বিজ্ঞান শিক্ষায় সমতা

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো বলেছে, বিজ্ঞান শিক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীরা সমতা অর্জন করেছে। তবে নারীরা পিছিয়ে আছে প্রকৌশল গবেষণায়। কৃষি ও চিকিত্সায় স্নাতকোত্তর শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্বজুড়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও এ দুই ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ পিছিয়ে। ইউনেস্কো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী-পুরুষের সমতা একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক ধারণা। গবেষকদের ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব থাকলে সমতা অর্জিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে সমতা অর্জন করলেও প্রকৌশল গবেষণায় এ দেশের নারীরা পিছিয়ে। বাংলাদেশের মোট গবেষকের ১৭ শতাংশ নারী। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে ২০১২ সালের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষায় বিজ্ঞানে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ, প্রকৌশলে ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ, কৃষিতে ৩১ দশমিক ১ শতাংশ এবং চিকিত্সা ও সেবায় ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ নারী। কৃষি, চিকিত্সা ও সেবার ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও কৃষিক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশের কিছু বেশি। বিজ্ঞান শিক্ষায় বাংলাদেশের নারীদের সমতা অর্জন নিঃসন্দেহে এক বড় অগ্রগতি। নারীর ক্ষমতায়ন এবং মর্যাদা বৃদ্ধিতে এ সমতা তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়। বিজ্ঞান শিক্ষা কুসংস্কার দূরীকরণে ভূমিকা রাখে। সমাজ প্রগতির পথও দেখায়। বাংলাদেশে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতি বিশ্বের কাছে নজির হিসেবে উপস্থাপনের মতো। ১৯৯১ থেকে গত ২৫ বছরে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতার পদটি নারীর হাতে। এ মুহূর্তে জাতীয় সংসদের উপনেতা এবং স্পিকারের পদটিও নারীর হাতে। একাধিক মন্ত্রীর পদেও রয়েছেন নারী। দেশের অর্থনীতিতেও নারীর বিশেষ ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানকারী গার্মেন্টশিল্প টিকে আছে নারী শ্রমিকদের ওপর ভর করে। এই অগ্রগতি সত্ত্বেও দেশের নারীরা এখনো বহু ক্ষেত্রে উপেক্ষার শিকার। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতা বহু ক্ষেত্রে সীমিত। এ ক্ষেত্রে সমতা আনতে হলে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। বিজ্ঞান শিক্ষায় নারীদের সমতা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।