বেসরকারী বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা বাড়াচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট (পিএসডিএসপি) শীর্ষক প্রকল্পে সহজশর্তে আরও ১৩ কোটি মার্কিন ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় (৮০ টাকা প্রতি ডলার ধরে) প্রায় এক হাজার ৪০ কোটি টাকা দিচ্ছে সংস্থাটি। খসড়া ঋণচুক্তি ও প্রকল্প মূল্যায়ন দলিলের ওপর সরকারের অবস্থান চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এজন্য বুধবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায়। এতে সভাপতিত্ব করবেন সংস্থাটির সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্বব্যাংক ডেস্কের প্রধান কাজী শফিকুল আজম জনকণ্ঠকে বলেন, এক বছর আগেও এ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নযোগ্য উপ-প্রকল্পগুলোর অবস্থা ভাল ছিল না। পরবর্তীতে বাস্তবায়ন অবস্থার উন্নতি ঘটায় বিশ্বব্যাংক সহায়তা বাড়াতে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বেসরকারী খাত। বিশেষ করে কর্মসংস্থান তৈরিতে এই খাতের অবদান অনেক। আমরা চাচ্ছি পোশাক খাতের বাইরে অন্য শিল্পেরও বিকাশ ঘটুক। তাছাড়া সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যপূরণেও দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইআরডির কাজ হচ্ছে অর্থ সংগ্রহ করে দেয়া। তাছাড়া অর্থছাড়ে কোন সমস্যা দেখা দিলে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তা সমাধান করা। আর বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টটি একটি আমব্রেলার মতো। এর আওতায় চারটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এগুলো হলোÑ সাপোর্ট টু ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন, সাপোর্ট টু ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি, বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট এবং সাপোর্ট টু ডেভেলপমেন্ট কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক।

ইকোনমিক জোন, এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন ও হাইটেক পার্কসহ বিকাশমান শিল্প ও সেবা খাতে সরাসরি বেসরকারী বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাংক ও ডিএফআইডির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ২০১১ সালে এ আমব্রেলা প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এটি বাস্তবায়নে ২০১১ সালের ২২ মে বিশ্বব্যাংক ১২ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ প্রদান করে। পরবর্তীতে একই বছরের ৮ জুলাই ১ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলারের একটি অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত সাড়ে চার বছরে এ প্রকল্পের আওতায় ইকোনমিক জোন, আইটি পার্ক, হাইটেক পার্ক স্থাপন এবং এতে সংযোগ সড়ক, রেল যোগাযোগ, গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগ, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ইত্যাদি কার্যক্রম করার পাশাপাশি শিল্পকারখানাও স্থাপন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত রয়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পগুলোর বাকি কাজ শেষ করতে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। অতিরক্তি অর্থায়নের মাধ্যমে যেসব কাজ করা হবে সেগুলো শেষ করতে প্রয়োজন ১৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ১৩ কোটি মার্কিন ডলার আর বাকি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার সরকার কাউন্টার পার্ট হিসেবে ফান্ড দেবে বলে জানা গেছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস সূত্র জানায়, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি বা তার কাছাকাছি কোন সময়ে আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত অর্থায়নের বিষয়ে নেগোসিয়েশন অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে কাজী শফিকুল আজম বলেন, নেগোসিয়েশনের পরই চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। খুব বেশিদিন সময় লাগবে না। তিনি জানান, আমব্রেলা প্রকল্পের আওতায় উপ-প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেÑ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ইকোনমিক জোনস অথরিটি, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি এবং হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বব্যাংকের দেয়া এ অতিরিক্ত ঋণ ছয় বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরে পরিশোধ করতে হবে। তাছাড়া উত্তোলিত অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হবে। সেই সঙ্গে কমিটমেন্ট ফি হিসেবে দশমিক ৫ শতাংশ হারে অর্থ নেয়ার কথা রয়েছে। তবে পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে এই কমিটমেন্ট ফি দেয়া নাও লাগতে পারে। কেননা বিশ্বব্যাংক বর্তমানে কমিটমেন্ট ফি নিচ্ছে না।