেশিন নিয়ে এগিয়ে আসেন। পানি নিষ্কাশন করতে আরও ১০ থেকে ১২ দিন লাগতে পারে।
পানি নিষ্কাশনের অন্যতম উদ্যোক্তা দীপক রায় বলেন, ‘২১ জানুয়ারি রাজাপুর গ্রামের কৃষকেরা বৈঠকে বসে পানি নিষ্কাশনে জন্য করণীয় ঠিক করার জন্য সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মনোরঞ্জন রায়কে আহ্বায়ক ও রাজাপুর গ্রামের সুজিত বিশ্বাসকে সদস্যসচিব করে ১১ সদস্যের কমিটি করে। পরদিন থেকে সেচ শুরু হয়। আস্তে আস্তে অন্য গ্রামের কৃষকেরা এগিয়ে আসেন। তাঁরাও তেল কিনতে টাকা দিচ্ছেন। আমরা বিঘাপ্রতি ২০০ টাকা করে নিয়ে তেল কিনছি।’
রাজাপুর গ্রামের কৃষক নারায়ণ মল্লিক বলেন, ‘তিন বছর জমিতি ধান হোইনি। আমরা খুব কষ্টে আছি। এবার জমিতি ইরি (বোরো) ধান হবে বলে আশায় বুক বাঁধিছি।’
আড়পাড়া গ্রামের কৃষক মৃণাল রায় বলেন, ‘আমার দেড় বিঘা জমিতি মেলা দিন ফসল হয় না বলে চাল কিনে খাতি হয়। এবার ফসল হবে। চাল কিনা থেকে রক্ষা পাব।’
কমিটির সদস্যসচিব সুজিত বিশ্বাস বলেন, ‘তিন বছর বিলের প্রায় দেড় হাজার বিঘা জমিতে ফসল হয় না। আমরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এ উদ্যোগ নিয়েছি। এ বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করেছি। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি সাহায্য পাইনি