ভারত-ভুটানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসারের নানা উদ্যোগ

যৌথ ইশতেহার ও উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য কাঠামোগত চুক্তির আওতায় উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে সরকার। এবার মোট ১২টি ইস্যু নিয়ে শুরু হয়েছে তৎপরতা। এরমধ্যে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রদানের বিপরীতে মাসুল ধার্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম উন্নয়নে। এলক্ষ্যে আগামী ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক এক সভার আয়োজন করা হয়েছে। ওই সভায় এ পর্যন্ত বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের মধ্যে সম্পাদিত সহযোগিতা চুক্তি ও যৌথ ইশতেহারের কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর থেকে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। এ খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জানা গেছে, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় ভারতের সঙ্গে করা মোটরভেহিক্যাল এ্যাগ্রিমেন্টের অগ্রগতি, চট্টগ্রাম ও মংলা পোর্টের সক্ষমতা বাড়ানো, কাস্টমস সুবিধা, গোয়াহাটি-শিলং-সিলেট-ঢাকা বাস সার্ভিস চালুকরণ, চট্টগ্রাম-আখাউড়া-আগরতলা পর্যন্ত ট্রান্সপোর্ট সুবিধা এবং বিপরীতে মাসুল ধার্য কত হবে, বাংলাদেশ-শিলিগুড়ি-ভুটান বাস সার্ভিস চালুকরণ, রংপুর-দিনাজপুর-বুড়িমারী-দার্জিলিং-ভুটানের মধ্যে সরাসরি বাস সার্ভিস চালুকরণ, রাজশাহী-মালদা বাস সার্ভিস চালু এবং খুলনা-কলকাতা রেলওয়ে সার্ভিস চালুকরণের বিষয়টি রয়েছে।
একই সঙ্গে ট্রানজিট, ট্রান্সশিপমেন্ট, বিমসটেক, বিসিআইএমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে ফের তৎপরতা বাড়ানোর পদক্ষেপের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বলে জানা গেছে। উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রফতানি বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ভারতের সেভেন সিস্টারসহ দেশটির অন্যান্য প্রদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা সেল বিষয়গুলোর অগ্রগতি জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছে। ইতোমধ্যে বাণিজ্য, অর্থ, নৌ, পানি, সড়ক, রেলসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিদ্যমান কার্যক্রম ও সম্ভাবনা তুলে ধরে জবাবও পাঠাতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, আঞ্চলিক সম্পর্ক বাড়াতে প্রথমেই ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে জোর দিয়েছে সরকার। বর্তমানে ঢাকা-কলকাতা ও ঢাকা-আগরতলা রুটে বাস সার্ভিস রয়েছে। আর রেলপথে যোগাযোগ বাড়াতে নির্মাণ করা হচ্ছে আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন। এছাড়া বর্তমানে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করছে।
এছাড়া জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নুমালিগড়-শিলিগুড়ি ১১০ কিলোমিটার ডিজেল পাইপলাইনের রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে তা আনা-নেয়া হয় নদী, সড়ক ও রেলপথে। এ ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানি দেশের জন্য কতটা লাভজনক, তা বিবেচনায় আনতে সমীক্ষা প্রণয়নের কাজ চলছে। ডিজেল পাইপলাইনটি স্থাপনে ভারত আগ্রহ দেখায় এবং নির্মাণ ব্যয় বহন করতে প্রস্তাব দিয়েছিল।
সম্প্রতি এক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দেশে নতুন নতুন ক্ষেত্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে আগামী বছরের মধ্যে ভারত থেকে আরও বেশি পরিমাণে বিদ্যুত আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া নেপাল ও ভুটানে পানিবিদ্যুতের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এর সুফল পাওয়ারও চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত উৎপাদনের বিষয়ে কথা হচ্ছে। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
জানা গেছে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় ডিউটি ফ্রি বর্ডার হাট চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রস্তাবিত বর্ডার হাট রয়েছে ২২টি। এরমধ্যে কয়েকটি চালু আছে। অবশিষ্ট ১৮টি হাট নির্মাণে উদ্যোগ-পদক্ষেপ নিতে এনবিআর, স্বরাষ্ট্র ও নৌ-মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।