তিন মাসে পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে

গত তিন মাসে পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে। অর্থাৎ বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এ সময়ে শেয়ার বিক্রির তুলনায় কিনেছে বেশি। চীনের পুঁজিবাজারসহ বিশ্বের অন্যান্য স্থানে নানা অস্থিরতা থাকায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের দিকে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বেশি ঝুঁকেছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দেশের পুজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
ডিএসইর থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছরের প্রথম ৭ মাসের মধ্যে ৫ মাসই বিদেশীরা যে পরিমাণ শেয়ার কিনেছিলেন, বিক্রি করেছিলেন তার থেকে বেশি। তবে বছরের শেষ তিন মাসেই বিক্রির তুলনায় অধিক শেয়ার কিনেছেন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা। এ সময় বিক্রির তুলনায় ১০৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার বেশি কিনেছেন তারা।
জানা গেছে, গত ২০১৫ সালের মার্চ, এপ্রিল, মে, আগস্ট ও অক্টোবর এই ৫ মাসেই বিদেশীরা ক্রয়ের তুলনায় বেশি শেয়ার বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে শেষ তিন মাসে শেয়ার ক্রয় করেছেন বেশি। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসে শেয়ার ক্রয়ের পরিমাণ ছিল সব থেকে বেশি। মাসটিতে বিদেশীরা ৩৮৬ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয় করেন। এর বিপরীতে বিক্রয় করেন ৩০৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার। অর্থাৎ মাসটিতে বিক্রয়ের তুলনায় ক্রয় বেশি হয় ৭৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আগের মাস নবেম্বরে বিদেশীরা শেয়ার ক্রয় করেন ৩৩২ কোটি ২৪ লাখ টাকার। এর বিপরীতে বিক্রি ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ টাকার। অর্থাৎ বিক্রির তুলনায় ক্রয় বেশি ২২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আর অক্টোবরে শেয়ার ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ৩৩২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর বিপরীতে বিক্রয় দাঁড়ায় ৩৩০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ বিক্রির তুলনায় ক্রয় বেশি ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
এর আগে বছরের (২০১৪) শুরুতেও পুঁজিবাজারে বিদেশীদের বিনিয়োগ বেশ ইতিবাচক ছিল। বছরের প্রথম মাসেই অর্থাৎ জানুয়ারিতে বিদেশীরা শেয়ার বিক্রির তুলনায় ক্রয় বেশি করেন ২২৮ কোটি ২০ লাখ টাকার। মাসটিতে ৩৬৫ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৩৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। পরের মাস ফেব্রুয়ারিতে ২৫০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ক্রয়ের বিপরীতে বিক্রয় ছিল ২১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসটিতে ক্রয়ের পরিমাণ বেশি হয় ৩১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
এরপরই টানা বিক্রির চাপ বাড়ান বিদেশীরা। মার্চে বিদেশিরা ৩১৯ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে বিক্রয় করেন ৩৫১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসটিতে ক্রয়ের তুলনায় ৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার বেশি বিক্রি করা হয়। এরপর এপ্রিলে বিক্রির পরিমাণ বেশি ছিল ৬৭ কোটি ১ লাখ টাকা। মাসটিতে ২৬৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে বিক্রয় করা হয় ৩৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকার। আর মে মাসে বিদেশীরা শেয়ার ক্রয় করেন ২২৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকার। এর বিপরীতে বিক্রয় করেন ৩১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ বিক্রির পরিমাণ বেশি ৮৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা।